অর্থ আত্মসাৎ, চেক জালিয়াতি ও প্রতারণার মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি চাঁদপুর বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) মাঠ সংগঠক মো. ইকবাল বাহারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ইকবাল বাহারের বিরুদ্ধে প্রতারণা মামলা দায়রা নং-২৬/২৫, ডি.সি.আর নং-১৯২/২৪ এবং প্রসেস নং-৭৭/২৫সহ একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে থাকা চাঁদপুরের দুটি সি আর ৭০৯/২৫ ও সি আর ৭১০/২৫ এর মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরবর্তীতে আদালত তাকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন।
শনিবার (২২ আগস্ট) রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে চাঁদপুর সদর উপজেলার মৈশাদী ইউনিয়নে গিয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহের সময় তাকে আটক করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
চাঁদপুর সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ফয়েজ আহমেদ জানান, একাধিক অর্থ প্রতারণার মামলায় আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে এসআই সুমন কুমার দাস ইকবাল বাহারকে গ্রেপ্তার করেন। পরদিন (২৩ আগস্ট) তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, ইকবাল বাহারের নিজ জেলা ফেনীতেও প্রতারণাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। সেখানে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কয়েকজনের কাছ থেকে প্রায় ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় তাদের কাছ থেকেও চেক নেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। ফেনীর মামলায়ও তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এদিকে চাঁদপুর জেলা বিআরডিবির সাবেক উপপরিচালক (বর্তমানে কুমিল্লায় কর্মরত) কামাল উদ্দিনের দাবি, ইকবাল বাহার চাঁদপুরে মাঠ সংগঠক হিসেবে কর্মরত থাকাকালে মাঠপর্যায় থেকে সংগৃহীত প্রায় ৪৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় বিআরডিবির পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হলে তদন্তে তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগসহ আরও বিভিন্ন অনিয়মের বিষয় উঠে আসে বলে তিনি জানান।
বিআরডিবি সূত্রে জানা যায়, ইকবাল বাহারের বিরুদ্ধে তদন্ত চলাকালে তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত বক্তব্য দেন। সেখানে মাঠপর্যায় থেকে বিভিন্ন সময়ে প্রায় ৪৩ লাখ টাকা নেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে পরবর্তীতে ওই অর্থ পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেন বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ রয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে কোভিড-১৯ প্রণোদনাসহ বিভিন্ন খাতে মোট প্রায় ৪৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়।
নথি অনুযায়ী, ইকবাল বাহার তার বেতন-ভাতা থেকে ওই অর্থ পরিশোধের কথা জানিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অফিসের ব্যাংক হিসাবে টাকা জমা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন। তবে তার দেওয়া জবাব গ্রহণযোগ্য নয় বলে চাঁদপুর সদর উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসারের কার্যালয় থেকে তাকে জানানো হয় এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার কথা উল্লেখ করা হয়। পরবর্তীতে এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে চাঁদপুর থেকে ময়মনসিংহ জেলায় বদলি করা হয় বলে বিআরডিবি সূত্রে জানা গেছে। তবে তিনি বদলির কর্মস্থলে যোগ না দিয়ে চাঁদপুরেই অবস্থান করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি ডিসেম্বর ২০২৪ ও জানুয়ারি ২০২৫ মাসের হাজিরা খাতায় অনিয়মতান্ত্রিকভাবে স্বাক্ষর করার অভিযোগও ওঠে। এ ঘটনায় চাঁদপুর সদর মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। জিডি নম্বর-৩৭৯, তারিখ ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫।
এদিকে ইকবাল বাহারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পর তিনি তার সাবেক অফিস সহকর্মী আব্দুল গনি ও তার স্ত্রী আফরোজা বেগমের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে মিডিয়ায় বিভিন্ন তথ্য প্রচার এবং আদালতে মামলা করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা ও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি।
পুলিশ ও বিআরডিবি সূত্র জানিয়েছে, ইকবাল বাহারের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোতে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে আদালতের বিচারিক সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

নিজস্ব প্রতিনিধি