প্রকাশের সময়: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ৮:৩৫ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

কচুয়ায় প্রবাসীর বিরুদ্ধে স্ত্রীকে নির্যাতন ও সন্তানদের ভরণপোষণ না দেওয়ায় ঝাড়ু মিছিল

ইসমাইল হোসেন বিপ্লব, কচুয়া

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার উত্তর ইউনিয়নের বরুচর গ্রামে কুয়েত প্রবাসী আবু মুসার বিরুদ্ধে স্ত্রী মাহমুদা বেগমকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন, স্ত্রী-সন্তানদের ভরণপোষণ না দেওয়া এবং একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগে ঝাড়ু মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বরুচর গ্রামে আবু মুসার বাড়ির সামনের সড়কে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে আবু মুসার স্ত্রী মাহমুদা বেগম, সন্তান, স্বজন ও স্থানীয় গ্রামবাসী অংশ নেন।

বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন আবু মুসার চাচা আবুল খায়ের, হারুনুর রশিদ, কেফায়েত উল্লাহ, চাচাতো ভাই ইসহাক, তার মেয়ে মনিরা বেগম এবং স্ত্রী মাহমুদা বেগমসহ অন্যরা।

বক্তারা জানান, প্রায় ২০ বছর আগে একই বাড়ির নজরুল ইসলামের মেয়ের সঙ্গে দুই পরিবারের সম্মতিতে আবু মুসার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে মনিরা (১৮), মাকসুদা (১৪) ও মাহমুদুল হাসান (১০) নামে দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। বিয়ের পর কয়েক বছর তাদের দাম্পত্য জীবন ভালোভাবে চললেও পরবর্তীতে নানা বিষয়ে পারিবারিক বিরোধের সৃষ্টি হয় বলে দাবি করেন তারা।

মাহমুদা বেগম ও তার স্বজনদের অভিযোগ, আবু মুসা একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে কুমিল্লা, ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে পারিবারিক ও স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন। তবে এসব বৈঠকের পরও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।

তাদের আরও অভিযোগ, দীর্ঘদিন বিদেশে থাকার পর আবু মুসা দেশে ফিরলেও স্ত্রী-সন্তানদের নিয়মিত খোঁজখবর নেন না এবং সংসারের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেন না। বরং বিভিন্নভাবে মাহমুদা বেগমকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

মাহমুদা বেগমের অভিযোগ, তার স্বামী আবু মুসা এবং তার ভাই আল-আমিন বিভিন্ন সময় তাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে হয়রানি ও নির্যাতন করেছেন।

তিনি দাবি করেন, গত শুক্রবার আল-আমিন তার ঘরে প্রবেশ করে মূল্যবান মালামাল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় মাহমুদা ও তার সন্তানদের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। তাদের ডাক-চিৎকার শুনে বাড়ির লোকজন এগিয়ে এলে আল-আমিন ঘর থেকে বের হয়ে যান বলে দাবি করেন মাহমুদা।

এ ঘটনার পর তিনি ও তার সন্তানরা আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান।

বিক্ষোভ সমাবেশে মাহমুদা বেগম আরও অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ১৩ অক্টোবর কচুয়া টমা হাসপাতালে তার একটি কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। সন্তান জন্মের পর তিনি অচেতন থাকা অবস্থায় তার স্বামী আবু মুসা ও তার ভাই আল-আমিন ওই সন্তানকে আবু মুসার ইতালি প্রবাসী ভাই ইয়াকুবের কাছে টাকার বিনিময়ে দিয়ে দেন বলে দাবি করেন তিনি।

মাহমুদা বেগমের ভাষ্য, বিষয়টি জানতে পেরে তিনি প্রতিবাদ করলে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। সংসারে থাকতে হলে এ বিষয়ে আর কথা না বলার জন্যও তাকে চাপ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আবু মুসার মেয়ে মনিরা বেগম বলেন, বাবার পারিবারিক কর্মকাণ্ডের কারণে তাদের পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে অশান্তি চলছে। তিনি, তার বোন মাকসুদা ও ছোট ভাই মাহমুদুল হাসান বাবার স্নেহ-মায়া-মমতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে দাবি করেন।

মনিরা বলেন, তারা ভাই-বোন মা-বাবার সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে সংসার করতে চান এবং দীর্ঘদিনের বিরোধের স্থায়ী সমাধান চান। পরিবারের সদস্যরা নিরাপদে বসবাস করতে পারবেন এবং তাদের বাবা স্ত্রী-সন্তানদের দায়িত্ব নিয়ে সংসারে ফিরে আসবেন—এটাই তাদের প্রত্যাশা।

বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা মাহমুদা বেগম ও তার সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানে স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এলাকাবাসী অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানান। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মাহমুদা বেগম ও তার সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আবু মুসা ও তার পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন