গত এক সপ্তাহে পুলিশের ধারাবাহিক বিশেষ অভিযানে পরোয়ানাভুক্ত, মাদক ও জুয়া মামলাসহ বিভিন্ন ঘটনায় মোট ২৩ জন অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে।
এ সময় রাতের বেলায় ঘোরাফেরার কারণে ৯ শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হলেও পরে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের প্রেস রিলিজ অনুযায়ী, ৮ সেপ্টেম্বর জিআর পরোয়ানাভুক্ত মোঃ মাসুদ আলম (৩৫), মোঃ হাসান (৫৫), মাদক মামলার পলাতক অভিযুক্ত মোঃ সোহাগ (২৪) এবং চুরি মামলার সন্দেহভাজন নাজমুল হাসান (২৪)সহ ৪ জনকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
৭ সেপ্টেম্বর বিশেষ অভিযানে জিআর পরোয়ানাভুক্ত ৬ জন, সিআর পরোয়ানাভুক্ত ১ জন এবং মাদক মামলা সংক্রান্ত ২ জনসহ মোট ৯ জনকে আদালতে পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে জিআর-১১৪/২৫ মামলায় পিতা ও ঠিকানা অনুযায়ী শাহরাস্তি উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামের পালের বাড়ির মোঃ আবদুল আজিজ, বাবুল হোসেন ও মোঃ হুমায়ুন কবির ওরফে দুলাল এবং জিআর-১৮২/২৬ মামলায় শাহরাস্তির শেংগাঁও এলাকার মোঃ মিশন (২০), আরাফাত হোসেন (২৩) ও মোবারক হোসেন রয়েছেন। প্রেস রিলিজে বাকি ৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়নি।
৬ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন অভিযানে সিআর পরোয়ানাভুক্ত পিতা মোঃ ওমর আলীর ছেলে মোঃ মোশারফ হোসেন সুজনকে আটক করা হয়। একই দিন জিআর পরোয়ানায় পিতা মৃত আলমগীর হোসেনের ছেলে আমান উল্লাহকে আটক করে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। এছাড়া শাহরাস্তি পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের সাহেব বাজার-ঠাকুর বাজার সড়কে ২৫০ গ্রাম গাঁজাসহ পিতা মৃত নেপাল চন্দ্র পালের ছেলে তাপস পালকে (৩২) আটক করা হয়।
৫ সেপ্টেম্বরের প্রেস রিলিজ অনুযায়ী, ৪ সেপ্টেম্বর টামটা উত্তর ইউনিয়নের গুলপাড়া বাজারে ৫০ গ্রাম গাঁজাসহ পিতা বাচ্চু মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ সামিমকে (৩৫) আটক করে আদালতে পাঠানো হয়।
৪ সেপ্টেম্বর হোসেনপুর বাজারে ৩টি ইয়াবাসহ পিতা খুরশিদ আলমের ছেলে আউয়াল হোসেনকে (৩০) আটক করা হয়।
৩ সেপ্টেম্বর পৃথক অভিযানে ৭টি ইয়াবাসহ পিতা মৃত আবু তাহেরের ছেলে মেহেদী হাসান (২৬), ৩০টি ইয়াবাসহ পিতা মৃত আবুল হাসেমের ছেলে মোঃ রোবিউল ইসলাম (৩২) এবং ৫টি ইয়াবাসহ পিতা মৃত মোঃ খোকনের ছেলে মোঃ সামিম হোসেনকে (১৯) আটক করা হয়। একই দিন ২ সেপ্টেম্বরের ঘটনায় শাহরাস্তি পৌরসভার ঠাকুর বাজারে সাইবার অ্যাপের মাধ্যমে জুয়া খেলার অভিযোগে আবু বকর সিদ্দিকী (৪০) ও মোঃ আকিদকে (৩০) আটক করা হয়।
শিক্ষার্থীদের বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য: ২ সেপ্টেম্বর রাতে শাহরাস্তির টামটা ইউপির যুগীবাড়ি ব্রিজ এলাকায় রাতের বেলায় ঘোরাফেরার কারণে ফাহিম (১৫), তৌহিদুল ইসলাম (১৬) ও ইয়াসিন আরাফাত (১৬)কে আটক করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে সন্তোষজনক কারণ না পাওয়ায় তাদের অভিভাবকদের খবর দেওয়া হয়। পুলিশি রেকর্ডে তাদের বিরুদ্ধে বিরূপ তথ্য না থাকায় এবং ভবিষ্যতে রাতে অযথা ঘোরাফেরা না করার বিষয়ে অভিভাবকদের আশ্বাসের পর তাদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
৬ সেপ্টেম্বর রাতে টামটা উত্তর ইউনিয়নের বলশিদ এলাকায় একই ধরনের ঘটনায় রাকিব হোসেন, তামিম হোসেন রোহান, মোঃ হাসান, বাদশা ফাহাদ শুভ, হৃদয় চন্দ্র দাস ও শাহরিয়া হোসেন মিজানকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে অভিভাবকদের উপস্থিতিতে তাদেরও ছেড়ে দেওয়া হয়।
শাহরাস্তি থানারঅফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমানের নির্দেশনায় থানার বিভিন্ন কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্য এসব অভিযান পরিচালনা করেন।
পুলিশ জানায়, মাদক উদ্ধারের ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় এবং জুয়া খেলার ঘটনায় জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা হয়েছে। পরোয়ানাভুক্তদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিনিধি