শাহরাস্তিতে গত পাঁচ দিনে থানা পুলিশের পৃথক বিশেষ অভিযানে মাদক, পরোয়ানা ও বিভিন্ন মামলায় মোট ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে।
এ সময় তাদের কাছ থেকে ১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ২০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত, পরোয়ানাভুক্ত ও বিভিন্ন মামলার অভিযুক্ত রয়েছেন।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) পুলিশ পৃথক মামলায় ছয় অভিযুক্তকে যথাযথ পুলিশ পাহারায় বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করে। এদের মধ্যে মাদক সংশ্লিষ্ট মোবাইল কোর্টে এক মাসের দণ্ডপ্রাপ্ত একজন, চুরি মামলার একজন, নিয়মিত মামলার একজন এবং সাজা পরোয়ানাভুক্ত তিনজন রয়েছেন।
সাজা পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে শাহরাস্তি উপজেলার পাথৈর ইউনিয়নের খিলা বাজার এলাকার ছলিমদ্দিন বেপারী বাড়ির নুর মিয়ার ছেলে আলমগীর হোসেনকে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থানার সিআর-৬৪৫/২৫ মামলার পরোয়ানায় আটক করা হয়।
এছাড়া শাহরাস্তির বোগড়া দক্ষিণপাড়ার আবুল কাদেরের বাড়ির ইস্রাফিলের ছেলে মোঃ জহির হোসেন এবং কাজির কাপ এলাকার ফলোয়ান বাড়ির আমিনুল হকের ছেলে আলাউদ্দিনকে যথাক্রমে জিআর-১৪৫/২১ ও জিআর-৫৩/২৩ মামলার পরোয়ানায় আটক করা হয়। এর আগে ১২ সেপ্টেম্বর রাতে চিতোষী পূর্ব ইউনিয়নে মাদক সেবনের দায়ে **কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার ঘরুয়া এলাকার মিজানুর রহমানের ছেলে মোঃ সাকিব (২২)কে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
১০ সেপ্টেম্বর রাতে টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের ওয়ারুক রহমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন সেতুর ওপর থেকে অযাচিত ও উদ্দেশ্যমূলকভাবে ঘোরাফেরার অভিযোগে পাঁচ কিশোরকে আটক করা হয়। তারা হলো তামিম, সায়েম পাটোয়ারী, মোঃ হোসেন প্রকাশ বিজয়, মোঃ তানভীর হোসেন নাসের। পরে অভিভাবকদের জিম্মায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
একই দিন রায়শ্রী উত্তর ইউপির বোগড়া গ্রামের বোগড়া জামে মসজিদের সামনে অভিযান চালিয়ে বোগড়া তালুকদার বাড়ির ইসরাফিলের ছেলে মোঃ রাসেল হোসেন (২৫)কে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে পাঁচ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।৯ সেপ্টেম্বর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নিজ মেহের এলাকায় আমানিয়া বাড়ির সামনে অভিযান চালিয়ে নিজ মেহের চেরাগ আলী মিজি বাড়ির মনছুর আলীর ছেলে জয়নাল আবেদীন সাগর (২৩)কে আটক করা হয়। তার কাছ থেকেও পাঁচ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
৮ সেপ্টেম্বর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কালিয়াপাড়া বাজারের পশ্চিম পাশে কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে অভিযান চালিয়ে পূর্ব সুয়াপাড়া আনার বাড়ির মৃত হারুন অর রশিদের ছেলে ইয়াছিন মিয়া (৬০)কে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে ২০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, মাদক ও বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পরোয়ানাভুক্ত ও বিভিন্ন মামলার অভিযুক্তদের আটকের পাশাপাশি মাদক উদ্ধারে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অপরাধের ধরন অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া ইয়াবা ও গাঁজার ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা হয়েছে এবং পরোয়ানাভুক্তদের সংশ্লিষ্ট মামলায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিনিধি