চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ডেঙ্গু। প্রতিদিনই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জ্বর ও ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে ছুটছেন রোগীরা। গত ২০ দিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ৬ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পাশাপাশি প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৫ জনের ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর মধ্যে গড়ে ৩ জন রোগী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হচ্ছেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে ডেঙ্গু সন্দেহে রোগীর চাপ বাড়ছে। জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা, দুর্বলতা ও বমিসহ বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে রোগীরা হাসপাতালে আসছেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সন্দেহভাজন রোগীদের ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং আক্রান্তদের প্রয়োজন অনুযায়ী হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। বিশেষ করে বাড়িঘর ও আশপাশে জমে থাকা পানি এডিস মশার প্রজননের অন্যতম কারণ হওয়ায় পরিবেশ পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা।
হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহমেদ তানভীর বলেন, “গত ২০ দিনে আমাদের হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত ২৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ৬ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৫ জনের ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং প্রায় ৩ জন আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হচ্ছেন।
তিনি বলেন-ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাড়ি ও আশপাশে কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না। জ্বর বা ডেঙ্গুর কোনো উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টদের মতে-ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসার পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন জনসচেতনতা। বাড়ির আঙিনা, ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা, পুরোনো টায়ারসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।
সচেতন মহল বলছে-হাজীগঞ্জে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়ার আগেই মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন। তা না হলে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন