প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ৮:২৪ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

হাজীগঞ্জে অপরাধী আটকের নামে প্রবীণকে মারধরের ঘটনায় হামলাকারীদের শনাক্তের নির্দেশ আদালতের

নিজস্ব প্রতিনিধি

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে অপরাধী আটকের নামে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে এক প্রবীণ ব্যক্তিকে মারধর ও হেনস্তার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় হামলাকারীদের শনাক্ত করে তাঁদের বিস্তারিত ঠিকানা সংগ্রহ এবং সাক্ষীদের তালিকা প্রস্তুত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছেন চাঁদপুরের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও জাস্টিস অব দ্য পিস মুজাহিদুর রহমান।

হাজীগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বলাখাল বাজারে এক প্রবীণ ব্যক্তিকে ‘ইয়াবা কারবারি’ আখ্যা দিয়ে মারধরের একটি ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি আদালতের নজরে এলে ভিডিও ও ছবি পর্যালোচনা করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।

আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, একটি নিউজ পোর্টালের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, বলাখাল বাজারের একটি মুদিদোকানে থাকা এক প্রবীণ ব্যক্তিকে কয়েকজন তরুণ ইয়াবা কারবারের অভিযোগে চড়-থাপ্পড় ও মারধর করছেন। ভিডিওতে এক তরুণের হাতে ইয়াবাসদৃশ বস্তু দেখা যায়। পরে ওই বস্তু প্রদর্শন করে মুঠোফোনে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানানোর দৃশ্যও রয়েছে।

ভিডিওতে থাকা কথোপকথনের ভিত্তিতে ওই প্রবীণ ব্যক্তিকে হাজীগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর বলাখাল ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর নিজাম কাজী বলে প্রতীয়মান হয়েছে বলে আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ঘটনাস্থলে পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বা কোনো প্রশাসনিক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন না বলেও আদেশে বলা হয়েছে।

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মাদক-সংক্রান্ত অপরাধে অভিযুক্ত বা সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে তল্লাশি বা আটক করার ক্ষমতা ব্যক্তিগত নাগরিকের নেই। ভিডিও পর্যালোচনায় কয়েকজন তরুণ ওই প্রবীণ ব্যক্তির দোকানে বেআইনিভাবে প্রবেশ করেছেন বলেও প্রতীয়মান হয়েছে। এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৮, ৩২৩ ও ৫০৬ ধারায় অপরাধের বিষয়টি বিবেচনায় এসেছে।

আদেশে আরও বলা হয়, কোনো ব্যক্তিকে অপরাধের সন্দেহে বেআইনি জনতার মাধ্যমে আটক করে মারধর করা ‘মব কালচারের’ গুরুতর উদাহরণ। এ ধরনের ঘটনায় নাগরিকের সংবিধানপ্রদত্ত মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ও জড়িত।

উচ্ছৃঙ্খল তরুণ ও কিশোরগ্যাংয়ের বেআইনি কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আইন প্রয়োগের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে আদালতের আদেশে। আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান আইন যথাযথভাবে প্রয়োগের কথা বলা হয়েছে।

আদেশ অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে অনুপ্রবেশকারী ও হামলাকারীদের শনাক্ত করে তাঁদের বিস্তারিত ঠিকানা সংগ্রহ এবং সাক্ষীদের তালিকা প্রস্তুত করে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, হাজীগঞ্জ সার্কেলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একই সময়সীমার মধ্যে ওই ঘটনায় কিশোরগ্যাংয়ের হাতে আটক প্রবীণ ব্যক্তির বিরুদ্ধে কথিত মাদক উদ্ধারের অভিযোগে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা আদালতকে জানাতে হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালতের এ নির্দেশের পর ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ ও পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন