প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬ । ১০:০৫ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে ৬ মাস পর মাদ্রাসায় ফিরেই হাজিরা সই, ক্ষোভে ক্লাস বর্জন শিক্ষকদের

এস. এম ইকবাল
বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) সুপারিশে যোগদানের পর থেকেই কর্মস্থলে অনুপস্থিত। কোনো আনুষ্ঠানিক ছুটি বা অনুমোদন ছাড়া টানা প্রায় ছয় মাস পর হঠাৎ মাদ্রাসায় হাজির হয়ে হাজিরা খাতায় সই করলেন শিক্ষক।
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার কড়ৈতলী কে এ সিনিয়র আলিম মাদ্রাসায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের প্রভাষক মো. আরিফুজ্জামানের এই কাণ্ডে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন সহকর্মীরা। বিধি লঙ্ঘন করে সই করার প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর ২০২৬) সব শিক্ষক একযোগে ক্লাস বর্জন করেন। পরে বাধ্য হয়ে হাজিরা খাতা থেকে ওই শিক্ষকের সই মুছে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন প্রতিষ্ঠান প্রধান।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষক সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি রংপুরের মো. আরিফুজ্জামান কড়ৈতলী মাদ্রাসায় আইসিটি বিষয়ের প্রভাষক পদে যোগ দেন। যোগদানের পর রমজানের ৪০ দিনের  ছুটি শেষে গত ৪ ও ৫ এপ্রিল মাত্র দুই দিন তিনি শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত হন। এরপর কোনো লিখিত আবেদন বা কর্তৃপক্ষকে না জানিয়েই কর্মস্থল থেকে তিনি উধাও হয়ে যান। এই দীর্ঘ সময়ে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি মুঠোফোন ও তাকে পাওয়া যায়নি।
টানা অনুপস্থিতির কারণে গত ১৬ জুলাই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. রফিকুল ইসলাম ওই শিক্ষকের স্থায়ী ঠিকানায় কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠান। ২২ জুলাই পাঠানো জবাবে ওই শিক্ষক জানান, তিনি গুরুতর অসুস্থ থাকায় প্রতিষ্ঠানে আসতে পারেননি বলে কারন দর্শানোর জবাব দেন।
তবে কোনো ছুটি মঞ্জুর না হওয়া সত্ত্বেও আজ ১ অক্টোবর সকালে হঠাৎ মাদ্রাসায় এসে হাজিরা খাতায় সই করেন আরিফুজ্জামান। বিষয়টি জানাজানি হলে শিক্ষকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়। শিক্ষকেরা অবিলম্বে ক্লাস বর্জন করে অনিয়মিত এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থার দাবি জানান।
পরে উদ্ভুত পরিস্থিতি সামাল দিতে অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম তাৎক্ষণিকভাবে ওই প্রভাষকের দেওয়া সই বাতিল করেন। সেই সঙ্গে পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে কথা বলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নিশ্চয়তা দিলে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শিক্ষকেরা পুনরায় পাঠদানে ফিরে যান।
জানতে চাইলে অভিযুক্ত প্রভাষক মো. আরিফুজ্জামান বলেন, যোগদানের পরই আমি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ি। চিকিৎসকের পরামর্শে ছয় মাস পূর্ণ বিশ্রামে ছিলাম। সুস্থ হয়ে আজ প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছি। কর্তৃপক্ষ যে সিদ্ধান্ত নেবে, তা মেনে নেব।
কড়ৈতলী কে এ সিনিয়র আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি প্রবিধান অমান্য করে একটানা প্রায় ছয় মাস অনুপস্থিত ছিলেন। আজ হঠাৎ এসে হাজিরা খাতায় সই করায় শিক্ষকেরা ক্লাস বর্জন করেন। পরে তাঁর সই বাতিল করে বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুল্লাহ্ আল মামুন জানান, বিষয়টি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোঃ রফিকুল ইসলাম আমাকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অবগত করেছেন। আমি অফিসিয়াল কাজে অফিসের বাহিরে থাকায় আগামী রোববার সকালে তার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতি ও ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান মানিক জানান, কোনো শিক্ষক নিয়মবহির্ভূতভাবে দীর্ঘ দিন অনুপস্থিত থেকে হঠাৎ এসে হাজিরা সই করতে পারেন না। বিষয়টি খতিয়ে দেখে তদন্ত সাপেক্ষে উক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে নিয়মানুযায়ী অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন