চাঁদপুর সদর উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান। এতে সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. এন জামিউল হিকমা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, শিক্ষকরা সমাজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এবং মানুষ গড়ার কারিগর। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কোমলমতি হওয়ায় তাদের সঙ্গে শিক্ষকদের আন্তরিক ও স্নেহপূর্ণ আচরণ করা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের নিজেদের সন্তানের মতো ভালোবাসলে তাদের মধ্যে শিক্ষার পাশাপাশি সুন্দর চিন্তা, মানবিক মূল্যবোধ ও দায়িত্ববোধ গড়ে উঠবে।
নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণ করে জেলা প্রশাসক বলেন, ছোটবেলায় প্রিয় শিক্ষিকা স্কুলে এলে শিক্ষার্থীরা ভালোবাসায় তাকে জড়িয়ে ধরত। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকদের এমন ভালোবাসার সম্পর্ক তৈরি করতে হবে, যাতে তারা বড় হয়েও প্রিয় শিক্ষকদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে।
তিনি প্রতিটি শিক্ষার্থী ও শিক্ষককে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানান। বাড়ি কিংবা বিদ্যালয়ে গাছ লাগিয়ে নিয়মিত যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, একটি গাছ যেমন এক বছর পর বড় হয়ে ওঠে, তেমনি শিক্ষার্থীদের মধ্যেও প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতি মমত্ববোধ তৈরি হবে।
জেলা প্রশাসক জানান, চাঁদপুরের প্রতিটি ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে একটি বিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে সাংস্কৃতিক ক্লাব, স্টাডি ক্লাব, বিজ্ঞান ক্লাব ও গ্রন্থাগার গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সাংস্কৃতিক ক্লাবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ পাবে। স্টাডি ক্লাবের মাধ্যমে প্রকৃতি, প্রাণী ও কীটপতঙ্গ সম্পর্কে জানার পাশাপাশি পরিবেশের প্রতি ভালোবাসা তৈরি হবে। বিজ্ঞান ক্লাবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞানভিত্তিক আলোচনা ও বিভিন্ন ছোট প্রকল্পে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে। পাশাপাশি বিদ্যালয়গুলোতে গ্রন্থাগার স্থাপনের উদ্যোগও নেওয়া হবে।
প্রতিটি বিদ্যালয়ে পর্যায়ক্রমে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা শিক্ষার্থীদের পাঠকে আরও আনন্দদায়ক ও কার্যকর করে তুলবে। পুকুরসংলগ্ন বিদ্যালয়গুলোতে ‘প্রকৃতি পাঠশালা’ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, ইতোমধ্যে দুটি বিদ্যালয়ে এর সফল বাস্তবায়ন হয়েছে।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুল ফিডিং কার্যক্রম নিয়েও প্রধান শিক্ষকদের আন্তরিক ও সচেতনভাবে কাজ করার আহ্বান জানান জেলা প্রশাসক। খাবারের মান নিশ্চিত করা এবং কোনো সমস্যা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর নির্দেশনা দেন তিনি। এ কার্যক্রমের ফলে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসার আগ্রহ বাড়ছে বলেও উল্লেখ করেন জেলা প্রশাসক।
বিদ্যালয়ের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ শুধু রোগ প্রতিরোধ করে না, শিক্ষার্থীদের মধ্যেও শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধ তৈরি করে।
অনুষ্ঠানে সদর উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বিভিন্ন দাবি, সমস্যা ও প্রস্তাব শোনেন জেলা প্রশাসক। তিনি পর্যায়ক্রমে এসব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন এবং শিক্ষা কার্যক্রমের মানোন্নয়নে প্রধান শিক্ষকদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু সাঈদ চৌধুরী। প্রধান শিক্ষকদের মধ্যে বক্তব্য দেন মো. আবুল হাশেম ও ফাতেমা বেগম। ‘গুণী শিক্ষক’ হিসেবে বক্তব্য দেন বিষ্ণুদী আজিমিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হোসনে আরা।
পরে সদর উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের হাতে বিদ্যালয়ের জন্য ক্রীড়া সামগ্রী তুলে দেন জেলা প্রশাসক। এসব ক্রীড়া সামগ্রীর মাধ্যমে বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার সুযোগ আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করা হয়। এ ছাড়া চলতি বছর এসএসসিতে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কয়েকজন মেধাবী শিক্ষার্থীর মধ্যে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের বই, খাতা, কলমসহ এক বছরের শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠান শেষে জেলা প্রশাসক উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত সাঁতার প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। পরে উপজেলা কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন তিনি।

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী