প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬ । ১০:০৮ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

দেড় লাখ টাকা দিয়েও চাকরি ফেরেনি, ঋণের বোঝা-মাথায় স্ত্রী-তিন সন্তান নিয়ে সোহেলের হাহাকার

এস. এম ইকবাল
ফরিদগঞ্জে চাকরিতে পুনর্বহালের ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে দেড় লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুনুর রশীদের বিরুদ্ধে। বিদ্যালয়ের সাবেক দপ্তরি কাম প্রহরী মো. সোহেল রানার অভিযোগ, চাকরি ফিরে পাওয়ার আশায় ধারদেনা করে ওই টাকা প্রধান শিক্ষককে দিয়েছেন তিনি। তবে টাকা দেওয়ার পরও চাকরিতে পুনর্বহালের কোনো ব্যবস্থা হয়নি।
অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক হারুনুর রশীদ বলেছেন, সোহেল রানা তাঁকে কোনো টাকা দেননি। চাকরিতে পুনর্বহালের বিষয়ে তাঁর সঙ্গে এমন কোনো কথাও হয়নি।
সোহেল রানা জানান, তিনি ২০১৩ সাল থেকে মিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরি কাম প্রহরী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০২৬ সালের ২৭ জুন চারটি ইয়াবা বড়িসহ ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশের হাতে আটক হন তিনি। পরে ১৪ দিন কারাগারে ছিলেন বলে জানান সোহেল। এরপর চাকরি হারিয়ে কর্মহীন হয়ে পড়েন তিনি।
স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হওয়ায় চাকরি ফিরে পাওয়াকে নিজের পরিবারের বেঁচে থাকার প্রধান অবলম্বন মনে করেন সোহেল। এ জন্য বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করতে থাকেন তিনি। একপর্যায়ে মিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুনুর রশীদের কাছে যান বলে জানান তিনি।
সোহেলের অভিযোগ, গত ২৩ আগস্ট প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে চাকরিতে পুনর্বহালের বিষয়ে কথা হলে শিক্ষা অফিসসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর ‘ম্যানেজ’ করতে দুই লাখ টাকা প্রয়োজন বলে তাঁকে জানানো হয়। এত টাকা দেওয়া সম্ভব নয় জানালে পরে দেড় লাখ টাকা দিতে বলা হয় বলে দাবি তাঁর।
চাকরি ফিরে পাওয়ার আশায় আত্মীয়স্বজন ও বিভিন্ন জায়গা থেকে ধারদেনা করে দেড় লাখ টাকা সংগ্রহ করেন সোহেল। পরে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে প্রধান শিক্ষকের বাড়িতে গিয়ে নগদ টাকা দিয়ে আসেন বলে দাবি তাঁর।
সোহেল বলেন, ৫০০ টাকার একটি বান্ডেল ও ১ হাজার টাকার একটি বান্ডেল মিলিয়ে মোট দেড় লাখ টাকা প্রধান শিক্ষকের হাতে তুলে দেন তিনি। কিন্তু টাকা দেওয়ার পরও চাকরিতে পুনর্বহালের কোনো ব্যবস্থা হয়নি।
সোহেল রানা বলেন, “চাকরি হারানোর পর অনেক কষ্টে দিন কাটছে। হেড স্যার টাকা চাওয়ার পর অনেক কষ্টে ঋণ করে দেড় লাখ টাকা দিয়েছি। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা হয়নি। এখন একদিকে চাকরি নেই, অন্যদিকে মাথায় ঋণের বোঝা। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে খুব কষ্টে আছি। আমি এ ঘটনার সঠিক বিচার চাই।”
তবে অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষক হারুনুর রশীদ। তিনি বলেন, “সে আমাকে কোনো টাকা দেয়নি। এ বিষয়ে তার সঙ্গে আমার কোনো কথাই হয়নি।”
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি জাকির হোসেন চৌধুরী বলেন, “এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। সোহেল রানা আমাকে এ-সংক্রান্ত কিছু জানায়নি।”
মৌখিক অভিযোগের পর এবার বিষয়টি লিখিতভাবেও জানিয়েছেন সোহেল রানা। গত ৬ অক্টোবর ২০২৬ তিনি ফরিদগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, চাকরিতে পুনর্বহালের ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে প্রধান শিক্ষক প্রথমে তাঁর কাছে দুই লাখ টাকা দাবি করেন। পরে দেড় লাখ টাকা দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হন তিনি এবং ওই টাকা প্রধান শিক্ষক গ্রহণ করেন বলে অভিযোগ করেন সোহেল।
তবে অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে এখনো কোনো তদন্তের ফল পাওয়া যায়নি। অভিযোগকারী ও অভিযুক্তের বক্তব্যও পরস্পরবিরোধী। ফলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনের দাবি উঠেছে।
অভিযোগের সত্যতা তদন্তে কী বেরিয়ে আসে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। তবে অভিযোগকারী সোহেল রানার বর্তমান বাস্তবতা—চাকরি নেই, মাথায় ঋণের বোঝা; স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে চলছে কঠিন সংসারসংগ্রাম।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন