প্রকাশের সময়: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬ । ৯:০২ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

স্কুল আছে, ভবন নেই; টয়লেট আছে, ব্যবহারের উপায় নেই—কচুয়ার খিলা সপ্রাবির করুণ চিত্র

ইসমাইল হোসেন বিপ্লব, কচুয়া
কচুয়া উপজেলার গোহট উত্তর ইউনিয়নের খিলা ১৫২নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের  পাঠদানের শ্রেণীকক্ষের অভাবে লেখাপড়া ব্যাহত হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের।
বিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের সূত্রে জানা গেছে, খিলা গ্রামে ১৯৮৯ সালে ১৫২নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ১ তলা বিশিষ্ট ভবন করা হলেও ওই ভবনটি গত ৩ বছরের আগে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সরকারি অনুদান ও স্থানীয়দের সহযোগিতা নিয়ে দুটি টিনের ঘরের ৪টি কক্ষে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বিভিন্ন দেয়ালে ফাটল ও ছাদ থেকেও পলেস্তারা খসে পড়ছে। বিদ্যালয় মাঠের দক্ষিণ পাশে দুটি ছোট্ট টিনের ঘরে ৪টি কক্ষ করে পাঠদান করা হয়। একটি কক্ষে শিক্ষকদের অফিস রুম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে । বিদ্যালয় নেই কোন পরিবেশবান্ধব টয়লেট। বিদ্যালয়ের উত্তর-পশ্চিম পাশে একটি টয়লেট থাকলোও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা রয়েছে। ওই টলেটি বর্তমানে দরজা ভেঙ্গে খোলা অবস্থা,দেয়াল ফেটে প্লাস্টার খসে পড়ছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের পাশে অন্যের বাড়িতে গিয়ে টয়লেট ব্যবহার করতে হচ্ছে। একটু বৃষ্টি হলে বিদ্যালয়ে খেলাধুলার মাঠে হাঁটু পর্যন্ত পানি হয়। বৃষ্টির মৌসুমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে কাদামাটি নিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা আসা যাওয়া করতে হয়।
বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী সুমাইয়া আক্ত বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ে ভবন না থাকায় ছোট্ট টিনের ঘরে অনেক গরমে ক্লাস করতে হচ্ছে। বৃষ্টি হলেই বিদ্যালয়ের মাঠে হাটু সমান পানি দিয়ে শ্রেনী কক্ষ আসতে হয়। মাঠে জলাবদ্ধতার কারণে খেলাধুলা করতে পারছি না। আমাদের বিদ্যালয়ে নেই কোন ভালো টয়লেট, বিদ্যালয়ের পাশে অন্যের বাড়িতে গিয়ে আমরা আগের টয়লেট ব্যবহার করছিলাম। বর্তমানে তাদের ব্যক্তি মালিকানা টয়লেট ব্যবহার করতে না দেওয়ায় আমরা এখন বিপাকে পড়েছি।
তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র তামিম বলেন, আমাদের এই টিনশেড ঘরে পড়াশুনা করতে কষ্ট হয়। বৃষ্টি হলেই পানি পড়ে আমাদের বই-খাতা ভিজে যায়। তাই আমাদের নতুন ভবন ও বিদ্যালয় একটি ওয়াস ব্লক চাই।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা জানান, বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ তেমন না থাকায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। বিদ্যালয় পরিবেশবান্ধব নেই কোন টয়লেট, বিদ্যালয়ের পাশে অন্যের বাড়িতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি আমরাও টয়লেট ব্যবহার করতে হয়। বর্তমানে ব্যক্তি মালিকানা টয়লেট ব্যবহার করতে না দেওয়ায় বিপাকে পড়েছি আমরা। দ্রুত একটি ভবন ও ওয়াশ ব্লকের জন্য শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী কচুয়ার অভিভাবক ড.আনম এহছানুল হক মিলন এমপি স্যারের সুদৃষ্টি কামনা করেছি।
বিদ্যালয়ের অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজন জানান, শিক্ষার পরিবেশ তেমন না থাকায়, দিনদিন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কমে যাচ্ছে। নেই কোন ভবন, টয়লেট, খেলাধুলার মাঠ। বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ না থাকায় শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া ব্যাহত হচ্ছে। কচুয়ার অভিভাবক মাননীয় শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড.আনম এহছানুল হক মিলন এমপি ও কেন্দ্রীয় বিএনপি’র কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও মহিলা দলের সহ-সভানেত্রী নাজমুন নাহার বেবী আপার সুদৃষ্টি কামনা করছি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শাহীনা আক্তার বলেন, মানসম্মত শিক্ষা সেবা নিশ্চিতকরণে সরকার ও শিক্ষা কর্তৃপক্ষের রয়েছে নানাবিধ উদ্যোগ। এ বিদ্যালয়ের ভবনের অবস্থা খুবই নাজুক। তাই এর মেরামত ও নতুন ভবনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন