প্রকাশের সময়: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬ । ১১:০৫ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

কচুয়ায় আদালতের নির্দেশে তালা খুলে বসতঘরে ফিরলেন নারী

নিজস্ব প্রতিনিধি

চাঁদপুরের কচুয়ায় বসতঘরে তালা দিয়ে এক নারীকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আদালতে মামলা করার পর বিচারকের নির্দেশে পুলিশের উপস্থিতিতে ওই ঘরের তালা খুলে দেওয়া হয়েছে।

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার আইনগিরি গ্রামে বসতঘরে ঢুকে এক নারীর কাছে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি, মারধর ও গলায় চাপ দিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ওই নারীকে বসতঘর থেকে বের করে দিয়ে ঘরের দরজায় দুটি তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। পরে আদালতের নির্দেশে পুলিশ সেই তালা খুলে দিয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে চাঁদপুরের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুজাহিদুর রহমান কচুয়া থানা-পুলিশের মাধ্যমে ওই নারীর বসতঘরের তালা খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন। এর পরদিন বুধবার বিকেল সোয়া তিনটার দিকে কচুয়া থানা-পুলিশ স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে ঘরের তালা খুলে দেয়।

বিষয়টি রাতে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নাজির ফখরুদ্দিন স্বপন।

আদালতে দায়ের করা মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ১৮ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে কচুয়া উপজেলার গোহট উত্তর ইউনিয়নের আইনগিরি গ্রামের গাজী বাড়িতে বাদী রাশিদা বেগমের (৪২) বসতঘরে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ৬ অক্টোবর কচুয়া আমলী আদালতে সি.আর. মামলা নম্বর ৯১৯/২০২৬ দায়ের করা হয়।

মামলার আসামিরা হলেন আইনগিরি গ্রামের মৃত আনু মিয়ার ছেলে মো. নাসির উদ্দিন (৪৫) ও মো. মোবারক হোসেনের ছেলে মো. আজিদ উল্লাহ (৪০)। মামলার অভিযোগে আরও ৫ থেকে ৭ জন অজ্ঞাত ব্যক্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

বাদী রাশিদা বেগমের অভিযোগ, স্বামীর সঙ্গে তালাক হওয়ার পর তিনি ছেলে রাসেল ওরফে মানিককে নিয়ে ওই বাড়িতে বসবাস করছেন। এ সুযোগে আসামিরা তাঁকে বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব ও অশালীন অঙ্গভঙ্গি করতেন। এর প্রতিবাদ করায় তাঁর ছেলে রাসেলকে একটি চুরি মামলায় জড়িয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে চুরির অপবাদ ছড়ানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার দিন আসামিরা রাশিদা বেগমকে বলেন, তিনি ও তাঁর ছেলে ওই বাড়িতে বসবাস করতে চাইলে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে জোর করে ঘর থেকে বের করে দিয়ে দরজায় তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়।

একপর্যায়ে প্রধান আসামি নাসির উদ্দিন দুই হাত দিয়ে রাশিদা বেগমের গলায় চাপ দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় আসামিরা লোহার রড দিয়ে তাঁকে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন বলেও অভিযোগ করা হয়।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, রাশিদার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে আসামিরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। যাওয়ার সময় মামলা করলে তাঁকে ও তাঁর ছেলে রাসেলকে ধারালো ছেনি দিয়ে হত্যার পর লাশ মাটির নিচে পুঁতে ফেলার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

বুধবার বিকেলে পুলিশের উপস্থিতিতে ঘরের তালা খুলে দেওয়ার পর রাশিদা বেগম আবার তাঁর বসতঘরে থাকার সুযোগ পেয়েছেন।

মুঠোফোনে রাশিদা বেগম বলেন, “বিচারকের নির্দেশের কারণে আমি আবার ঘরে বসবাসের সুযোগ পেয়েছি। তবে এখনো আমি শঙ্কায় আছি। যেকোনো সময় আসামিরা আমার ও সন্তানের ক্ষতি করতে পারে।”

মামলার অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। আদালতে মামলাটি দায়েরের পর অভিযোগগুলোর বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন