প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬ । ১১:৫১ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

সৌদিতে ফেরার স্বপ্ন থামল সড়কে, অ’ন্তঃ’স’ত্ত্বা স্ত্রী-সন্তানকে রেখে চলে গেলেন আল-আমিন

নিজস্ব প্রতিনিধি

সৌদি আরবে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন আল-আমিন (৩৮)। আর মাত্র তিন দিন পর বিমানে ওঠার কথা ছিল তাঁর। পরিবারের জন্য নতুন করে স্বপ্ন দেখছিলেন। কিন্তু প্রবাসে ফেরার আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার টামটা উত্তর ইউনিয়নের মৌতাবাড়ি এলাকায় বাসের ধাক্কায় আল-আমিন নিহত হন। তিনি উপজেলার সূচিপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের মসজিদ বাড়ির আব্দুল মান্নানের ছেলে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, স্ত্রীকে ওষুধ কিনে দিতে মোটরসাইকেল নিয়ে হাজীগঞ্জে গিয়েছিলেন আল-আমিন। সেখান থেকে শাহরাস্তির দিকে ফেরার পথে মৌতাবাড়ি এলাকায় কুমিল্লা থেকে চাঁদপুরগামী একটি বাস তাঁর মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলে থাকা অপর এক আরোহীও গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

আল-আমিনের স্বজনেরা জানান, প্রায় চার মাস আগে ছুটিতে দেশে এসেছিলেন তিনি। ছুটি শেষে আবার সৌদি আরবে কর্মস্থলে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। আগামী তিন দিন পর তাঁর বিমানে ওঠার কথা ছিল। কিন্তু সেই যাত্রার আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হলো।

আল-আমিনের স্ত্রী বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা। তাঁদের চার বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। বাবাকে হারিয়ে ছোট্ট শিশুটি এখন স্বজনদের কাছে। আর পৃথিবীর আলো দেখার আগেই বাবাকে হারাল অনাগত সন্তানটি।

আল-আমিনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। পরিবারের সদস্যরা বলছেন, প্রবাসে ফিরে পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে পরিকল্পনা করছিলেন তিনি। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে সেই সব পরিকল্পনা থেমে গেল।

শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহত ব্যক্তির মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

মাত্র তিন দিন পর সৌদি আরবে ফেরার কথা ছিল আল-আমিনের। পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে আবারও প্রবাসের কর্মস্থলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু সেই যাত্রার আগেই একটি সড়ক দুর্ঘটনা কেড়ে নিল তাঁর প্রাণ। স্বামীকে হারিয়ে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী, বাবাকে হারিয়ে চার বছরের সন্তান—আর পৃথিবীতে আসার আগেই বাবাহারা হলো অনাগত সন্তান।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন