প্রকাশের সময়: সোমবার, ২১ মার্চ, ২০২২ । ৩:০৪ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

অযত্ন-অবহেলায় পড়ে আছে ৫’শ বছরের পুরনো আলোচিত সুলতানি আমলের মসজিদ

অনলাইন ডেস্ক
গাজী মোঃ মহসিন : চাঁদপুর সদর উপজেলার ৫নং রামপুর ইউনিয়নের ছোট সুন্দর গ্রামে জঙ্গল পরিষ্কার করে পাওয়া ৫শ’ বছরের সুলতানি আমলের মসজিদটি সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে ৮ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়েছে প্রায় তিন বছর আগে। বরাদ্দের পরবর্তী সময়ে মসজিদটি সংস্কারের কাজ শুরু করলেও বিভিন্ন অভিযোগে করোনা মহামারির প্রাদুর্ভাব শুরুর আগে ২০২০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অতিরিক্ত সচিব মোঃ হান্নান মিয়া মসজিদটির অপরিকল্পিত সংস্কার কাজ দেখে ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং কাজটি তাৎক্ষণিক বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। অধিদপ্তরের সংশ্নিষ্ট প্রকৌশলী ও শ্রমিকরা মসজিদটির কাজ সম্পূর্ণ নকশাবহির্ভূতভাবে করছিলেন।
শনিবার (২০শে মার্চ) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাঁচ’শ বছরের সুলতানি আমলের সেই মসজিদটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের হেয়ালিপনায় সম্পূর্ণ অযত্ন-অবহেলায় পড়ে আছে। মসজিদটির গম্ভুজের উপরের খোলা অংশ দিয়ে ভারি বৃষ্টিতে মসজিদের ভিতরে ছোট একটি পুকুরে পরিণত হয়। এ স্থানটিতে গরু ছাগলের এক আশ্রয়স্থল। মসজিদের ভিতরে নেই কোন প্রবেশে বাঁধা।
যেকোন সময় কুকুর বিড়ালসহ অন্যান্য প্রাণী ঢুকা অসাধ্যের কিছুই নেই।
কিন্তু এর আগে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আল মামুন পাটওয়ারীর উদ্যোগে গম্ভুজের উপরের খোলা অংশে পলিথিন স্থাপন, পথচারীদের যত্রতত্র প্রবেশ নিষেধের জন্য বাঁশের বেড়া ও একটি স্ট্রিট লাইট স্থাপন করলেও কিছুদিন পর পথচারীদের অত্যাচারে সবই যেন তছনছ হয়ে যায়।
সুলতানি আমলের এই মসজিদটি দেখতে আসা  মাসুদ হোসন ও হাবিবুর রহমান বলেন, আমরা গত কয়েক বছর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে জানতে পারি যে, আমাদের পূর্বপুরুষরা অর্থাৎ পাঁচ’শ বছর আগের এই মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতো। মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর উদ্যোগে উদ্ধার করা মসজিদটি আমাদের দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। কিন্তু প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর মসজিদটির কাজের উদ্যোগ নিয়েও সব বন্ধ হয়ে যায়।
এদিকে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পরিচালক ও শ্রমিকদের অবহেলায় সংস্কার শুরুর প্রথম পর্যায়ে হাতুড়ি আর কুড়ালের আঘাতে হারিয়ে যেতে বসেছিল ৫শ’ বছরের ঐতিহ্য। এ নিয়ে চড়ম ক্ষোভ প্রকাশ করেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অতিরিক্ত সচিব মোঃ হান্নান মিয়া। তিনি মসজিদটি পরিদর্শনে এমন অবস্থা দেখে কাজ বন্ধ রাখার ঘোষনা দিলেও কিছুদিন পরেই বাংলাদেশে মহামারী আকারে ধারন করতে শুরু করেছে করোনাভাইরাস। অথচ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী এই মসজিদকে সংস্কারের মাধ্যমে আগের রুপে ফিরিয়ে এনে উক্ত স্থানটিকে একটি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার কথা রয়েছিল। কিন্তু অনিয়ম, অবহেলা আর করোনার প্রভাব- এই তিনের জাঁতাকলে পড়ে আটকে আছে মসজিদটির পুণঃ সংস্কার কাজ।
এ বিষয়ে রামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আল মামুন পাটওয়ারী দৈনিক চাঁদপুর প্রবাহকে বলেন, চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী আলহাজ্ব ডা: দিপু মনি আপার নির্দেশে আমি জঙ্গলটি পরিষ্কার করে পুরনো এই মসজিদটি দৃশ্যমান করার উদ্যোগ নেই। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে মসজিদের ঐ স্থানটি বিভিন্নভাবে সুরক্ষা করার চেষ্টা করেছি। পথচারীদের অবহেলায় তা আর ঠিক রাখা যায়নি। তবে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কর্তৃপক্ষের হেঁয়ালিপনায় এ স্থানটি তা আর হয়ে ওঠেনি পর্যটন কেন্দ্র।
খোদ প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের পরিচালক ড. আতাউর রহমান ২০২০ সালের ২১ সেপ্টেম্বর দেয়া এক বক্তব্যে বলেন, এই মসজিদটির সংস্কার কাজ শুরু হয়েছিল। কাজে ত্রুটি থাকার কারনে সংস্কার বন্ধ হয়ে পড়ে। সেই টাকা গত অর্থ বছরে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আবার ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে ঐ টাকা ফেরত নিয়ে আসা হয়। কিন্তু এই কর্মকর্তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী ২০২০ সালের অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহে পূণরায় কাজ শুরু করার কথা থাকলেও বিভিন্ন সমস্যায় সব কিছুই ঢ়েন ভেস্তে যায়।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন