প্রকাশের সময়: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬ । ১০:৩৫ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

ফেসবুকে ১৭ দিনের পরিচয়, রাজুর ডাকে সাড়া দিয়ে কক্সবাজার গিয়েছিল তাজমিন

অনলাইন ডেস্ক

রাজু চৌধুরী (২০) নামে এক যুবকের ডাকে সাড়া দিয়ে কক্সবাজার গিয়েছিল কুমিল্লায় হত্যাকাণ্ডের শিকার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন (১৫)। রাজু কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে চাকরি করেন। তাদের সম্পর্ক ১৭ দিনের। ফেসবুকের মাধ্যমে তারা সম্পর্কে জড়ায় বলে জানা যায়।

চারদিন ধরে তাজমিন নিখোঁজ থাকলেও কবে কক্সবাজার গেছেন তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রথমদিন পাশের জেলা ব্রাক্ষণবাড়িয়া যায়। সেখানে থেকে কুমিল্লা ফিরে কক্সবাজার যায়। যাওয়ার সময় বান্ধবীর বাসায় যাচ্ছে বলে মাকে জানায়।

কক্সবাজার থেকে বুধবার রাত পৌনে ১২টার দিকে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা প্রবেশমুখ পদুয়ারবাজার বিশ্বরোড হোটেল নূরজাহানে আইকনিক এক্সপ্রেস বাস থেকে তাজমিন নেমেছে সিসিটিভি ফুটেজে এমনটাই দেখা গেছে।

কক্সবাজার কক্সেস পেনারেমিক ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর এজেন্সির আবদুল্লাহ শনিবার রাতে দেশের একটি গণমাধ্যমকে জানান, মঙ্গলবার ৬ অক্টোবর রাত ৮টার পর তাজমিন বন্ধু রাজুসহ বাসের টিকিট কাটতে তাদের কাউন্টারে আসে। তখন তারা তাদেরকে একজন মেয়ে ও ছেলে হিসেবেই মনে রাখে, মাত্র কাস্টমার ভাবে। পরদিন বুধবারের জন্য টিকিট কাটে ছেলেটি। একটি টিকিট। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে আইকনিক এক্সপ্রেসের বাসটি কুমিল্লার উদ্দেশে কক্সবাজার ছাড়ে। রাতে হোটেল নূরজাহানে এসে পৌঁছে। বাসটি ঢাকা পর্যন্ত চলাচল করে।

এদিকে, হত্যার ঘটনা আলোচনায় আসার পর আবদুল্লাহ ঘটনায় মনোযোগী হয় ও মেয়েটি তাজমিন বলে শনাক্ত করে, পুলিশ জানতে চাইতে পারে বলেই সে আগে থেকে প্রস্তুতি নেয়। পরে জানতে পারে সঙ্গে আসা ছেলে বন্ধুটি হত্যাকাণ্ডে জড়িত নয়। হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে একজনই, বহনকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক মো. সুমন মিয়া (৩৫)। তাই ছেলেটির আর কোনো খোঁজ-খবর নেয়নি।

এদিকে ঘটনার পর তাজমিনের মা কেয়া খাতুন সাংবাদিকদের জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে মেয়ের সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়। তখন তাজমিন জানিয়েছিল, সে এক বান্ধবীর সঙ্গে আছে। মা বান্ধবীর বাড়িতে গিয়ে তাকে নিয়ে আসতে চেয়েছিল। কেয়া খাতুন মেয়ের কাছে বান্ধবীর নাম ও তার মা-বাবার পরিচয় জানতে চাইলেও সে কিছু জানায়নি।

মেয়ের বন্ধুবান্ধব নিয়ে আগে থেকেই উদ্বিগ্ন ছিলেন তাজমিনের মা। কোনো অঘটন ঘটতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে প্রায় ছয় মাস মেয়েকে স্কুলে যেতে দেননি তিনি। মেয়েকে চোখে চোখে রাখার চেষ্টা করতেন। জানতে চাইতেন তার চলাফেরা ও বন্ধুত্বের বিষয়ে। কিন্তু এত সতর্কতার পরও শেষ পর্যন্ত মেয়েকে রক্ষা করতে পারেননি তিনি।

এদিকে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, যে বান্ধবীকে দুষছেন তাজিনিমের মা তিনি তার চেয়ে বয়সে বড়। হত্যাকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ততা এখনো মেলেনি। তবে মেয়ে অবাধ্য হয়ে উঠেছিল। পাপজিসহ মোবাইল গেমে আসক্ত ছিল।

তাজমিনের শিক্ষক সাদ বিন এরশাদ বলেন, আমি তাকে দীর্ঘদিন পড়িয়েছি। সে খুবই চঞ্চল স্বভাবের ছিল। তার মা অসুস্থ হলে দুই যমজ ছোট ভাইয়ের দেখভাল করত তাজমিন। তার বাবা একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করতেন। এ কারণে তার বাবা সকালে বাসা থেকে বের হলে রাতে ফিরতেন। তবে বাবা তাজমিনকে খুব আদর করতেন। ঘরে রাগ হলে সে হুটহাট করে বাসা থেকে বের হয়ে যেত।

পুলিশ বলেছে, ঘাতক একজনই, সিএনজি অটোরিকশা চালক সুমন মিয়া। সে আদালতে স্বীকারোক্তিও দিয়েছে।

সচেতন নাগরিক কমিটি কুমিল্লার সাবেক সভাপতি শাহ মো. আলমগীর খান মনে করেন, রাজুর সঙ্গে তার সম্পর্ক না হলে তাকে কক্সবাজার যেতে হতো না। এতে মৃত্যুর মতো বিপদ থেকে হয়ত সে বেঁচে যেত।

পুলিশ জানায়, বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজারের বাস থেকে পদুয়ারবাজার হোটেল নূরজাহানে নেমে শহরের রেইসকোর্স বাসায় যেতে সিএনজি অটোরিকশা ভাড়া করে তাজমিন। গ্রেপ্তার সিএনজি অটোরিকশা চালক সুমন ঘটনাস্থলে নিয়ে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা নিশ্চিত করে।

পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের ধানখেত থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন