শ্রেণিকক্ষে থাকার কথা থাকলেও স্কুল ফাঁকি দিয়ে ইউনিফর্ম পরেই চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার দর্শনীয় স্থান ওয়াকওয়েতে আড্ডায় মেতেছিল একদল শিক্ষার্থী।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে ওয়াকওয়েতে অভিযান চালিয়ে ১৬ স্কুলশিক্ষার্থীকে আটক করেছে পুলিশ। আটকদের মধ্যে ১০ জন ছাত্র ও ৬ জন ছাত্রী। পুলিশ জানায়, আটক শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ স্কুল ড্রেসের ওপর বোরকা পরে সেখানে এসেছিল। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, তারা প্রত্যেকেই স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। তাদের কয়েকজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে বলেও জানা গেছে।
বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে শাহরাস্তি মডেল থানা পুলিশের একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে। পরে আটক শিক্ষার্থীদের থানায় আনা হয়। তাদের অভিভাবকদের খবর দেওয়া হয়েছে। অভিভাবকেরা থানায় এলে শিক্ষার্থীদের পরিচয় ও পারিবারিক তথ্য যাচাইয়ের পাশাপাশি থানার রেকর্ড ও সিডিএমএস খতিয়ে দেখে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এবিষয়ে শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, শাহরাস্তির ওয়াকওয়ে একটি দর্শনীয় স্থান। বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এখানে ঘুরতে আসেন। কিন্তু সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে, স্কুল চলাকালীন কিছু শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে না গিয়ে স্কুল ড্রেস পরে এখানে সময় কাটাচ্ছে। এটি উদ্বেগজনক। অভিভাবকদের নজরদারির ঘাটতি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যথাযথ তদারকি না থাকায় শিক্ষার্থীরা এ সুযোগ নিচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমরা চাই না, শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া বাদ দিয়ে স্কুল ফাঁকি দিয়ে এখানে আড্ডা দিক। স্কুলের পর অভিভাবক বা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঘুরতে আসতে কোনো বাধা নেই। কিন্তু ক্লাস চলাকালীন বিদ্যালয়ে না গিয়ে স্কুল ড্রেস পরে এখানে ঘোরাফেরা কোনোভাবেই কাম্য নয়। অভিভাবক ও শিক্ষকদের প্রতি আমার আহ্বান, আপনারা সন্তান ও শিক্ষার্থীদের প্রতি নজর রাখুন। তারা কখন বাড়ি থেকে বের হচ্ছে, বিদ্যালয়ে যাচ্ছে কি না এবং সেখানে উপস্থিত থাকছে কি না, সেদিকে খেয়াল রাখুন।
ওসি আরও বলেন, আটক শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা এলে তাদের পরিচয় ও রেকর্ড যাচাই করা হবে। আগে তাদের বিরুদ্ধে কোনো নেতিবাচক তথ্য আছে কি না, তা-ও দেখা হচ্ছে। রেকর্ডে বিরূপ তথ্য পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর যারা প্রথমবার এমন ঘটনায় জড়িয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ করবে না বলে অঙ্গীকার করবে, তাদের সংশোধনের সুযোগ দিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
কিশোর-কিশোরীদের অনিয়ন্ত্রিত ঘোরাফেরার ঝুঁকির কথা তুলে ধরে ওসি বলেন, এতে মাদক, অনলাইন জুয়া ও কিশোর গ্যাংসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। তাই শিক্ষার্থীদের সচেতন করা এবং অপরাধপ্রবণতা থেকে দূরে রাখতে পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এদিকে এর আগে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে ওসি মীর মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বে থানা পুলিশের একটি দল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়। অযাচিতভাবে ঘোরাফেরার অভিযোগে সেদিন আট কিশোরকে আটক করে থানায় আনা হয়। তাদের একজনের কাছ থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার হওয়ায় তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়।
অন্য একজনকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানামূলে গ্রেপ্তার করা হয়। বাকি ছয় কিশোর রাতে ঘোরাফেরার বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেনি।পরে অভিভাবকেরা থানায় এসে সন্তানদের প্রতি ভবিষ্যতে সতর্ক নজর রাখার আশ্বাস দেন। থানার রেকর্ড ও সিডিএমএস যাচাইয়ে বিরূপ কোনো তথ্য না পাওয়ায় সংশোধনের সুযোগ হিসেবে ওই ছয় কিশোরকে অভিভাবকদের জিম্মায় দেওয়া হয়।
পুলিশ জানায়, কিশোর-কিশোরীদের লেখাপড়ায় মনোযোগী রাখা এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।

মোঃ মাসুদ রানা