শাহরাস্তিতে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন এবং কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পাওয়ায় শাহজাদী শারিকাসহ ৯ কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিয়েছে পঞ্চগ্রাম আজিজুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়। ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ১১৪৬ নম্বর পেয়ে বিজ্ঞান বিভাগে জেলা-ভিত্তিক সাধারণ বৃত্তির তালিকায় স্থান করে নিয়েছে শাহজাদী। মেয়ের এ সাফল্যে গর্বিত তার পিতাসহ সাংবাদিক পরিবার। শিক্ষকদের নিবিড় তত্ত্বাবধান, মা-বাবার অনুপ্রেরণা ও নিজের অধ্যবসায়কে এ অর্জনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে সে।
গত রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল ১০টায় শাহরাস্তি পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জিপিএ-৫ অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের ফুল, ক্রেস্ট ও বিভিন্ন উপহারসামগ্রী দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়। সংবর্ধনাপ্রাপ্ত ৯ শিক্ষার্থীর মধ্যে মানবিক, বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে একজন করে মোট তিনজন বোর্ডের সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে।শাহজাদী শারিকার এসএসসি পরীক্ষার রোল নম্বর ১৮১৩৯৫। বিজ্ঞান বিভাগে জেলা-ভিত্তিক সাধারণ বৃত্তির তালিকায় তার স্থান পাওয়ায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় শিক্ষানুরাগীদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে।
শাহজাদীর সাংবাদিক বাবা মো. রুহুল আমিন ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জনের পর বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। শিক্ষকতার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার। বর্তমানে মানবাধিকার বিষয়ে কাজের পাশাপাশি সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত তিনি। মেয়ের সাফল্যে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, সন্তানের এমন অর্জন একজন বাবার জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের। সন্তানদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে মানুষের মতো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই মা-বাবার সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা। শাহজাদীর এই ফলাফল তাদের সেই প্রত্যাশা পূরণের পথে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। তিনি মেয়ের এ সাফল্যের জন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং ভবিষ্যতেও তার পড়াশোনা ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে পরিবারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
শাহজাদীর মা ফয়জুন্নেছা রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তিনি বর্তমানে শাহরাস্তির একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষিত পরিবারে বেড়ে ওঠা শাহজাদী ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি বই পড়া ও সাহিত্যচর্চায় আগ্রহী। তার কবিতা লেখার অভ্যাসও রয়েছে।তিন বোনের মধ্যে শাহজাদী সবার ছোট। তার বড় বোন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুড অ্যান্ড নিউট্রিশন সায়েন্স বিষয়ে এবং মেজো বোন শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ, বগুড়ায় পড়াশোনা করছেন।
পরিবারের অন্য দুই বোনের উচ্চশিক্ষায় এগিয়ে যাওয়াও শাহজাদীর জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।নিজের সাফল্যে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, মা-বাবা ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে শাহজাদী। ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা শেষ করে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করতে চায় সে। তার কাছে এই বৃত্তি কেবল একটি স্বীকৃতি নয়, বরং স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে যাওয়ার নতুন প্রেরণা।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি মো. মনজুরুল আলম স্বপন। তিনি কৃতী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে ভবিষ্যতেও ভালো ফলাফলের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।শিক্ষকদের পক্ষে বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আহসান উল্লাহ। এ ছাড়া সাবেক শিক্ষক আবদুল মান্নান বিএসসি, শাহরাস্তি উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মো. মনিরুজ্জামান মনির, বিদ্যালয়ের সাবেক ম্যানেজিং কমিটির সদস্য শ্রী সমীরণ দত্ত, সাবেক শিক্ষার্থী ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মো. সফিউল্লাহ বাচ্চু এবং কমিটির সদস্য লুৎফুর রহমান বক্তব্য দেন। কৃতী শিক্ষার্থীদের মধ্যে বক্তব্য রাখে শাহজাদী শারিকা।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ইমান হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শিক্ষক বাবু গৌরাঙ্গ চন্দ্র দে। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটির সাবেক নাম ছিল নাওড়া উচ্চ বিদ্যালয়। ১৯৮১ সালে প্রথমবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির পরীক্ষার ফলাফলে সাফল্যের যাত্রা শুরু হয়। ২০২৬ সালে প্রথমবারের মতো কৃতী শিক্ষার্থীদের ক্রেস্ট প্রদান করে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবর্ধনা দেওয়া হলো।

নিজস্ব প্রতিনিধি