চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার আহমদনগর আবদুল আজিজ ফাজিল মাদ্রাসায় অফিস সহায়ক ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। আজ শুক্রবার ১৬, অক্টোবর মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী এক প্রার্থী নিজেকে যোগ্য দাবি করে ফলাফলে অকৃতকার্য দেখানোর অভিযোগ তুলেছেন। এ ঘটনায় নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল এবং নতুন নিয়োগ বোর্ড গঠনের মাধ্যমে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ওই প্রার্থী।
মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, সরকারি বিধি মোতাবেক সৃষ্টপদে একজন অফিস সহায়ক ও একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগের জন্য দৈনিক নয়া দিগন্ত ও দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে জেডিসি, জেএসসি অথবা কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক সমমানের সনদের কথা উল্লেখ করা হয়।
প্রার্থীদের বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয় ১৮ থেকে ৩৫ বছর। তবে ইনডেক্সধারীদের ক্ষেত্রে বয়সসীমা শিথিলযোগ্য বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ ছিল। উভয় পদের বেতন স্কেল নির্ধারণ করা হয় ৮ হাজার ২৫০ টাকা। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ ১৫ দিনের মধ্যে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ বরাবর আবেদন করতে বলা হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অফিস সহায়ক পদে ছয়জন আবেদন করেন। তাঁদের মধ্যে চারজন নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেন।
অন্যদিকে পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে সাতজন আবেদন করলেও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন পাঁচজন। নিয়োগ বোর্ডে উপস্থিত ছিলেন মাদ্রাসার পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি তাজুল ইসলাম, সহসভাপতি নুরুল ইসলাম, অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিদর্শক ও মহাপরিচালকের (ডিজি) প্রতিনিধি মোহাম্মদ নুরুল করিম এবং শিক্ষক প্রতিনিধি ফেরদাউস আক্তার।
পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রার্থী কোহিনুর আক্তার অভিযোগ করে বলেন, আমার পরীক্ষা ভালো হয়েছে। এরপরও আমাকে অকৃতকার্য দেখানো হয়েছে। এতে আমি হতাশ হয়েছি। নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে আমার প্রশ্ন রয়েছে।
আমি চাই, বর্তমান নিয়োগ বোর্ড বাতিল করে নতুন নিয়োগ বোর্ড গঠন করা হোক এবং নতুন করে পরীক্ষা নেওয়া হোক। এতে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে এবং প্রকৃত যোগ্য প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পাবেন।
তবে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে নিয়োগ বোর্ডের সদস্য মাদ্রাসা অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম কে বারবার ফোন দিয়ে বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী প্রার্থী ও স্থানীয় এলাকাবাসী।

নিজস্ব প্রতিনিধি