ছয় ছেলে ও চার মেয়ের মা ৮০ বছরের জয়নব বানু। জীবনের শেষ সময়ে তাঁর চাওয়া, মরহুম স্বামীর রেখে যাওয়া ভিটায় ছোট্ট একটি ঘর করে দিলে সেখানেই বাকি জীবন কাটাবেন। কিন্তু ১০ সন্তান থাকা সত্ত্বেও স্থায়ী আশ্রয় নিয়ে অনিশ্চয়তায় দিন কাটছিল তাঁর। এমন পরিস্থিতিতে বৃদ্ধার পাশে দাঁড়িয়েছেন শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মনিরা খাতুন। আপাতত দুই মাসের জন্য ছেলের বাড়িতে তাঁর থাকার ব্যবস্থা করেছেন তিনি। তবে স্থায়ী আশ্রয়ের অপেক্ষা এখনো শেষ হয়নি জয়নবের।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার চিতোষী পূর্ব ইউপির কাদরা পূর্বপাড়ায় সৈয়দ আহম্মেদের বাড়িতে গিয়ে জয়নব বানুর খোঁজখবর নেন ইউএনও। পরে তাঁকে নিয়ে ছেলে আনোয়ার হোসেনের বাড়িতে যান। আনোয়ার সৌদি আরবপ্রবাসী। তাঁর স্ত্রী হাজেরা বেগমের তত্ত্বাবধানে আপাতত দুই মাস বৃদ্ধার থাকার ব্যবস্থা করে দেন ইউএনও। জয়নব বানু জানান, তিনি স্বামীর ভিটা ছেড়ে অন্য কোথাও যেতে চান না। ছেলেরা সেখানে একটি দুচালা ঘর করে দিলে পরিচিত পরিবেশেই জীবনের শেষ দিনগুলো কাটাতে পারবেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার বাড়িতে ফিরে ছেলে মনির হোসেনের ঘরের দরজায় সকাল সাড়ে ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত বসে ছিলেন জয়নব। সেখানে থাকার ব্যবস্থা না হওয়ায় একপর্যায়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে রাস্তায় ঘোরাফেরা করতে থাকেন। পরে এক পথচারী তাঁর পরিচয় জেনে একই গ্রামের বাসিন্দা ঝরণা খাতুনের বাড়িতে পৌঁছে দেন। সেখানে চার দিন থাকার পর বিষয়টি ইউএনওর নজরে আসে। এরপরই বৃদ্ধার সাময়িক আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে উদ্যোগ নেন তিনি।জয়নবের স্বামী সৈয়দ আহম্মেদ ১৯৯৮ সালে মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর সময় তাঁর ছোট ছেলে ঈমাম হোসেন মায়ের গর্ভে সাত মাসের সন্তান ছিলেন। ছয় ছেলের মধ্যে বড় ছেলে শাহাজাহান শারীরিক প্রতিবন্ধী। দ্বিতীয় ছেলে আবুল কাসেম দেশে ট্রাক চালান। অন্য ছেলেদের মধ্যে আনোয়ার, আনিছুর রহমান, মনির ও ঈমাম সৌদি আরবপ্রবাসী। চার মেয়ের মধ্যে কয়েকজন একই এলাকায় বসবাস করেন।
ইউএনও মনিরা খাতুন বলেন, বার্ধক্যে একজন মানুষের নিরাপদ আশ্রয়, যত্ন ও সম্মান পাওয়া অত্যন্ত জরুরি। জয়নব বানুর পরিস্থিতি জানার পর তাঁর আপাতত থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাঁর দীর্ঘমেয়াদি আবাসনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার পথ খুঁজে দেখা হবে। নিরাপদ আবাসনে সর্বাত্মক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে দুই মাসের আশ্রয় মিললেও এরপর কোথায় থাকবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন জয়নব বানুর। স্বামীর রেখে যাওয়া ভিটায় একটি ছোট ঘর নির্মাণ করে দেওয়াই এখন তাঁর প্রত্যাশা। এ বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সম্পত্তির অবস্থা ও স্থায়ী আবাসন না হওয়ার কারণও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে পারিবারিক বিরোধ বা কারও দায় সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
ইউএনওর প্রশংসনীয় উদ্যোগে আশ্রয় নিশ্চিত হলেও জয়নবের স্থায়ী আবাসনের বিষয়টি এখনো অমীমাংসিত বলে স্থানীয়রা মনে করছেন । এখন স্থানীয়রা জয়নবের তাঁর প্রত্যাশা, স্বামীর ভিটায় ছোট্ট একটি ঘর হবে, যেখানে জীবনের শেষ দিনগুলো নিরাপদে ও সম্মানের সঙ্গে কাটাতে পারবেন তিনি ।

মোঃ মাসুদ রানা