চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের লোধেরগাঁও এলাকায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মহামায়া বাজারে সুপার শপে হামলা, ভাঙচুর ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে।
এ সময় দোকানের ক্যাশ কাউন্টার থেকে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা লুটের দাবি করে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন রাশেদ পাটওয়ারী। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে হামলা ও মারধরের দৃশ্য দেখেছেন বলে জানিয়েছেন তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা। তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিবাদী পক্ষের পারভেজ পাটওয়ারী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ অক্টোবর নিজেদের জমিতে সীমানা অনুযায়ী মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরদিন ৩১ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাশেদ পাটওয়ারীর বাবা আব্দুল লতিফ পাটওয়ারী বিরোধপূর্ণ জায়গা দেখতে গেলে তাঁকে গালিগালাজ ও ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। পরদিন রবিবার (১ নভেম্বর) বিকেলে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক সড়কের পাশে রাশেদ পাটওয়ারীকে একা পেয়ে মারধর করেন।পরে সাড়ে ৫টার দিকে দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড, দা, ছেনি ও বাঁশসহ একদল লোক রাশেদ পাটওয়ারীর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠা ঘরের বাজার সুপার শপে প্রবেশ করে। সেখানে রাশেদ, তাঁর ভাই সাহেদ ও দোকানের কর্মচারীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে ব্যাপক মারধর এবং দোকানের মালামাল ভাঙচুর করা হয়।
হামলায় কয়েকজন আহত হন। পরে তাঁদের চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ সময় দোকানের ক্যাশ কাউন্টারে থাকা নগদ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পর এদিন রাতেই মোস্তফা পাটওয়ারী, ফয়েজ পাটওয়ারী, পারভেজ পাটওয়ারী, বাতেন পাটওয়ারী ও মোবারক পাটওয়ারীকে আসামী করে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন রাশেদ পাটওয়ারী। তাঁদের সঙ্গে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন হামলায় অংশ নেন বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত পারভেজ পাটওয়ারীর সঙ্গে কথা হলে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, তাঁদের সঙ্গে রাশেদ পাটওয়ারীদের জায়গাজমি নিয়ে পারিবারিক বিরোধ রয়েছে। মহামায়া বাজারে তাঁর বাবার ওপর রাশেদ পাটওয়ারীরা আক্রমণ করেছেন বলে দাবি করেন তিনি। পরে এ বিষয়ে জানতে তারা রাশেদ পাটওয়ারীদের কাছে যান। হামলা ভাঙচুরের ঘটনা অস্বীকার করে পারভেজ পাটওয়ারী বলেন, ফুটেজটি রাশেদ পাটওয়ারীরা নিজেরাই তৈরি করেছেন। তাঁদের পক্ষ থেকে কেউ হামলা করেননি। শুধু কথা-কাটাকাটি হয়েছে।
এদিকে ঘটনার পর থেকে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন রাশেদ পাটওয়ারীর পরিবার। তাঁদের দাবি, হামলার পরও অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে বাড়ির সামনে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অবস্থান এবং হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের নিকট দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা চাঁদপুর সদর মডেল থানার এসআই শাহজাহান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছেন। দোকানে হামলা ও মারধরের দৃশ্য সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে দেখেছেন। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে বসে উভয়পক্ষকে মীমাংসার জন্য বলেছেন। স্থানীয়ভাবে সমাধান না হলে আইনের মাধ্যমে মীমাংসা করা হবে বলেও জানান তিনি। তারপরও আমি ওসি সাহেবকে বিষয়টি অবগত করবো। এ বিষয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ফয়েজ আহমেদ এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঢাকায় অবস্থান করায় অভিযোগের বিষয়ে অবগত নন।

মাঈনুল ইসলাম