চাঁদপুরে নিজেদের জমি বিক্রি করতে না চাওয়ায় হয়রানি ও লাঞ্চিতের অভিযোগ তুলছেন একটি অসহায় পরিবারের সদস্যরা। এরা শহরের ১৪নং ওয়ার্ডের বাবুরহাটস্থ দক্ষিণ দাসাদী আবুল কালাম সড়ক এলাকার বাসিন্দা। যদিও প্রতিপক্ষরা বলছেন, আমরা শুধু চলাচলের রাস্তা চেয়েছি, প্রয়োজনে টাকা দিয়ে কিনে নিবো বলাতেই এই হট্টগোল।
১ নভেম্বর রোববার বিকালে দু’পক্ষের উত্তেজনাপূর্ন অবস্থার মধ্যেও ঘটনাস্থলে গেলে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে এসব কথা তারা তুলে ধরেন।
জমির মালিক শাহানুর নামে এক বৃদ্ধা নারী বলেন, আমরা অসহায় পরিবার। এই জায়গা আমার নামে। এখানে কবরস্থান করতে ইটের গাঁতুনি দিচ্ছিলাম। এরমধ্যেই পাশের বাড়ির কয়েকজন এসে আমাদের ইটের গাঁতুনি ভেঙ্গে ফেলে। এমনকি আমাদের ঘরের বউ-ঝি-সন্তানদের মারধর করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে। আমরা এদের বিচার দাবী করছি।
একই বাড়ির ফাতেমা আক্তার সুমি বলেন, এটা আমাদের জায়গা। পাশের বাড়ির শাহদাৎ, শরিফ এরা পেশীশক্তি ও অর্থ শক্তির প্রভাবে জোড়পূর্বক এখান দিয়ে রাস্তা বের করতে চায়। তারা আগে পুকুরের পাড় দিয়ে যেতো। এখন এখান দিয়ে জোড় করে যেতে চাচ্ছে। আমাদের জমি তাদের কাছে বিক্রি করতে বাধ্য করতেও চাচ্ছে। কিন্তু আমরা বিক্রি করতে না চাওয়াতেই তারা আমাদের মারধর করেছে। শুধু তাই নয়, একাধিক গণমাধ্যমে ভূয়া তথ্য দিয়ে অপপ্রচার করিয়ে আমাদের মানসিকভাবে হয়রানি ও শারিরীকভাবে লাঞ্ছিত করে যাচ্ছে। আমরা এর প্রতীকার চাই।
লুবনা নামে আরেক নারী বলেন, আমরা এখন ওদের ভয়ে বাড়িতে নিরাপত্তাহীনতায় জীবনযাপন করছি। ওরা মোটরসাইকেল নিয়ে দলবলসহ মহড়া দিচ্ছে। আমাদের ঘরে সবাই মহিলা ও শিশু। তাই প্রতিনিয়তই হুমকি ধমকিসহ মারধর করে প্রতিপক্ষরা। আমরা একাধিকবার শালিশ বৈঠক ও আদালতমুখী হয়েও ওদের প্রভাবে আইনগত পর্যাপ্ত সহায়তা পাচ্ছিনা।
এদিকে ঘটনাস্থলে গেলে গণমাধ্যমকর্মীদের ভিডিও ধারণ করে তাদের মানসিক হেনস্তা করার চেষ্টা করেন প্রতিপক্ষের শরিফ পাটোয়ারী। তিনি হন্তদন্ত হয়ে নিজেকে একজন ব্যবসায়ী দাবী করে বলেন, এখানে আমরা টাকা দিয়ে রাস্তা করেছি। ওরা সেই রাস্তায় ইটের দেয়াল উঠানোর চেষ্টা করায় আমাদের চলাচলের ক্ষতি হচ্ছিলো বলে ভেঙ্গে ফেলেছি। গণমাধ্যমকর্মীদের ভিডিও ধারণ করার কারন কি? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এখানে কারা এলো তার জন্য এমনিই ভিডিও নিলাম।
শরিফ পাটোয়ারীর একই পক্ষের শাহদাত পাটোয়ারী বলেন, আমরা এখান দিয়ে অনেক বছর চলাচল করছি। এখন এখান দিয়ে রাস্তা বন্ধ করতে চায় প্রতিপক্ষরা। এতে আমাদের চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় পিলার ভেঙ্গেছি। ওদের বলেছি, প্রয়োজনে টাকা দিয়ে রাস্তার জায়গাটুকু কিনে নিবো। ওরা তা না দিয়ে উল্টো মামলা দিয়ে আমাদেরকে হয়রানি করেছে। এসময় তিনি প্রতিপক্ষকে কোনরূপ মারধর করেননি বলে নিজেকে নির্দোষ দাবী করেন।
চাঁদপুর সদর মডেল থানার ওসি ফয়েজ আহমেদ বলেন, এই জমির ঘটনায় এখনো আদালতে মামলা চলছে। তবে কেউ শান্তি শৃঙ্খলার অবনতির চেষ্টা করলে এবং আমাদের কাছে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নিজস্ব প্রতিনিধি