স্টাফ রিপোর্টার : হাইমচর উপজেলার সাবেক ছাত্রলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সদস্য ফখরুদ্দিন আলী আহমেদকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টার ঘটনায় ৬ জনের নাম উল্লেখ করে মামলার করেছেন ভুক্তভোগীর ছোট ভাই গিয়াস উদ্দিন।
গত ০২ -০৫-২০২২ তারিখে চাঁদপুর মডেল থানায় এ মামলা করা হয়। আসামীরা হলেন,চাঁদপুর সদর উপজেলার ভাইস-চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী বেপারী (৪৮), মো. সাইফুদ্দিন বাবু (৪৮), চাঁদপুর জেলা যুবলীগে যুগ্ম আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান (৫২), চাঁদপুর পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রবিন পাটওয়ারী(৩৫), মো. ইউসুফ গাজী মুন্না (২৫), জেলা ছাত্রলীগের নেতা সরোয়ার হোসেন(২০)। এছাড়াও মামলায় ৪০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানাজায়, চাঁদপুরের ভূমি দস্যুদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ায় জেলা প্রসাশক (ডিসি) অঞ্জনা খাঁন মজলিশকে অভিনন্দন জানিয়ে গত ২৮ এপ্রিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করেন ফখরুদ্দিন আলী আহমেদ। ও্ই দিন বিকেল সাড়ে ৫ টায় চাঁদপুর জোর পুকুর পাড় ফখরুদ্দিন আলী আহমেদকে একা পেয় আসামিরা অতর্কিত হামলা করে। ৪নং আসামি ধারালো রাম দা দিয়ে এলোপাথারী কোপ দিতে থাকে। অন্য আসামিরা কিল, ঘুষি, চর, থাপ্পর ও হকিস্টিক দিয়ে বাড়ি মেরে হত্যার চেষ্টা করে।
ফখরুদ্দিন আলী আহমেদের ডাক চিৎকার শুনে আশেপাশের লোকজন এসে আশংকাজনক আবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চাঁদুপর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। লোকজন চলে আসলে আসামীরা পালিয়ে যায়। পালানোর সময় তারা হুমকি দিয়ে যায়। হুমকিতে তারা বলেন, চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের পক্ষ হয়ে ফেসবুকে পোষ্ট দিলে ও অভিনন্দন জানালে তাদের পরিবারের লোকজনদেরকে মেরে মেঘনা নদীতে ফেলে ইলিশ মাছকে খাওয়ানো হবে।
মামলার বাদী আওয়ামীলীগ নেতা গিয়াস উদ্দিন জানান, আমার ভাইকে মেরে পেলার উদ্দেশ্য হামলা করা হয়। ভাইয়ের চিৎকারে লোকজন এগিয়ে আসলে তারা ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। লোকজন ফখরুদ্দিন ভাইকে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে অভিযুক্তরা সেখানেও তাকে হত্যার পাঁয়তারা করলে তিনি হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়। সেখানের কর্তব্যরত চিকিৎসক আহত উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়।
চাঁদপুরের হাইমচরে আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে কর্মী ও ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ফখরুদ্দিন আলী আহমেদের ওপরের হামলার ঘটনায় নেতাকর্মীদের মাঝে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। হামলার ঘটনায় চাঁদপুর জেলা আওয়ামীলীগ তীব্র নিন্দা ও প্রতাবাদ জানিয়েছেন। এছাড়াও অনেকেই এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
অভিযুক্তদের বিচার চেয়ে মানববন্ধনও করেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।
মানববন্ধনে অংশ নেন হাইমচর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মজিবুর রহমান, সদস্য আ. খালেক আখন, বিল্লাল বেপারী, হাইমচর উপজেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম পাটোয়ারী, হাইমচর সরকারি ডিগ্রী কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি রুবেল মিয়া, সাধারণ সম্পাদক মামুন হোসেনসহ স্থানীয়রা।

অনলাইন ডেস্ক