মোঃ রাছেল : চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার সাচার ইউনিয়নের উজান ছিনাইয়া গ্রামের সংখ্যালঘু একটি পরিবার ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে চাঁদা বাজির মামলা করে নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছে। ভূক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, সাচারের উজান ছিনাইয়া গ্রামে সুভদ্রা সূত্রধর নিজ ভূমিতে ঘর ও মন্দির নির্মাণ করাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা সুভদ্রা সূত্রধর এর কাছ থেকে চাঁদা দাবি করে। তাদের কাছ থেকে বার বার অনুনয় বিননয় করেও চাঁদা না দেওয়া থেকে রক্ষা পাচ্ছে না পরিবারটি।
গত ১৪ মে স্থানীয় অধিবাসী মোঃ হোসেন , হাবিব মিয়া, সুমন ও শুভ মিলে বিকেলে জোর পূর্বক সুভদ্রা সূত্রধরের বোনের ছেলে রতন চন্দ্র দাসকে তাদের বাড়ি থেকে জোর পূর্বক স্থানীয় ইউপি সদস্য বিল্লাল হোসেনের কার্যালয়ে নিয়ে আসে। পরে রতন চন্দ্রকে ছাড়িয়ে নিতে ১লক্ষ টাকা মুক্তিপন দাবী করে বিল্লাল হোসেন। টাকা দিতে অস্বীকার করায় রতকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়।
সুভদ্রা সূত্রধর বিল্লাল মেম্বারের হাতে পায়ে ধরেও রতনকে ছাড়িয়ে নিতে পারেনি। বরং টাকা না দিলে রতনকে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলবে বলে হুমকিদেয়।
কোন উপায় না পেয়ে সুভদ্রা সূত্রধর তার বোনের ছেলে রতনকে উদ্ধার করার জন্য সাচার পুলিশ ক্যাম্পে গিয়ে পুলিশ সদস্যদেরসহযোগিতা চায়। পুলিশ রতনকে উদ্ধার করার জন্য ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। ততক্ষণে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বিল্লাল ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে রতনকে নিয়ে অন্যত্র চলে যায়। পরে পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে রতনকে উদ্ধার করে সাচার পুলিশ ফাড়িতে ক্যাম্পে নিয়ে আসে।
সুভদ্রা সূত্রধর ওইদিনে সাচার পুলিশ ফাঁড়িতে বিল্লাল গংদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে চাইলে পুলিশ মামলা না নিয়ে আদালতেরশরনাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেন।কোন উপায় অন্তর না পেয়ে সুভদ্রাবাদী হয়ে চাঁদার দাবিতে মারধরের অভিযোগ এনে গত ১৮ মে চাঁদপুরের বিজ্ঞ আমলী আদালত, কচুয়ায় ইউপি সদস্য বিল্লাল হোসেনকে প্রধান আসামী করে ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। (মামলা নং সি আার-২৩০ / ২০২২ইং)।
এইদিকে মামলা দায়ের করে বিপাকে পড়েছেন সুভদ্রা সূত্রধর ও তার পরিবারের সদস্যরা। আসামীরা প্রতিনিয়ত সুভদ্রা ও তার পরিবারের সদস্যদেরকে বিভিন্ন ভয়Ñভীতি দেখিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে সুভদ্রা তার দুই কন্যা ও এক ছেলেকে নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এমনি অবস্থায় সুভদ্রা ও তার পরিবার জীবনের নিরাপত্তার জন্য চাঁদপুরের পুলিশ সুপার, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর নিকট অত্যাচারী জুলুম বাজ ইউপি সদস্য বিল্লাল হোসেন ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
এ ব্যাপারেস্থানীয় ইউপি সদস্য বিল্লাল হোসেন বলেন,রতন চন্দ্র সূত্রধরের নিকট চাঁদা দাবি ও মারধরের ঘটনার সাথে আমি জড়িত নই।
মামলার বাদী সুভদ্রা সূত্রধর জানান, বিজ্ঞ আদালত আমার মামলা করার পর ইউপি সদস্য গংরা বিভিন্ন ভাবে আমাকে হুমকি ধুমকি দিচ্ছে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য।
কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিউদ্দিন বলেন,সুভদ্রা সূত্রধর বাদী হয়ে কোর্টে মামলা দায়ের করেন, তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অনলাইন ডেস্ক