প্রকাশের সময়: সোমবার, ২৩ মে, ২০২২ । ১২:৫৯ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

মাত্র ১৯ দিনে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ১১ হাজার কোটি টাকা

অনলাইন ডেস্ক

আবারও আলোচনায় প্রবাসী আয়। মাত্র ১৯ দিনে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ১১ হাজার কোটি টাকা। এর ফলে আবার ৪২ বিলিয়ন ডলারের ঘর ছুঁয়েছে আমাদের রিজার্ভ। বর্তমান আমদানি ব্যয় অনুযায়ী এই টাকায় আরও ৬ মাসের আমদানির ব্যয় মেটানো সম্ভব। সাধারণত তিনমাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সক্ষমতা থাকলেই সে দেশের রিজার্ভ নিরাপদ বলে গণ্য করা হয়।

তবে সমস্যা হচ্ছে অন্য জায়গায়। বাংলাদেশের রিজার্ভ যখন বেশি ছিল, তখন রিজার্ভ থেকে বিভিন্ন প্রকল্পে ঋণ দিয়েছিল সরকার। এর সাথে শ্রীলঙ্কাকে দেয়া ঋণও আছে। আন্তর্জাতিক রীতি অনুযায়ী ঐসব টাকা রিজার্ভ থেকে বাদ দিয়ে নিট রিজার্ভ হিসাব করার কথা। আইএমএফ এর দাবিও তাই। সেটা বাদ দিলে আমাদের রিজার্ভ দাঁড়ায় ৩৪ বিলিয়ন ডলার। এই পরিমান রিজার্ভও এই মুহুর্তে নিরাপদ। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে এসব বাদ দিতে নারাজ।

আশার কথা হচ্ছে, সামনেই কোরবানির ঈদ। প্রবাসীরা দেশে কোরবানি দেয়ার জন্য অনেক টাকা পাঠাচ্ছেন। সেটা স্বাভাবিক সময়ের চাইতে বেশি৷ তাই আগামী কিছুদিন রিজার্ভ আরও বাড়বে এটা অনেকটা নিশ্চয়তা দিয়েই বলা যায়।

বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা হবে না মূলতঃ দুটি কারণে।

এক. শ্রীলঙ্কার অনেক সমস্যার সাথে তারা ফসল উৎপাদনে রাসায়নিক সার ব্যবহার জিরো কোটায় নামিয়ে এনেছিল। ফলে উৎপাদন ব্যাপকভাবে হ্রাস পায়। এই ঘাটতি মেটাতে হতো আমদানি করে। কিন্তু তাদের কাছে আমদানি করার মত ব্যাপক পরিমান অর্থ ছিল না।

দুই. আমাদের যেমন প্রবাসীরা আছেন, তারা রেমিট্যান্স পাঠান। ফলে করোনার সময়ও আমাদের রিজার্ভ সঙ্কটে পড়েনি৷ শ্রীলঙ্কার এক্ষেত্রে আয় ছিল পর্যটন নির্ভর। করোনার কারণে পর্যটন আয় জিরো হয়ে যাওয়ায় তাদের রিজার্ভে ধ্বস নামে।

এই দুটো বিষয় সামাল দেয়ার জন্য তাদের পূর্ব প্রস্তুতি ছিল না। বিশ্বের প্রথম রাসায়নিক মুক্ত দেশ হতে গিয়ে দেশটার অস্তিত্ব সংকটে পড়বে এটা তারা সময়সমত ভাবেনি। বাংলাদেশে এসব কারণ মোটেই নেই।

(নোটঃ আমি অর্থনীতিবিদ নই। কিন্তু প্রতিদিন অর্থনীতি সংক্রান্ত সংবাদ সম্পাদনা করতে গিয়ে বাধ্য হয়ে কিছু শিখতে হয়, তার আলোকেই লেখা। সহজ ভাষায় লেখার জন্য অর্থনীতির টার্মগুলো উল্লেখ করিনি। প্রতিদিন-ই কেউ না কেউ জানতে চান বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা হবে কিনা, তার জন্যই ছোট্ট নিবেদন)।

  • লেখক পরিচিতি : রাশেদ শাহরায়িার পলাশ, সম্পাদক- দৈনিক বাণিজ্য প্রতিদিন

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন