প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ৭ জুন, ২০২২ । ৩:১৪ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

সাহিত্য একাডেমী, চাঁদপুর সম্পর্কে যা জানা প্রয়োজন (পূর্ব প্রকাশিতের পর)

অনলাইন ডেস্ক

::: কাজী শাহাদাত :::
॥ সাত ॥
সাহিত্য একাডেমী, চাঁদপুর-এর সভাপতি হিসেবে জেলা প্রশাসক মোঃ মাজেদুর রহমানের কর্মকালে (২০১৮-২০২১) উল্লেখযোগ্য কিছু কাজ হয়েছে। ২০১৩ ও ২০১৪ সালের ন্যায় সাহিত্য একাডেমী পুরস্কারের আয়োজন করা না গেলেও ভিন্ন আঙ্গিকে এ পুরস্কার আয়োজন সম্ভব হয়েছে ২০১৯ সালে। এটির নাম দেয়া হয় ‘পাঞ্জেরী-সাহিত্য একাডেমী পুরস্কার-২০১৯’। এজন্যে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে পাণ্ডুলিপি আহ্বান করা হয়। সে মতে প্রাপ্ত পাণ্ডুলিপিগুলো যাচাই-বাছাই করা হয়। ২০২০ সালের ৩০ জানুয়ারি পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি. ঢাকা-এর চেয়ারম্যান কামরুল হাসান শায়ক ও সাহিত্য একাডেমী, চাঁদপুর-এর মহাপরিচালক কাজী শাহাদাত এক যৌথ ঘোষণায় বলেন, পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি. ও চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমীর যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ‘পাঞ্জেরী-সাহিত্য একাডেমী পুরস্কার-২০১৯’-এর জন্যে কবি সাম্মি ইসলাম নীলার কবিতার পাণ্ডুলিপি ‘ধীরে এসো বসন্ত’ মনোনীত হয়েছে। এর স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এই পুরস্কার প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২০২০-এ পাণ্ডুলিপিটি ‘পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি.’ থেকে বই আকারে প্রকাশিত হবে।’ পরে এ পাণ্ডুলিপিটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় এবং সুধী সমাজে প্রশংসিত হয়।

এ পুরস্কারের পূর্বেই সাহিত্য একাডেমীর মাধ্যমে জেলা প্রশাসক পাণ্ডুলিপি পুরস্কার ২০১৮-এর জন্যে পাণ্ডুলিপি আহ্বান করা হয়। এ আহ্বানে সাড়া দেন চাঁদপুরের অনেক লেখক। তাদের পাণ্ডুলিপি বাছাই করে কবি ইকবাল পারভেজের কাব্যগ্রন্থ ‘নদী পাঠ’ ও সৌম্য সালেকের ‘শব্দ চিত্র মত ও মতবাদ’ উক্ত পুরস্কারের জন্যে মনোনীত হয়। এ দুটি গ্রন্থ প্রকাশের পর প্রধান অতিথি হিসেবে তৎকালীন এমপি বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনির উপস্থিতিতে ২০১৯ সালের ১ অক্টোবর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উক্ত পুরস্কার প্রদান করা হয়।

সাহিত্য একাডেমীর উদ্যোগে দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টিকারী সেমিনার ও সাহিত্য আড্ডা অনুষ্ঠিত হয় ২০১৯ সালের ২০ নভেম্বর চাঁদপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে। সেমিনারের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিলো ‘মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন : প্রগতির ধ্রুবতারা’। এতে জেলা প্রশাসক মোঃ মাজেদুর রহমান খান উদ্বোধক এবং একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি অসীম সাহা মূল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। চাঁদপুরের কৃতী সন্তান সওগাত সম্পাদক নাসিরউদ্দীনকে নিয়ে তাঁর মরণোত্তর এমন সেমিনার ছিলো শুধু চাঁদপুরে নয়, দেশের মধ্যে ছিলো উল্লেখযোগ্য ও অর্থবহ।

সাহিত্য একাডেমীর ৭৭টি সাহিত্য আসরের ৬০তম সংখ্যাপূর্তি তথা পাঁচ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানটি হয় জেলা প্রশাসক মোঃ মাজেদুর রহমানের কর্মকালেই। ২০২০ সালে তিনি মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি সমৃদ্ধ স্মারকগ্রন্থ প্রকাশের উদ্যোগ নেন। কিন্তু তাঁর স্ত্রীর অসুস্থতাসহ অনিবার্য কিছু কারণে সে গ্রন্থটি প্রকাশ করা আর সম্ভব হয়নি। তবে সাহিত্য একাডেমীকে মুজিব শতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে স্মারকগ্রন্থ প্রকাশের জন্যে পৃষ্ঠপোষকতা করেন। তাঁর একক পৃষ্ঠপোষকতায় তাঁর কর্মকালে এ গ্রন্থটি প্রকাশ করা সম্ভব না হলেও তাঁর বিদায়ের পর ২০২১ সালের আগস্ট মাসে সেটি প্রকাশিত হয়। যার নাম ‘সুবর্ণ-শতক’।

১৫২ পৃষ্ঠার এ গ্রন্থটি সুধী-বোদ্ধা মহলের বেশ সমাদৃত হয়। অমর একুশের গানের গীতিকার, প্রখ্যাত সাংবাদিক ও লেখক আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী, শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি, বাংলা একাডেমির চেয়ারম্যান সেলিনা হোসেন, মুজিব শতবর্ষ উদ্যাপন জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব কবি কামাল চৌধুরী, প্রখ্যাত শিশুসাহিত্যিক ফারুক হোসেন, জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশসহ বিদগ্ধজনের তথ্যবহুল লেখা ছাপা হয়েছে এ গ্রন্থে। যেটি ১৯৮৬ সালে সাহিত্য একাডেমী প্রতিষ্ঠার পর একাডেমীর সবচে’ সমৃদ্ধ গ্রন্থ বলে বিবেচিত।

সাহিত্য একাডেমীর ভবন সংস্কারে ও উন্নয়নে জেলা প্রশাসক মাজেদুর রহমান খানের সময়ে ২০২০-২১ অর্থবছরে সবচে’ বেশি অর্থ বরাদ্দ (চার লাখ টাকা) পাওয়া যায় জেলা পরিষদ, চাঁদপুর থেকে। তিনি একাডেমীর প্রায় লাখ টাকা বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের ব্যবস্থা করেন। তিনি আয়বর্ধক প্রকল্প হিসেবে অলাভজনক গাড়ির গ্যারেজের পরিবর্তে লাভজনক প্রকল্প হিসেবে ‘গোডাউন’ নির্মাণের ব্যবস্থা করেন। তাঁর কর্মকালে ২০২০ সালের ৮ মার্চ থেকে করোনা শুরু হওয়ায় তিনি সাহিত্য একাডেমীর নিয়মিত মাসিক সাহিত্য আসর বন্ধ করার পরামর্শ দিলেও স্থানীয় লেখকদের নানাভাবে প্রণোদনা দেন। তিনি সাহিত্য একাডেমীর নির্বাহী পরিষদের সভা ও সাধারণ সভা আহ্বানে সময় না দিলেও এই একাডেমীর সার্বিক কার্যক্রমের দেখভালে ছিলেন অনেক আন্তরিক। লেখকবান্ধব জেলা প্রশাসক হিসেবে তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন অনেক দিন।

সভাপতি মাজেদুর রহমান খানের পর পদাধিকার বলে সাহিত্য একাডেমীর সভাপতি হন সদ্যবিদায়ী জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ। করোনার প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় সাহিত্য একাডেমী কেনো, অন্য যেসব সংগঠন/প্রতিষ্ঠানের তিনি সভাপতি ছিলেন, সেগুলোর সভা আহ্বানসহ আনুষঙ্গিক কার্যক্রমে সময় দিতে পারেননি। করোনার প্রকোপ কমলে তাঁর দেয়া সময়ে দীর্ঘদিন পর সাহিত্য একাডেমীর নির্বাহী পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হয় ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১ তারিখে। পরদিন ১ অক্টোবর চাঁদপুর রোটারী ভবনে অনুষ্ঠিত হয় ‘সুবর্ণ-শতক’ গ্রন্থের জমজমাট পাঠ পর্যালোচনা অনুষ্ঠান। সরকারের অবসরপ্রাপ্ত সচিব দেশের প্রখ্যাত শিশুসাহিত্যিক ফারুক হোসেন প্রধান অতিথি ছিলেন সে অনুষ্ঠানে। সভাপতিত্ব করেন একাডেমীর সভাপতি হিসেবে অঞ্জনা খান মজলিশ। তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় এ অনুষ্ঠানটি ছাড়াও ২৪ নভেম্বর ২০২১ তারিখে নবান্ন উৎসব, এ উৎসব সংক্রান্ত প্রকাশনা ‘ঋতুশ্রী’, ‘সুবর্ণ-শতক’ পর্যালোচনা ও পাঠ প্রতিযোগিতা, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মাঝে দেয়ালিকা প্রতিযোগিতা, নবান্ন বিষয়ক কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতা এবং একাডেমীর পক্ষে সুদৃশ্য দেয়ালিকা প্রকাশ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

একই বছরের ১৪ ডিসেম্বর চাঁদপুর বিজয়মেলা মঞ্চে সাহিত্য একাডেমী চাঁদপুর-এর পক্ষ থেকে কবিতা পাঠের আসর অনুষ্ঠিত হয়। শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস ও মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ আসরে চাঁদপুরের নবীন-প্রবীণ লেখকরা অংশ নেন। ৩০ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার চাঁদপুর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতার বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়। এ মেলায় সাহিত্য একাডেমী, চাঁদপুর-এর স্টল ছিলো। এ স্টলে চাঁদপুরের লেখকদের বই প্রদর্শন ও বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়। অতীতে অত্যল্প সময়ে (প্রায় ৫ মাস) সাহিত্য একাডেমীর এতো কার্যক্রম আর কখনো হয়নি। (চলবে)

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন