সত্যরাম মজুমদারের মঠ চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলার নাওড়া গ্রামে অবস্থিত। যা আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের স্বাক্ষী হিসাবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।
ইতিহাস
তিন শতাধিক বছরের পুরনো এই মঠ সাহাপুর রাজবাড়ির দেওয়ান সত্যরাম মজুমদার ১৭৯১ সালে নির্মাণ করেন। তবে এর প্রতিষ্ঠাতাকে নিয়ে দ্বিমত রয়েছে। কারো কারো মতে এই মঠটির প্রতিষ্ঠাতা জমিদার শৈলনাথ মজুমদার, যিনি তার মায়ের সমাধির উপর স্মৃতিস্তম্ভ হিসেবে মঠটি নির্মাণ করেছিলেন।
১৯৭১ সালে আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় এই মঠটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল। আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে চাঁদপুরের শাহরাস্তি মুক্তের শেষ তিনদিন পশ্চিম পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী শেষ রক্ষায় এই মঠে ঢুকে পড়ে এবং যুদ্ধ চালিয়ে যায়। এসময় তাদেরকে তিনদিক থেকে মুক্তিযোদ্ধারা ঘিরে রাখে এবং বিরামহীন ভাবে গোলাবারুদ বর্ষন করতে থাকে। এক পর্যায়ে হানাদার বাহিনীর খাদ্য ও গোলাবারুদ শেষ হয়ে আসায় টিকতে না পেরে তারা আহত অবস্থায় মঠ থেকে বের হয়ে পাশের নাওড়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠদিয়ে পালিয়ে যাবার চেষ্টা করে। কিন্তু এসময় চারিদিকে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধের মুখে পড়ে তারা। এই যুদ্ধে মুক্তি বাহিনীর পক্ষে থাকা মিত্র বাহিনীর একজন ভারতীয় শিখ সৈনিক মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়েন এবং বহু মুক্তিযোদ্ধা আহত হন। এই যুদ্ধে অংশগ্রহনকারি ১৩ পাকিস্তানী বাহিনীর সৈনিকের মরদেহ ২টি গর্তে একটিতে ৭টি এবং অপরটিতে ৬টি একত্র করে নাওড়া রেলওয়ে সেতুর পাশে মাটি চাঁপা দেয়া হয়েছে। যা বর্তমান প্রজন্মের অনেকের কাছে অজানা।
আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে নাওড়া মঠের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এই এলাকার কীর্তি সন্তান সাবেক সচিব ও সমাজ সেবক ডঃ এম এ সাত্তার এর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এই মঠটি সংস্কারের জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগ দায়িত্ব নেয়। সেই থেকে এই মঠের সংস্কার এবং রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ঐ বিভাগই পালন করে আসছে।
বর্তমান অবস্থা
চাঁদপুর জেলা ব্র্যান্ডিংয়ের আওতায় বর্তমানে নাওড়া মঠকে নতুন আঙ্গিকে সাজানো হয়েছে।বর্তমানে এর আশপাশ পরিষ্কার পরিচ্ছন করে নতুন আঙ্গিকে পুনঃনির্মাণ করা হয়েছে।
লেখক পরিচিতি : মোঃ রুহুল আমিন, সম্পাদক দূর্বার নিউজ ২৪ ডটকম

অনলাইন ডেস্ক