প্রকাশের সময়: বুধবার, ৩ আগস্ট, ২০২২ । ৩:৪৩ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

এক শিক্ষকের ৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার ফাঁদ!

অনলাইন ডেস্ক

সাইফুল ইসলাম সিফাত : হাজীগঞ্জ উপজেলায় ১৫৮ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৫ হাজার ৫’শ টাকা করে শিশুদের খেলনা বিক্রি করছেন শিক্ষক মঞ্জুর আহমেদ হেলাল। ওই শিক্ষক চিলাচোঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

গত জুন মাসে প্রত্যেক প্রাক-প্রাথমিক শাখার জন্য ১০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেয় সরকার। হাজীগঞ্জ উপজেলায় ১৫৮ টি স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের একাউন্টে জমা হয় মোট ১৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

ওই টাকা দিয়ে প্রত্যেক স্কুলে শিশুদের কক্ষে খেলনা ক্রয় ও সৌন্দর্য্য বর্ধনের জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়। সকল প্রধান শিক্ষকদের ফোন করে মঞ্জুর আহমেদ ৫ হাজার ৫’শ টাকা জমা দিয়ে খেলনার প্যাকেট প্যাকেজে নেয়ার জন্য আহবান করেন। ওই সময় তিনি একাধিক প্রধান শিক্ষককে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের বরাত দিয়ে মালামাল ক্রয় করতে তাগিদ দেন।

কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরজমিনে গিয়ে সত্যতা মিলে। মাত্র ১৭’শ টাকার খেলনা দিয়ে ৫ হাজার ৫’শ টাকা নিয়ে গেলো শিক্ষক মঞ্জুর আহমেদ ও তার সাথে থাকা একটি চক্র।

সোমবার রামপুর ক্লাস্টারে কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আফতাব আহমেদ। তিনি ওই মালামালের সংখ্যা অনেক কম দেখেন এবং নিম্মমানের হওয়ায় এগুলো ফেরত দেয়ার নির্দেশ প্রদান করেন।

ইতোমধ্যে বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবু সাঈদ চৌধুরী সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ওই চক্র থেকে মালামাল ক্রয় না করতে জরুরী সর্তকর্তা বার্তা পাঠিয়ে দেয়। ওই বার্তায় বলা হয়েছে, প্রাক-প্রাথমিক এর মালামাল কোন ব্যক্তি বা সংস্থার নিকট থেকে সংগ্রহ বা ক্রয় করা থেকে বিরত থাকার জন্য হাজীগঞ্জ উপজেলার সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো। প্রাক-প্রাথমিক এর উপকরণ বা মালামাল সরবরাহের সাথে উপজেলা শিক্ষা অফিসার, সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারবৃন্দ অথবা উপজেলা শিক্ষা অফিস জড়িত নয়। এ বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ সকল শিক্ষককে অনুরোধ করা হয়।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবু সাঈদ চৌধুরী এ প্রসঙ্গে আরো বলেন, প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির শিখন-শেখানো সামগ্রী ক্রয় বা তৈরি বা শ্রেণি কক্ষ সজ্জিত করণের ক্ষেত্রে প্রতিটি বিদ্যালয়ে ৪ সদস্যে গঠিত বিদ্যমান কমিটির মাধ্যমে ক্রয় করতে হবে।

জানতে চাইলে মঞ্জুর আহমেদ শিশুদের খেলনা বিক্রয়ের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অল্প কিছু বিক্রি হয়েছে। তার সাথে কেউ জড়িত নেই বলে দাবী করেন। তবে তিনি দাবী করছেন, যারা প্যাকেজ নিয়েছে, তারা ১০ হাজার টাকার মধ্যে সাড়ে ৫ হাজার টাকা দিয়ে বাকী টাকা কি করেছে? সে বিষয়েও তদারকি করা প্রয়োজন।

ডাটরা শিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খিজির আহমেদ মুঠোফোনে বলেন, তার নামেই ২৬টি প্যাকেট এসেছে। এগুলো সবই মঞ্জুর আহমদ বিক্রি করেছে। ঢাকা চকবাজারের ব্যবসায়ী বলেন, তার কাছ থেকে তিনবার কিছু মালামাল নিয়েছে মঞ্জুর আহম্মেদ। আর কিছু বলতে রাজি নন তিনি।

প্রাক-প্রাথমিকে মিলেমিশে অনিয়মের চিত্র মিললেও রামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিলেছে ভিন্ন চিত্র। তারা প্যাকেজের ফাঁদে না পড়ে নিজেরাই ১০ হাজার টাকায় প্রাক-প্রাথমিকে সজ্জিত করেছে। একটি এক্যুরিয়াম ও দুই হাজার টাকায় শিশুদের খেলনা ক্রয় করেন।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ১৫৮ স্কুলে এই প্যাকেজ বিক্রি করলে মূল্য আসে আট লাখ ৬৯ হাজার টাকা। ১৭’শ টাকার এই প্যাকেজের দাম ৩৮’শ টাকা লাভে বিক্রি করলে মোট লাভ দাঁড়ায় ৬ লাখ ৪’শ টাকা। প্রাক-প্রাথমিকের ১০ হাজার টাকা হরিলুটের এই অপ-কৌশল শিক্ষকের কাছ থেকে কি শিক্ষা নিবে শিশুরা?

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন