প্রকাশের সময়: রবিবার, ১৩ নভেম্বর, ২০২২ । ১১:৫১ এম প্রিন্ট এর তারিখঃ রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

অন্তহীণ সমস্যায় চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথ; চরম দূর্ভোগে যাত্রী সাধারণ

অনলাইন ডেস্ক
মাসুদ হোসেন : আনন্দ ভ্রমণ আর নিরাপদ জীবন’ বাংলাদেশ রেলওয়ের যোগাযোগ ব্যবস্থা। কিন্তু দূর-দূরান্ত থেকে আসা যাত্রীদের জন্য বিশ্রামাগার ও টয়লেট না থাকায় যেমনি দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে, তেমনি লোকবলের অভাবে ভেঙ্গে পড়ছে চাঁদপুর রেলওয়ে স্টেশনের কার্যক্রম।
চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথের প্রায় সবগুলি রেলওয়ে স্টেশন নানা সমস্যায় জর্জরিত। এতে করে প্রতিনিয়ত যাত্রীরা পোহাচ্ছে চরম দুর্ভোগ। জনবল সংকটে এখানকার যাত্রী সেবার মান দিন দিন ভেঙ্গে পড়ছে। এদিকে চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও বর্তমানে লোকাল ট্রেন না থাকায় জনদুর্ভোগ যেমন বাড়ছে তেমনি গুরুত্ব হারাতে বসেছে জনপ্রিয় এ রেলপথটি। আন্তঃনগর মেঘনা এক্সপ্রেস ও সাগরিকা এক্সপ্রেস ট্রেন ছাড়া আর কোনো ট্রেন নেই এ রেলপথে।
গত কয়েক বছরে চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথের ব্যাপক উন্নয়ন হলেও বিভিন্ন স্টেশনে জনবল শূন্যতার সুযোগে রেলের বিভিন্ন আসবাবপত্র চুরিসহ ঘটছে নানা অপরাধ কর্মকাণ্ড। এ রুটের চারটি স্টেশনের নতুন ভবনও নির্মাণ হয়েছে। কিন্তু গত পাঁচ বছর ধরে এসব স্টেশন ভবন তালাবন্ধ করে রাখা হয়েছে। শুধু তাই নয়, এসব স্টেশনে নেই বুকিং সহকারী (স্টেশন মাস্টার), টিকেট চেকার কিংবা লাইনম্যানসহ কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী। এতে সরকার যেমন রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, তেমনি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে এ লাইনে রেলে ভ্রমণপিপাসু যাত্রীদের। এমনিতেই চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথে লোকাল ট্রেন নেই। আপ-ডাউনে ডেম্যু ট্রেনই লোকাল ট্রেন হিসেবে চললেও সেটিও চলাচল গত দুই বছর আগে বন্ধ রয়েছে।
২০১২ সালে চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথকে সংস্কার ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে রেলপথের শাহতলী, শাহরাস্তি ও ওয়ারুক স্টেশনের পুরাতন ভবন ভেঙে এবং ডি শ্রেণির মৈশাদী স্টেশনে নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়। আর ভবনের কাজ শেষ হওয়ার দীর্ঘ পাঁচ বছর অতিবাহিত হলেও এখনও সেই স্টেশনগুলোতে কোনো কার্যক্রম চালু করতে পারেনি রেল কর্তৃপক্ষ। জনবল সংকটে একবারে বন্ধ রয়েছে শাহতলী, বলাখাল, শাহরাস্তি ও উয়ারুক স্টেশন।
এদিকে স্টেশনগুলো দেখভাল করার জন্য কেউ না থাকায় প্লাটফর্মগুলো গরু-ছাগলের বিচরণ, বখাটে ও ভবঘুরে এবং রাতে মাদকসেবীদের আস্তানায় পরিণত হয়েছে। বিদ্যুৎ বিহীন একেবারে বন্ধ থাকা স্টেশনগুলোতে রাতের অন্ধকারে মাদকসেবীদের অবাধ বিচরণ লক্ষ্য করা গেছে। সন্ধ্যার পর এসব স্টেশনে ভুতুরে পরিবেশ বিরাজ করছে। বন্ধ থাকা কয়েকটি রেলওয়ে স্টেশনে গেলে কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, স্টেশন কার্যক্রম চালু নেই। তাই যাত্রীদের অতিরিক্ত ভাড়া ও অতিরিক্ত সময় অপচয় করে তাদের নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়।
এ ব্যাপারে চাঁদপুর রেলওয়ে পুলিশের (জিআরপি) অফিসার ইনচার্জ মুরাদ উল্লাহ বাহার বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমরা প্রতি স্টেশনেই মাঝে মাঝে সচেতনতামূলক সভা করে থাকি। তবে কোন স্থানে যদি অনৈতিক ঘটনার খবর পাই তাহলে আমরা অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিই। অপরাধ নির্মূলে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে।
এসব বিষয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক মোঃ আবিদুর রহমান এ লাইনে বিভিন্ন রেলস্টেশনে জনবল না থাকার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আমাদের প্রায় স্টেশনে মাষ্টার নেই। তার কারনে ঐসব বন্ধ স্টেশনগুলোতে বখাটেদের আড্ডা থাকতে পারে। তবে রেলওয়েতে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পর্যায়ক্রমে এসব স্টেশনে লোকবল নিয়োগ হলে এ সমস্যা থাকবে না।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন