প্রকাশের সময়: সোমবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২২ । ৪:৪৫ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

হাজীগঞ্জের পঙ্গু-ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত বাদল চন্দ্র পাল মারা গেছেন

অনলাইন ডেস্ক
কয়েকদিন আগে পঙ্গু ও ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত বাদল চন্দ্র পালের ছোট মামা জানান, তার ভাগিনার আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন। এবিষয়ে কি করা যায় বিষয়টি নিয়ে আমার সাথে আলোচনা করলে আমি তাঁকে পরামর্শ দেই তার বিষয়টি নিয়ে একটি সচিত্র প্রতিবেদন পত্রিকায় প্রকাশ করা যেতে পারে। এজন্য বাদল চন্দ্র পালের সঠিক তথ্যাদি প্রয়োজন। তার মামা বাদল চন্দ্র পালের তথ্যাদি সংগ্রহ করতে কিছুটা সময় নেন এবং আমার নিকট হস্তান্তর করেন। আমি তথ্যাদির সঠিকতা যাচাইয়ের জন্য তার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বার সহ এলাকার পরিচিত জনের নিকট খোঁজ খবর নেই।
এর মধ্যে নিজেই ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়ি তাই বাদল চন্দ্র পালের উপর সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করতে কিছুটা বিলম্ব ঘটে। আজ সেই প্রতিবেদনটি পত্রিকায় প্রেরণের পূর্বে কেন যেন মনে হলো বাদল চন্দ্র পালের মামার সাথে কথা বলি। যেই ভাবা সেই কাজ। বাদলের মামার সাথে কথা বলে গিয়ে জানতে পারি বাদল আর বেঁচে নেই, সে গতকাল (১৩ নভেম্ভর) রবিবার রাত সাড়ে নয় ঘটিকায় পরলোক গমন করেন। খবরটা শুনে অনেকটা সময় আর কথা বলতে পারছিলাম না। অনেকটা সময় পরে বিস্তারিত জানতে চাই বাদলের মামার নিকট।
বাদলের মামা সব কথা বলে শেষে অনুরোধ জানালেন, বাদল চলে গেছে যদি পারেন এই অসহায় পরিবারের ছেলে অনিক পালের অর্থের অভাবে প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়া পড়াশোনা যেন চালিয়ে নিতে পারে তার জন্য কিছু একটা করেন। ভাবছিলাম কি করা যায়? তাই নিজে কিছু করতে না পারার কষ্টটা শেয়ার করার জন্য নিজের অনুভূতি প্রকাশ করছি।
অনিক হাজীগঞ্জ উপজেলার বলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। আর্থিক অনটনের কারণে পঙ্গু ও ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত বাবা বাদলের চিকিৎসা ও সংসারের দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। এখন বাবা বাদল নেই। তার পড়াশোনা চালিয়ে যাবার প্রবল ইচ্ছে। তাই  বিত্তশালী হৃদয়বান ব্যক্তিগন সহাতার হাত বাড়িয়ে দিবেন আশা করি।
(বিঃদ্রঃ) – অনিক পাল এর বাবার জন্য তৈরি করা সংবাদটি পাঠক ও বন্ধুদের অবগতির জন্য এখানে তুলে ধরলাম।
————————————————————————–
পঙ্গু-ক্যান্সারে আক্রান্ত অসহায় বাদল আপনার সহায়তায় বেঁচে থাকতে চায়।
মানুষ মানুষের জন্য জীবন জীবনের জন্য, একটু সহানুভুতি কি পেতে পারে না ও বন্ধু ………..
হ্যাঁ, প্রিয় পাঠক পঙ্গু-ফুসফুস ক্যান্সারে আক্তান্ত অসহায় বাদল চন্দ্র পাল(৫২), পিতা-মৃত নিখিল চন্দ্র পাল, মাতা-দিপালী চন্দ্র পাল, ঠিকানা:- গ্রাম-পূর্ব হাটিলা, হাটিলা পূর্ব ইউনিয়ন, ওয়ার্ড নং-০১, উপজেলা-হাজীগঞ্জ, জেলা- চাঁদপুর-। তিনি আপনার সহায়তায় বাকি জীবন বেঁচে থাকতে চান।
সমাজের আর দশজন মানুষেরমত তিনিও সুস্থ স্বাভাবিকভাবে জন্ম গ্রহন করেন। ভালোই চলছিল বাদলের জীবন। যদিও ঘরভিটা ছাড়া তেমন কোন জমি-জমা নাই তার। অন্যের জমিতে কাজ আর গ্রামের বাজারে কাঁচা তরকারীর দোকানের ব্যবসা দিয়ে চলছিল তার জীবন। কিন্তু বিধির লিখন না যায় খন্ডন। হঠাৎ ২০১৪ সালে একদিন তার ডান পায়ের আঙ্গুলে সামান্য ঘামাছিরমত কি যেন উঠে। গরিব বাদল চন্দ্র পালের তেমন কোন জমানো টাকা ছিলনা যা দিয়ে তিনি শহরে গিয়ে বড় চিকিৎসক দেখাতে ও হাসপাতালে ভর্তি হতে পারেন। তাই গ্রাম্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ-পথ্য সেবন করছিলেন তিনি। ঔষধ-পথ্য সেবন করছেন কিন্তু পায়ের ঘা ভালো না হয়ে বাড়তে থাকে। কিছুদিন যেতে না যেতেই তার পায়ে ধরা পড়ে গেঞ্জরিন হয়েছে। এজন্য চিকিৎকের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ-পথ্য সেবন করেও কোন ফল না হয়ে উল্টো পায়ের ঘা আরও বাড়তে থাকে। এমতাবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শে ডান পায়ের অংশ বিশেষ কেটে ফেলে দেয়া হয়।
কিন্তু বিধিরবাম পায়ের ঘা ভালো না হয়ে আরও বাড়তে থাকে।  এরই মধ্যে অবস্থার এমনই অবনতি ঘটে যে, চিকিৎসক পরামর্শ দেন তার ডান পা হাঁটুর উপর পর্যন্ত কেটে ফেলে না দিলে তাকে বাঁচানো কঠিন হয়ে যাবে! অগত্যা আর কি করা শেষ পর্যন্ত উরুর নীচ থেকে ডান পা কেটে  ফেলে দেয়া হয়েছে। দিনআনে দিনে খাওয়া গরিব বাদল পা হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন।  সংসারে আয়-রোজগার করার একমাত্র ব্যক্তি ছিলেন তিনি। তাদের বন্যা পাল নামের এক কন্যা ও অনিক পাল (১৬) নামের দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক ছেলে সন্তান রয়েছে।  ইতিমধ্যে অন্যের সাহায্য নিয়ে অসহায় বাদল মেয়েকে পাত্রস্থ করেছেন।  ছেলে অনিক বাবার অসুস্থতায় সংসারের দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নিলেন।  অর্থ সংকটের কারনে আর পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হল না ছেলে অনিকের। স্থানীয় বাজারে বাবার করা কাঁচা তরকারীর দোকান করে এবং মানুষের সাহায্যে কোন রকমে বাবার ঔষধ-পথ্য ও সংসারের খরচ চালাতে শুরু করে অনিক। এদিকে কয়েক বছর এভাবে চলতে থাকা বাবা বাদল চন্দ্র পালের শরীরের অবস্থার আবারও অবনতি ঘটে। বহু পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে এবছরের ফেব্রুয়ারী মাসে ধরা পড়ে তার শরীরে বাসা বেঁধেছে মরণব্যদি ফুসফুসের ক্যান্সার। এতে ছেলে অনিকের মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ে।একদিকে সংসারের খরচ অপর দিকে বাবা বাদল পালের চিকিৎসা ও ঔষধ-পথ্য ক্রয়ের খরচের টাকা আর যোগাড় করা সম্ভব হচ্ছেনা তার।
উল্লেখ্য, বাদল চন্দ্র পালের আবেদনের প্রেক্ষিতে বর্তমান সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় সমাজ সেবা কার্যালয়, হাজীগঞ্জ উপজেলা হতে পঙ্গু ভাতা হিসাবে মাসিক  ৭৫০/- টাকা ভাতা পেয়ে আসছেন। এছাড়া তার স্ত্রী শিল্পী রাণী পালের নামে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় দরিদ্রদের কেজি ১৫/- মূল্যে দেয়া মাসিক ৩০কেজি চাউল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এমতাবস্থায় বেঁচে থাকতে ঔষধ-পথ্য ক্রয়ের জন্য সমাজের বিত্তবান মানুষের নিকট সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন বাদল চন্দ্র পাল। যা দিয়ে তিনি ফুসফুস ক্যান্সারের ঔষধ ক্রয় করে সেবন করে আরও কিছুকাল বেঁচে থাকতে পারবেন।  সমাজের হৃদয় ও বিত্তবানেরা কেউ সাহায্য পাঠাতে চাইলে তার ছেলে অনিকের নিম্নলিখিত বিকাশ নম্বরে সাহায্য পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
তার বিষয়ে হাটিলা পূর্ব ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল ও ৮ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মেহেদী হাসান এর নিকট জানতে চাইলে তাঁরা উভয়ে বলেন, বাদল চন্দ্র পালকে তারা চিনি। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ অসুস্থ। ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে আমরা তার পরিবারের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় সরকারের দেয়া সুযোগ-সুবিধার সর্বোচ্চটা প্রদানের ব্যবস্থা করেছি।
এমতাবস্থায় পঙ্গু ও ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত বাদল চন্দ্র পালের সাহায্যে কেউ এগিয়ে আসলে হয়তো বাদল চন্দ্র আরও কিছুকাল এই সুন্দর পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে পারবেন। এমন হৃদয়বান কেউ কি আছেন যিনি বাদলের পাশে সহায়তার হাত নিয়ে দাঁড়াবেন?
বাদল চন্দ্র পাল এর ছেলে অনিক পালের বিকাশ নম্বর : ০১৮৮৪-১৩৩২৮৩(কেউ চাইলে এই নম্বরে কথাও বলতে পারেন)।
লেখক : রুহুল আমিন তরুন

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন