প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২২ । ১:২৬ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

আগাম জাতের আলু চাষে লাভবান কৃষক

অনলাইন ডেস্ক

মনিরুল ইসলাম মনির : ডিসেম্বরের শুরু থেকেই চাঁদপুর জেলার গ্রামে গ্রামে আগাম জাতের নতুন আলু উত্তোলন শুরু হয়েছে। উৎপাদিত আলুর চাহিদা থাকায় লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। আমন ধানের নবান্নের মতো করে ‘নতুন আলু উৎসব’ ছড়িয়ে পড়েছে কৃষকের ঘরে ঘরে।

উত্তোলন শুরু হওয়ার পরপরই রাজধানীসহ অন্যান্য জায়গা থেকে আলু ব্যবসায়ীরা এলাকার কৃষকের বাড়িতে ভিড় করছেন।
তারা একে অন্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে দাম হাঁকিয়ে ৩০-৩৫ টাকা কেজিতে কৃষকদের কাছ থেকে নতুন আলু কিনছেন। এই আলু ট্রলারে করে রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলা শহরে যাচ্ছে।

কৃষক ও সরকারি কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুর জেলার চরাঞ্চলে মাটিতে বিশেষ গুনাগুণ থাকায় এখানে আগে ভাগেই জন্মায় আলু। এটি এমন একটি সময় যখন দেশের অন্য এলাকার চাষিরা আমন ধান কাটার পর আলু আবাদের জমি প্রস্তুতিতে ব্যস্ত থাকে।

উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ২৮ হাজার ৫১৫ হেক্টর জমিতে আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০ হাজার ৫৪৫ হেক্টর চাষ চাষি। এর মধ্যে প্রায় আট হাজার হেক্টর জমিতে চাষিরা স্বল্পমেয়াদি আগাম আলু আবাদ করেছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই সেসব আলু তুলতে শুরু করেছেন।

উপজেলার কয়েকজন আলুচাষির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিগত মৌসুমে তাঁরা খেত থেকেই প্রতি কেজি আগাম জাতের গ্যানুলা ও ডায়মন্ড আলু ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি করেছেন।

মতলব উত্তর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, দোআঁশ জমি যেখান থেকে বর্ষার পানি সহজেই নিষ্কাসিত হয়, সেখানে আগাম জাতের আলু উৎপাদিত হয়।

মতলব উত্তরের এখলাছপুর, জহিরাবাদ, সুলতানাবাদ, মোহনপুর ইউনিয়গুলোতে এ বিশেষ গুনাগুণ সম্পন্ন জমি রয়েছে। একমাত্র এসব গ্রামগুলোতেই আগাম জাতের আলু উৎপাদিত হয়, তিনি যোগ করেন।

এই ধরনের আলু বীজ বপনের পর থেকে ৫০ থেকে ৫৫ দিন পরেই উত্তোলন করা যায়। অথচ সারা দেশে প্রচলিত আলুর জাত ১১০ দিনের পূর্বে কখনই উত্তোলন করা সম্ভব হয় না।

আগাম জাতের নতুন আলু উৎপাদন করে এমন কয়েকটি এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকার কারওয়ান বাজার থেকে ব্যবসায়ীরা আলুর জমির পার্শ্বে মেঘনা নদীতে ট্রলার দাঁড় করিয়ে রেখেছেন। কৃষকেরা জমি থেকে উত্তোলন করছেন নতুন আলু। উত্তোলনের সঙ্গে সঙ্গে কৃষকদেরকে মূল্য পরিশোধ করে আলু নেওয়া হচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে।

মতলব উত্তর উপজেলার চরকাশিম গ্রামের কৃষক জিল্লুর বহমান বকাউল (৪২) বলেন, আমি সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে ৩০ শতাংশ জমিতে নতুন আলু লাগিয়েছিলাম। আমার সর্বসাকুল্যে উৎপাদন ব্যয় ৩৫ হাজার টাকা। ঠিক ৫৫ দিন পর নভেম্বরের মাঝামাঝি উত্তোলন করে ১ হাজার ৬০০ কেজি আলু পাই। সরাসরি জমি থেকে ঢাকার ব্যবসায়ীর কাছে তা প্রতি কেজি ৬০ টাকা দরে বিক্রি করেছি। উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে লাভ হয়েছে ৬১ হাজার টাকা।

উপজেলার চরওমেদ গ্রামের কৃষক আলাউদ্দিন (৬৫) জানান, তিনি ৩ বিঘা জমিতে আগাম জাতের আলু লাগিয়েছেন। আর এক সপ্তাহ পর তা উত্তোলনের উপযোগী হবে। সপ্তাহ পরে আলুর দাম কিছুটা কমে গেলেও ৩০ টাকার টাকার নীচে বিক্রি হবে না। তার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৪ হাজার ৫০০ কেজি।

চরলক্ষীপুর গ্রামের জয়নাল (৫৫), স্বপন (৩৮), মানিক দাস’সহ একাধিক নতুন আলু চাষি মুখে চওড়া হাসি দিয়ে জানান, তারা আলু বিক্রির লাভ দিয়ে সন্তানদের নতুন পোশাক ও জুতা কিনে দেবেন। যা সচরাচর তাদের হয়ে উঠে না অর্থাভাবে।

মতলব উত্তর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, আগাম জাতের আলু চাষিরা ৫৫ থেকে ৬০ দিনে ফসল উত্তোলনের পর পর্যায়ক্রমে ৪টি ফসল চাষে যথেষ্ট সময় পান। ফলে তারা ধীরে ধীরে গতানুগতিক ৩ ফসল চাষ থেকে সরে আসছেন এবং অধিক লাভবান হচ্ছেন।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন