প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৩ । ৪:২৫ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলব উত্তরে সময়-খরচ-শ্রম সাশ্রয়ী সরিষার আবাদ দিন দিন বাড়ছে

অনলাইন ডেস্ক

মনিরুল ইসলাম মনির: মতলব উত্তর উপজেলার ফসলের মাঠ জুড়ে সবুজ সরিষা গাছ ও হলুদ ফুলের সমোরোহ এক অপরুপ সৌন্দর্যের সৃষ্টি হয়েছে। সরিষা ফুলের মৌ মৌ গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে প্রকৃতিতে। মাঠে মাঠে সরিষা আবাদ দৃষ্টি কাঁড়ার মতো। যা দেখে মন্ত্রমুগ্ধের মতো তাকিয়ে থাকি প্রকৃতিপ্রেমীরা। অপরদিকে কাঙ্খিত ফসল ঘরে উঠাতে নিরলস পরিশ্রম করেছেন কৃষকেরা। তাদেরকে সার্বক্ষণিক পরামর্শ দিচ্ছেন ও তদারকি করছেন উপজেলা কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা।

মতলব উত্তর উপজেলায় এবার সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছে। হলুদ ফুলে ছেয়ে গেছে দিগন্ত জোড়া ফসলের মাঠ। চারদিকে পৌষ শেষে মাঘের হিমেল বাতাসে দোল খাচ্ছে হলুদ সরিষার ফুল। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মাঠ জুড়ে চারদিকে তাকালে সরিষা ফুলের হলদে ফুলের নায়নাভিরাম সদৃশের দেখা মিলবে। তেমনি সরিষা ফুলের হলুদ রাজ্যে মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত যেমন মাঠ, তেমনি বাম্পার ফলনের হাতছানিতে উপজেলার কৃষকের চোখেমুখে ফুটে উঠেছে আনন্দের হাসি।

সরিষার হলুদ হাসিতে স্বপ্ন দেখছেন উপজেলার কৃষক। মৌসুমি সরিষা চাষ লাভজনক হওয়ায় চলতি মৌসুমে আবাদে মনোযোগ দিয়েছেন উপজেলার কৃষকরা। মৌসুমী সরিষার চাষ লাভজনক হওয়ায় চলতি মৌসুমে আবাদেও মনোযোগি হয়েছেন উপজেলার প্রান্তিক কৃষকরা। এখানকার কৃষকরা স্থানীয় জাতের পাশাপাশি বারি সরিষা-৪, ৯, ১৪ ও ১৫, বিনা-৪ ও ১১, টরি-৭, এসএম-৭৫ সরিষার আবাদ করে লাভের মুখ দেখছেন।

কৃষি অফিস জানায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। গত বছর সরিষার আবাদ হয়েছিলো ৬শ’৪০ হেক্টর। এ আবহাওয়া অনুকুলে থাকা এবং বাজারে সয়াবিন তৈলের দাম বেশি হওয়ায় এ বছর সরিষার আবাদ বেশি হয়েছে। সরিষা একটি লাভজনক ফসল, কৃষকরা সরিষা চাষে সফলতাও পেয়েছেন। তাই তাদের সব সময় সহযোগিতা করা হচ্ছে।

এ উপজেলায় ১৪টি ইউনিয়ন ও ছেংগারচর পৌর এলাকায় কৃষকরা সরিষার চাষ করেছেন। এবারে অভাবনীয় সাফল্যের আশায় বুক বেঁধেছেন তারা। বিস্তৃত ফসলের মাঠে খণ্ড খণ্ড হলুদ সরিষা ফুলের সমারোহ, মৌমাছির ভোঁ ভোঁ শব্দ। ফসলের মাঠে হলুদ সরিষার এমন দৃশ্য দেখা যায় মতলব উত্তর উপজেলায় সরিষার বাম্পার ফলনে লাভবান হচ্ছেন কৃষক, হাসি ফুটেছে তাদের মুখে। সরকারের কৃষিবান্ধব নানা পদক্ষেপের কারণে বর্তমানে এই উপজেলার জমিতে চাষ হচ্ছে তিন ফসল। আমন কাটার পর পরে থাকা জমিগুলোতে আবাদ হচ্ছে সরিষা। এতে লাভবান হচ্ছেন কৃষক।

সরিষা চাষে গত বছরও সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছিল। সেই সঙ্গে বাজারে দামও ছিল সন্তোষজনক। এবারো ভালো ফলনের আশা কৃষকের। বাড়তি ফসল হিসেবে সরিষা চাষে কৃষক লাভবান হওয়ার পাশাপাশি এলাকাতেই কর্মস্থান হয়েছে কৃষি শ্রমিকদের।
উপজেলার শাহাবাজকান্দির গ্রামে ৩ বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করেছেন কৃষক মোহাম্মদ আলী (৬০)। তিনি বলেন, আগে ধান কাটার পর জমি ফেলে রাখতাম। এখন ফেলে না রেখে সরিষার চাষ করছি। এতে বাড়তি আয় হচ্ছে। সরিষা বিক্রির টাকা দিয়ে চলতি মৌসুমে ধান আবাদ করব।
একই গ্রামের কৃষক আবদুল বাতেন (৫০) বলেন, সরিষা চাষে খরচ কম। অন্য ফসলের তুলনায় ফলনও ভালো হয়। অন্য সময়ে সরিষা ঘরে তোলা যায়। সরিষা চাষে আমি বেশ লাভবান হয়েছি।

আরেক গ্রামের সরিষা চাষি মাইন উদ্দিন (৪৫) জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগে কোনো ক্ষতি না হলে এবারে সরিষার ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। সরিষা তার জমির দ্বিতীয় ফসল। সরিষা তোলার পর বোরো চারা রোপণ করবেন।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলেন, উপজেলায় ভোজ্যতেলের জোগান দিতে এবং আমদানি নির্ভরশীলতা কমাতে এসব সরিষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মতলব উত্তর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সালাউদ্দিন বলেন, বাড়তি ফসল হিসেবে সরিষা চাষ করতে আমরা কৃষকদের উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছি। ১৪শ’ কৃষকদের মাঝে আমরা বিনামূল্যে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের সরিষা বীজ ও সার কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলা পরিষদ থেকে প্রায় দুই লক্ষ টাকার উন্নত জাতের সরিষার বীজ কৃখদেরকে কিনে দিয়েছি। এ ছাড়াও আমরা সরিষার রোগ ও পোকামাকড় নিয়ন্ত্রনের জন্য কৃষকদের পরামর্শসহ সব ধরনের সাহায্য সহযোগিতা করে যাচ্ছি। চলতি মৌসুমে উপজেলায় রেকর্ড পরিমাণ জমিতে সরিষার চাষ করা হয়েছে। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সরিষার আবাদ থেকে কৃষকরা বাড়তি মুনাফা আয় করতে পারবেন।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন