মো. মাসুদ রানা : চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে স্ত্রী আইরিন সুলতানা চম্পার(৩৬) পরকীয়ায় নেশার আগুনে পুড়ে ও মামলা হামলা হুমকি-ধমকির কবলে ৪টি সন্তান নিয়ে স্বামী খোকন ড্রাইভার (৪৫) মহাসংকটে দিনানিপাত করছে। বর্তমানে বেপরোয়া লাগামহীন “স্ত্রী চম্পার” স্বামী ও সন্তানদের প্রতি অমানবিক আচরণের ছোবলে মমতায় ভরা পারিবারিক সম্পর্কের সমীকরণ ছিন্ন হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
গত ১৮ই জানুয়ারি সিলেট মহানগরের লামাবাজার এলাকার আয়েশা মেডিকেয়ারের সামনে বহু পুরুষে আসক্ত ওই নারী ”চম্পাকে” নিয়ে “দুই স্বামীর ১ স্ত্রী মালিকানা দাবির কান্ডটি দেশবাসী গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগের কল্যাণে ভাইরাল হয়।
পরে এ বিষয়ে গত ৩০ই জানুয়ারি চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের শাহরাস্তি পৌরশহরের বাদিয়া মহল্লার মৃত: রুস্তম আলীর পুত্র স্বামী খোকন স্ত্রীর পরকীয়া ও পর পুরুষের আসক্তির কবলে সুখের সংসার ধ্বংসের প্রতিবাদে দুটি সন্তান নিয়ে মানববন্ধন করেন।
মঙ্গলবার এ বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত স্বামীর পরিবার, স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০০৪ সালে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলা বনকোট গ্রামের অবসর প্রাপ্ত সেনা সৈনিক শাহজাহান মিয়ার একমাত্র কন্যা চম্পা পালিয়ে ঢাকা সায়েদাবাদ এলাকায় অবস্থান নেন। তখন শাহরাস্তির এক জনৈক গাড়ি চালক শাহজাহান তাকে মানবিক কারণে চাঁদপুর নিজ বাসায় নিয়ে আসে। সেখানে বর্তমান স্বামী খোকন মিয়া তার অসহায়ত্বের কথা বিবেচনা করে শাহরাস্তিতে এনে ওই নারীকে তার পিতা-মাতাকে বুঝিয়ে ইসলামী শরীয়ত মতে বিয়ে করে। এরপর তাদের কোল জুড়ে দুটি সন্তান আসে দুনিয়াতে। এরপর ২০১১ সালে তিনি পরিবারের সুখের কথা ভেবে মালদ্বীপে জীবিকার সন্ধানে পাড়ি জমান।
ওই রাতে আইরিন খোকনের আদম বেপারী খোরশেদের সঙ্গে স্থানীয় একটি রেস্টুরেন্টের খাবারের কথা বলে মাঝ রাতে বাড়ি ফিরেন। তারপর প্রবাসে থাকা অবস্থায় তিনি ৯ বছরে প্রায় ১৬ লাখ টাকা স্ত্রী ও শ্বশুরের নামে দেশে পাঠান।
এছাড়া ৩ ভরি স্বর্ণ, জমি বিক্রয় করা সাড়ে ৫ লাখ টাকা, এনজিও থেকে নেয়া ১ লাখ টাকা ডিপোজিটের ৭৫ হাজার টাকা স্ত্রীর নিকট গচ্ছিত রাখেন। ২০২০ সালে দেশে এসে স্ত্রীর নামে নানা জনের সাথে পরকীয়ার তথ্য পেতে থাকেন । তখন তিনি সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে স্ত্রীর পিত্রায় থেকে স্ত্রীকে নিজ বাসায় নিয়ে আনতে যান। ওই সময় তিনি চম্পা স্বামীর সাথে না এসে গত ২০২০ সালের ২০ ডিসেম্বর কুমিল্লার বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের ৪নং আমলী আদালতে যৌতুক নিরোধি আইনের ৩ ধারায় একটি মামলা দায়ের করে ৪ সন্তান নিয়ে আত্মগোপনে চলে যান। পরবর্তীতে স্ত্রী ও সন্তানদের সন্ধান চেয়ে স্বামী খোকন তিনি কুমিল্লার বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে একটি দরখাস্ত করেন।
এ বিষয়টি তার শশুর মো: শাহজাহান ও তার শাশুড়ীকে জানালে তারা সমগ্র বিষয়টি তাকেই দায়ী করে। এভাবে কিছুদিন যাওয়ার পর তিনি আবার মালদ্বীপ চলে যান। ওই সুযোগে স্ত্রী চম্পা স্থানীয় বিভিন্ন বয়সী যুবকদের সঙ্গে পরকীয়া লিপ্ত হওয়ার সংবাদ চাউর হতে থাকে।
অবশেষে গত এক বছর পূর্বে সে শাহরাস্তি শ্বশুরালয় থেকে গাড়ি ভাড়া করে ঘরে রক্ষিত গৃহস্থালি সামগ্রী, কাপড় চোপড়, স্বর্ণালংকার, যাবতীয় মূল্যবান জিনিসপত্র এবং ডিপিএস ভেঙ্গে নগদ ৩৫ হাজার টাকা হাতিয়ে কেটে পড়ে। সঙ্গে তার বড় পুত্র সাঈদুল ইসলাম মামুন (১৮), ছোট পুত্র নোমান (৪) ২ কন্যা সুমাইয়া (১৪) ও সাদিয়াকে (৮) শ্বশুরালয়ে দেবীদ্বারে আটকে রেখে স্বামী খোকনের নিকট ২ লক্ষ টাকা অর্থ দাবি করে তিনি চম্পা ।
এ ভাবে কিছুদিন যেতেই খোকনের বড় পুত্র মামুন মা ও পরকীয়া প্রেমিকের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সইতে না পেরে ছোট ভাই নোমানকে নিয়ে শাহরাস্তি পিতার বাড়িতে চলে আসে। এক পর্যায়ে তিনি অসহায় হয়ে দেশে এসে শাহরাস্তি থানার তৎকালীন অফিসার্স ইনচার্জ মো: শাহ আলম (এলএলবি) এবং স্থানীয় পৌর সভার প্যানেল মেয়র বাহার উদ্দিনের স্বরণাপন্ন হন স্ত্রী ও সন্তানদের বাড়ি ফিরিয়ে আনার জন্য।
ওই সময় শ্বশুর আলয়ের লোকজন বিষয়টি কর্ণপাত না করে উল্টো হুমকি-ধমকি দেয় তাকে। এভাবে দীর্ঘদিন অতিবাহিত হওয়ার পরে
গত ১৮ জানুয়ারি বুধবার বিকেল ৫টার দিকে সিলেটের লামাবাজার আয়েশা মেডিকেয়ার জেনারেল হাসপাতালের সামনের রাস্তায় চম্পাকে কবির নামের এক যুবকের সাথে পেয়ে যান স্বামী খোকন।
এসময় চম্পা ওই যুবককে তার স্বামী পরিচয় দেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে তাদের ২ জনকে পুলিশ আটক করে খোকনকে ছেড়ে দেয়। স্ত্রীর এমন কান্ডের প্রতিক্রিয়া স্বামী খোকন বিলাপ কণ্ঠে বলেন, আমি চারটি সন্তানকে নিয়ে স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে চাই। এজন্য তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নিকট আকুল আবেদন জানিয়েছেন। তিনি যেন স্ত্রী নিকট গচ্ছিত অর্থ ও বাকি দুটি মেয়ে সন্তান ও স্ত্রীকে ফিরে পান।

অনলাইন ডেস্ক