প্রকাশের সময়: সোমবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২১ । ২:০২ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

‘ঘুর্ণিঝড় জাওয়াদ’র প্রভাবে ভারি বৃষ্টিপাতে ধান নিয়ে বিপাকে কৃষক

অনলাইন ডেস্ক

মতলব উত্তর ব্যুরো : মতলব উত্তরের মাঠে মাঠে চলছে পাকা আমন ধান কাটার ধুম। আবহাওয়া ভালো থাকায় অনেকেই ধান কেটে বাড়িতে নিয়ে গিয়েছেন। তবে এরই মধ্যে ঘুর্ণিঝড় জাওয়াদ এর কারণে গত তিন’দিন সকাল থেকেই মেঘাচ্ছন্ন আকাশ আর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিসহ ভারি বৃষ্টিপাত হওয়ায় দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে কৃষকের কপালে।

টানা বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের অনেক কৃষকই এখনো ধান ঘরে তুলতে পারেননি। এতে অনেকেরই শুকনো ধান ভিজে গেছে। শেষ সময়ে কষ্টের ফলানো ধান ঘরে তোলা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন তাঁরা।

আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার সকাল থেকেই উপজেলায় থেমে থেমে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়। সোমবার পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়। সকাল থেকেই কখনো মাঝারি, কখনোবা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি অব্যাহত ছিল। এ অবস্থা আজও (মঙ্গলবার) অব্যাহত থাকতে পারে।

কৃষকেরা বলছেন, আমন ধান রোপনের শুরুতে দুই দফা বৃষ্টি হওয়ায় ধানের ভালো ফলণ নিয়ে শঙ্কা ছিল কৃষকের মনে। এরপরও বাম্পার ফলন না হলেও ধান পাকতে শুরু করেছে। মাঠের ১০শাংশ ধান ইতিমধ্যে কর্তন করেছে চাষীরা। কয়েক দিন ধরে ফসল ঘরে তোলার কাজে ব্যস্ত ছিলেন কিষান-কিষানিরা। এ সময়ে আনন্দ আর উৎসাহ নিয়ে মাঠের অধিকাংশ ধান কেটে বাড়িতে নিয়েছেন তাঁরা। আবহাওয়া ভালো থাকলে দুয়েক সপ্তাহের মধ্যে পুরো ধান ঘরে তোলার কাজ সম্পন্ন হতো। কিন্তু সে আশায় গুঁড়েবালি। টানা বৃষ্টিতে ভিজে গেছে অনেকের শুকনো ধান। এতে ক্ষতির শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকেরা।

মতলব উত্তর উপজেলার পালালোকদি এলাকার কৃষক মো. হাশেম বলেন, ইতিমধ্যে অনেকেই ধান বাড়িতে তুলেছেন। তবে কারও কারও ধান কাটার পর শুকানোর জন্য রেখে দিয়েছেন খেতে। আবার কেউ কেউ শুকনো ধানের মুঠো বেঁধে গাদা করে রেখেছেন। এ অবস্থায় শনিবার থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে দেখা দিয়েছে বিপত্তি। বৃষ্টিতে ভিজেই ধান কাটা, বাঁধা ও নেওয়ার কাজ করছেন কিষানিরা। এতে বেগ পেতে হচ্ছে। সময় লাগছে বেশি। আর বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়ায় তা নষ্ট হওয়ার উপক্রমও হয়েছে।

কৃষক কবির হোসেন জানিয়েছেন, তিনি এবার ২ বিঘা জমিতে আমন ধানের চাষ করেছিলেন। এর মধ্যে ১ বিঘা ৮ কাঠা বাড়িতে আনা হয়ে গেছে। ১২ কাঠা জমির ধান বৃষ্টিতে ভিজেছে। দুদিন রোদ্দুর হলে হাসি মুখে সব জমির ধান বাড়িতে আনতে পারতেন তিনি। এমন আবহাওয়া থাকলে অনেক ধান নষ্ট হয়ে যাবে তাঁর।

পদুয়ারপাড় গ্রামের কৃষক আবদুল্লাহ বলেন, ২ বিঘা জমিতে চাষ করেছি, সব ধানই মাঠে পড়ে আছে।
কৃষিবিদ শাহাব উদ্দিন বেপারী জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে শনিবার থেমে থেমে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির পর রাত থেকে শুরু হয়ে রোববার দিনভর বৃষ্টি হয়েছে। এতে বিভিন্ন গ্রামের কৃষকদের আমন ধান তোলা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন মাঠের বেশির ভাগ ধান কাটা হয়ে গেলেও অনেকেই ধান গুছিয়ে বাড়িতে নিতে না পেরে মাঠেই গাদা (বুর) দিয়ে রেখেছেন। কেউ কেউ বাড়িতে নিয়ে বুর দিয়ে রেখেছেন। এসব কৃষকই বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন। যদিও মাঠের কিছু অংশ ধান এখনো কাটা হয়নি।

নাউরী গ্রামের মোস্তফা দেওয়ান জানান, এখনো মাঠের ধান বাড়িতে আনতে না পারায় তাঁর মতো অনেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। মান্দারতলী গ্রামের ওবায়েদ জানান, তাঁর দেড় বিঘা জমির ধান কেটে মাঠে রাখা ছিল। শনিবার বাড়িতে এনে বুর দিয়ে রেখেছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, আরও দুই-একদিন না গেলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বলা যাচ্ছে না। আমন ধান বেশির ভাগই কেটে বাড়িতে নিয়েছেন কৃষক। অনেকেই বোরোর বীজতলা তৈরি করেছেন। এখনো তেমন ক্ষতিগ্রস্ত না হলেও আরও কয়েক দিন এ অবস্থায় থাকলে তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন