প্রকাশের সময়: রবিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৩ । ৫:১৪ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধন, মাছচাষী গৃহবধূর বুকফাটা আর্তনাদ

বিশেষ প্রতিনিধি
চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে পুকুরে বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে প্রায় ৫ লক্ষাধিক টাকার মাছ নিধন করা হয়েছে। এবিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার থানায় একটি অজ্ঞাত অভিযোগ দায়ের করেছে।
ঘটনাটি ২৮ এপ্রিল শুক্রবার দিবাগত রাতে উপজেলার রায়শ্রী উত্তর ইউনিয়নের আতাকরা গ্রামে ঘটে।
জানা যায়, ওই গ্রামের উত্তর পাড়া হাজি বাড়ির আমির হোসেনের স্ত্রী আলেয়া বেগম সাড়ে ৩ বছর যাবৎ নিজ পুকুরে মাছের চাষ করে আসছেন। ঘটনার দিন রাতে ওই পুকুরে বিষ প্রয়োগের কারনে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ৫ হাজার মাছ মারা যায়।
এবিষয়ে আলেয়া বেগম জানান, আমি খুবই অসহায় একজন গৃহবধূ। আমার স্বামী ঢাকায় একটি চা-পানের দোকানী। অতি কষ্টে সন্তানদের নিয়ে দিনাতিপাত করছি। ৩ লক্ষ টাকা ধারদেনা করে নিজের প্রায় ৫০ শতক পুকুরে সাড়ে ৩ বছর যাবৎ মাছের চাষ করছি।আমার চাষ করা পুকুরে আধা কেজি থেকে দেড় কেজি ওজনের এবং নানান প্রজাতের প্রায় ৫ হাজার মাছ ছিলো। যার বর্তমান বাজার মূল্য ৫ লক্ষাধিক টাকার বেশি। আমি বিষ ঢেলে দিতে কাউকে দেখিনি। তবে পাশের বাড়ির মুজাম্মেল হকের পুত্র আলমগীর হোসেন এঘটনাটি ঘটিয়েছে বলে আমার ধারনা। সে ছাড়া আমার আর কোন শত্রু নেই। তার সাথে আমার জমি সংক্রান্ত জটিলা রয়েছে। সে আমার কাছে জমি বিক্রি করেছে। ১ বছর অতিবাহিত হলো এখনও দেই দিচ্ছি বলে জমি রেজিস্ট্রি করে দেয়নি। রেজিস্ট্রি করে দিতে বললে সে রাগে ক্ষোভে ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে মারধর করতে আসে। সব সময় আমাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। ঘটনার ৩ দিন আগে সে কি করতে পারে তা আমাকে দেখিয়ে দিবে বলে হুমকি দিয়েছে। এখন আমার সংসার পরিচালনা,দেনার ভার ও কনিষ্ঠা কন্যার লেখাপড়ার দায়িত্ব কে নিবে?
 তিনি স্থানিয় সংসদ সদস্য মেজর (অবঃ) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম মহোদয়ের সহযোগিতা প্রার্থণা করেন।
এব্যাপারে জানতে আলমগীরের বাড়ি গেলে তিনি বাড়ি নেই বলে তার বাসা থেকে জানানো হয়।
স্থানীয়রা জানান, আলেয়া অনেক কষ্টে সংসার পরিচালনা করে। ধারদেনা আর অভাবে নিজে মাঠে কাজ করে। পাশের বাড়ির আলমগীর আলেয়ার কাছে জায়গা বিক্রি করেছে। রেজিস্ট্রি না দেয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে মতবিরোধ চলছে। তারা আরও বলেন, কিছুদিন পূর্বে আলেয়া তার জমিতে ধানের বীজ বপন করেছিলেন। ৪/৫ ইঞ্চি হওয়ার পর চারাগুলোর উপরে কে বা কারা ঘাষস নিধন ঔষধ ছিটিয়ে দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে। আলেয়া যতবারই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ততবারই এলাকাবাসীকে তা অবহিত করেছে। এধরনের গুপ্ত অপরাধিদের বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান তারা।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন