প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দায়িত্ব নেওয়া চাঁদপুরের রাব্বিকে চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সামগ্রী প্রদান করা হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টায় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কক্ষে রাব্বিকে স্কুল ড্রেস, জুতা, মৌজাসহ বিভিন্ন সামগ্রী প্রদান করেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা শাহনাজ। চাঁদপুরের রাব্বির দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী, এ শিরোনামে স্থানীয় ও জাতীয় মিডিয়ার ব্যাপক সংবাদ প্রকাশ হয়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জুলাই মাসে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে সাধারণ রোগীর মতো ১০ টাকায় টিকিট কেটে চোখের চিকিৎসা নিয়েছেন। হাসপাতাল ত্যাগ করার সময় তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজন, চিকিৎসক, নার্স, কর্মচারীসহ সকলের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন ও ছবি তোলেন।
এসময় ভিড়ের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা ছোট্ট রাব্বির দিকে চোখ পড়ে প্রধানমন্ত্রীর। তিনি এগিয়ে যান, পরম মমতায় আদর করেন শিশুটিকে। মমতাময়ী প্রধানমন্ত্রী ছোট্ট রাব্বির কাছে জানতে চান- কী করে সে, কার সঙ্গে হাসপাতালে এসেছে, কোন ক্লাসে পড়ে।
তখন ১১ বছরের রাব্বি জানায়, সে চক্ষু বিজ্ঞান হাসপাতালের ক্যান্টিনে কাজ করে। সেখানেই থাকে। তার বাবা মারা গেছেন। মা রাবেয়া বেগম সুতার কারখানায় কাজ করত। এখন চাঁদপুরে রাম দাসদি আশ্রয়ণ-এর ৮/৩ নং ঘরে থাকে। রাব্বির সৎ বাবা জাহাঙ্গীর আলম দিন মজুর। ক্যান্টিনে কাজ নেয়ার আগে ক্লাস টু পর্যন্ত পড়েছে রাব্বি। ছোট্ট শিশুটি প্রধানমন্ত্রীকে বলে, আমি চাঁদপুরে মায়ের কাছে যেতে চাই। আবার পড়াশোনা করতে চাই।
মমতাময়ী প্রধানমন্ত্রী আবেগাপ্লুত হন রাব্বির কথা শুনে। তিনি ছোট্ট রাব্বির দায়িত্ব নেন। রাব্বি বর্তমানে পীর বাদশা মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পড়ালেখা করছেন।

সজীব খান