প্রকাশের সময়: বুধবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৩ । ৫:৩২ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

সাঈদীর মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স ঘিরে হামলা, মামলায় আসামি ৫০০০

নিজস্ব প্রতিনিধি

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স ঘিরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও শাহবাগ মোড়ে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় জামায়াত-শিবিরের ৫ হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

বুধবার (১৬ আগস্ট) রাতে শাহবাগ থানায় দায়ের করা এ মামলায় সরকারি কাজে বাধা, মারধর, গাড়িতে আগুন দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করা হলেও তাদের পরিচয় জানা যায়নি।

মামলার বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, বেআইনীভাবে যোগসাজসে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে লাঠিসোটা, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে পুলিশের কর্তব্য কাজে বাঁধা প্রদানের পর আক্রমণ করে সাধারণ ও গুরতর জখম এবং অগ্নি সংযোগ করার অপরাধ করা হয়েছে। এতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৪ থেকে ১৫ লাখ টাকা।

মঙ্গলবার সকালে ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স ঘিরে সোমবার (১৪ আগস্ট) দিনগত রাতে তাণ্ডব চালিয়েছে জামায়াত-শিবির। রাতের হামলা ও ভাঙচুরের বিষয়টি বিবেচনা করে বুধবার (১৬ আগস্ট) গায়েবানা জানাজার নামাজের অনুমতি দেওয়া হবে না হলেও জানান ডিএমপি কমিশনার।

তিনি বলেন, বিএসএমএমইউতে সোমবার রাত ৮টা ৪০ মিনিটে মানবতাবিরোধী অপরাধে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী হার্ট অ্যাটাকে মারা যান। তার মরদেহ হস্তান্তরকে কেন্দ্র করে সারারাত জামায়াত-শিবির ও তার স্বজনরা নাটক করেছে এবং তাণ্ডব চালিয়েছে। তিনি মারা যাওয়ার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তার দুই ছেলেকে জানায়। পরে তার দুই ছেলে মরদেহ পিরোজপুর নেওয়ার জন্য কারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। এর মধ্যে জেল কর্তৃপক্ষ ময়নাতদন্ত করার প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করে। সেই অনুসারে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়ে আসা হয়। ম্যাজিস্ট্রেট এসে মরদেহের সুরতহাল সম্পূর্ণ করেন। যখন ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল নিয়ে যাওয়া হবে সেই মুহূর্তে তার ছেলেরা জোর দাবি জানান, তারা ময়নাতদন্ত ছাড়া মরদেহ নিয়ে যেতে চান। এ বিষয়ে জেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাদের অনেক সময়ক্ষেপণ হয়। পরে রাত একটা/দেড়টার দিকে তারা জেল কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পায়।

তিনি বলেন, এরপর মরদেহের গোসল শেষে পরিবার প্রস্তুতি নেয় পিরোজপুর নিয়ে যাবে। তখন বিএসএমএমইউ ও শাহবাগে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া কয়েক হাজার জামায়াত-শিবির কর্মী দাবি তুলেন যে, ‘জানাজার নামাজ পড়ে মরদেহ নিতে চাই।’ তখন আমরা তাদের বলি আপনারা এখানে জানাজা পড়তে পারেন। আমরা তাদের বলি আগামীকাল জাতীয় শোক দিবস আমাদের ব্যস্ততা আছে, আপনারা এখন জানাজা পড়ে মরদেহ নিয়ে যেতে পারেন। রাত সোয়া ২টার দিকে তারা জানাজার নামাজের পরিবর্তে মোনাজাত করে আধা ঘণ্টা। তারা বলে আমরা জানাজা পড়বো না মোনাজাত করেছি, পরে আমরা গায়েবানা জানাজার নামাজ পড়বো। এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়ে তারা মোনাজাত করেন।

‘কিন্তু যখন মরদেহ গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া শুরু হয়, তখন হাজার হাজার জামায়াত-শিবির নেতাকর্মী মরদেহবাহী গাড়ির সামনে শুয়ে পড়েন। তারা মরদেহ পিরোজপুরে নিয়ে যেতে দেবেন না। এসময় মরদেহবাহী গাড়ির সঙ্গে থাকা পুলিশ অফিসার ও সদস্যদের ওপর হামলা করে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা। গাড়ি ভাঙচুরও শুরু করেন তারা। এ হামলায় ডিসি রমনাসহ বেশ কয়েকজন সিনিয়র অফিসার আহত হন। তারা পুলিশের ৪-৫টি গাড়ি ভাঙচুর করেন। দুটি মোটরসাইকেল আগুন ধরিয়ে দেয়। আমরা ধৈর্য সহকারে এ তাণ্ডব সহ্য করি। তারপরও আমরা কোনো শক্তি প্রয়োগ করিনি।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ফজরের নামাজের পরে তাদের আবারও অনুমতি দেওয়া হলো জানাজা পড়ার। কিন্তু তারা আমাদের অফিসারদের বের করে দিয়ে বিএসএমএমইউ দখলে নেয়। তারা মরদেহ পিরোজপুর নিতে দেবে না। এরপর ফেসবুক তারা প্রচার শুরু করলো সারাদেশ থেকে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের শাহবাগে জড়ো হওয়ার জন্য। তখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাধ্য হয়ে অত্যন্ত সীমিত আকারে শক্তি প্রয়োগ করি। আমরা কিছু টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করি। এরপর সাঈদীর মরদেহ পিরোজপুর পাঠানোর ব্যবস্থা করি। কারণ হাসপাতালে অনেক রোগী ছিল। এ জন্য পুলিশ অত্যন্ত ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন