শাহরাস্তিতে প্রেমিকার ফোনব্লকের কষ্ট সইতে না পেরে মো. আহসান হাবিব ১৮ নামের এক যুবক আত্মহননের পথ বেঁচে নিয়েছেন।
ওই যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ শেষে ও মঙ্গলবার রাতে উপজেলার মেহের দক্ষিণ ইউপির বটুয়াপাড়া গ্রামের বটুয়াবাড়িতে পারিবারিক কবরের স্থানে দাফন করা হয় তাকে।
বুধবার সকালে এবিষয়ে নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্র জানায়, ওই বাড়ির সৌদি আরব প্রবাসি আমান উল্ল্যার এক মাত্র পুত্র আহসান ৭ম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করে স্কুলের ইতিটানেন। পরবর্তীতে সে ভাড়ায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করত।
আজ থেকে ২ বছর পূর্বে পার্শ্ববর্তী দেবকরা গ্রামের লদের বাড়ির জনৈক আমির হোসেনের জেঠ্যাসের স্কুল পড়ুয়া মেয়ে সাথী ১৭ চট্টগ্রামের রাঙ্গামাটি থেকে বেড়াতে আসে এই গ্রামে। ওই দেখা থেকে আহসানের সাথীর সাথে প্রনয়ের সুত্রপাত হয় । তার পর মুঠোফোনে চুটিয়ে চলতে থাকে তাদের প্রেমলীলা। এরই মধ্যে ৬ মাস পূর্বে প্রেমিক যুগল বিবাদে জড়িয়ে সম্পর্কের ইতিটানেন।
সম্প্রতি আবার তারা পরিবারের অগোচরে মুঠোফোনে কথা বলা শুরু করে।
সোমবার হঠাৎ করে আহসান সাথীর মুঠোফোনে কথাকাটা কাটির একপর্যায়ে ফোনচ্যাটে বিবাদে জড়িয়ে যায়।
এ প্রসঙ্গে আহসানের বড়বোন শারমীন আক্তার রুনু “মুঠো ফোনের মেসেজচ্যাট দেখিয়ে বলেন, আমার ভাই ওই রাতে সাথীকে তার ফোন নাম্বার ব্লক না করার অনুরোধ করে। কিন্তু সাথী তার ফোনব্লক করে দেওয়ায় হুমকি দিলে আমার ভাই আহসান আত্মহনের হুমকি দেয়।
এতে সাথী বিষয়টিকে হালকা ভাবে নিয়ে তাকে এ কাজে উৎসাহ প্রদান করে।
এক পর্যায়ে আমার ভাই আহসান নিজ বিল্ডিংয়ের একটি সিলিং ফ্যানে ওড়না পেচিয়ে সকলের অগোচরে ওই রাতের কোন এক সময় আত্মহনন করে।
মঙ্গলবার সকালে পরিবারের সদস্যরা আহসানের সাড়াশব্দ না পেয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় দরজা ভেঙ্গে পুলিশকে খবর দেয়।
ওই সংবাদের ভিত্তিতে শাহরাস্তি মডেল থানার এস আই হাবিব সঙ্গীয় ফৌর্স ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরুত হাল সংগ্রহ শেষে চাঁদপুর মর্গে মরদেহ পাঠায়।
এ বিষয়ে শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মোহাম্মদ শহিদ হোসেন জানান, আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ শেষে একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছে।
এদিকে প্রেমিকা সাথীর পরিবার সম্পর্কে তেমন কোন তথ্য দিতে পারেনি আহসানের পরিবার।

মোঃ মাসুদ রানা