প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২৪ । ৬:৪২ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩

হাইমচরে মাছের আড়তে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে জাটকা ইলিশ

মোঃ সাজ্জাদ হোসেন রনি 
হাইমচর উপজেলার সবচাইতে বড় মাছের আড়ত চরভৈরবী মাছ ঘাট। সেখানে দিনের বেলায় প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে জাটকা ইলিশ। জেলেরা অবৈধ কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ শিকার করে এনে এ আড়তে ডাকের মাধ্যমে বিক্রি করার মত ঘটনা ঘটে আসছে প্রায় ১ মাস যাবত। ২ থেকে ৪ ইঞ্চির এ মাছ গুলো নিধন করে ইলিশ মাছের প্রজম্মকে ধ্বংশ করছে এ অসাধু জেলে ও আড়তদাররা। প্রকাশ্যে জাটকা বিক্রি বন্ধ করার বিষয়ে উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটি, মৎস্য অফিস কিংবা সংশ্লিস্ট দপ্তরের কোন প্রকার ভ’মিকা না থাকায়  এ নিয়ে স্থানীয় মানুষজনের মাঝে রয়েছে সমালোচনা।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিন সকাল ভোর ৬টা থেকে সকাল ১০ টা পর্যন্ত জাটকা মাছগুলো বিক্রি করা হচ্ছে আড়তে। নদী থেকে ট্রে ভরে মাছ এনে আড়তের ডালায় ঢেলে ডাক তুলেন আড়তের সরকার। মাছ ব্যবসায়ীরা ডাকের মাধ্যমে মাছগুলো ক্রয় করে মাছে বরফ দিয়ে উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করছে। এ জাটকা মাছগুলো মাইকিং করে বাড়ি বাড়ি গিয়েও বিক্রি করতে দেখা যায় ব্যবসায়ীদের।
স্থানীয় জেলে মো মিলন বেপারী বলেন, আমরা বৈধ জাল দিয়ে নদীতে মাছ ধরি। বৈধ জাল দিয়ে নদীতে মাছ ধরতে গেলে প্রশাসনের লোক আমাদের বৈধ জাল কেটে দেয়, মারধোর করে। যারা অবৈধ জাল দিয়ে মাছ ধরে তাদের কিছু বলে না। আর আমরা বৈধ জাল দিয়ে মাছ ধরতে পারি না। মাঝ চরের, বরিশাল, মহনপুরের জেলেরা কারেন্ট জাল দিয়ে গুরা গুরা জাটকা মাছগুলো ধরে এনে চরভৈরবী আড়তে বিক্রি করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আড়তের সরকার বলেন, গত এক মাস ধরে এখানে ছোট ছোট জাটকা মাছগুলো বিক্রি হচ্ছে। ভোর থেকে বেলা ১১ টা পর্যন্ত মোনে মোনে জাটকা বিক্রি হয়। প্রশাসনের লোকজন মাঝে মধ্যে এসে ঘুরা দিয়ে চলে যায়। কে শুনে কার কথা, টাকার লোভে আড়তদাররাই এ জেলেদের নদীতে নামিয়ে জাটকা মাছগুলো ধরাচ্ছে। জেলেরা মাছ এনে তাদের আড়তে বিক্রি করছে, আড়তদাররা কমিশন পাচ্ছে।
জেলা মৎস্যজীবি লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটির সদস্য মানিক দেওয়ান বলেন, নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সংলগ্ম মাছের আড়ত, উপজেলা মৎস্য অফিস থেকে আড়তে আসতে সর্বোচ্ছ ১৫ মনিট সময় লাগে। তাদের নাকের ডগায় এ জাটকা মাছগুলো এভাবে ধ্বংস হচ্ছে এটা খুবই দু:খজনক। তারা বেচতে না দিলে তো আর তারা এভাবে প্রকাশ্যে বিক্রি করতে পারে না। বিভিন্ন সময়ের অভিজ্ঞতা থেকে যদি বলি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ফোন করে বলি অমক যায়গায় জাটকা বিক্রি হয়, তখন তারা আবার ব্যবসায়ীদের বলে দেয় মানিক দেওয়ানের ফোনের কারনে আমরা বসে থাকতে পারি না। এখানে যারা আড়তদার তারা খুবই প্রভাবশালী, রাজনৈতিকবীদ। এদের ভয়ে অনেক মানুষ কিছু বলে না। যে ভাবে তারা মাছ মারে তারা রাষ্ট্রদোহী কাজ করে। এদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদোহী মামলা দেয়ার দরকার। যারা বেচায়, যারা ধরায়, তারাই ধরে। এ মাছ দেশের সম্পদ। আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলেছিলাম, সোনার বাংলা গড়তে ৪১ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না। এ নদীর ইলিশ মাছ রক্ষা করতে পারলে এখনই সোনার বাংলা গড়া সম্ভব।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রশিদ জানান, ঐ আড়তে প্রতিদিনই জাটকা মাছ বিক্রি হয় এমন সংবাদ আমাদের কাছে আছে। ইউএনও স্যার এসিল্যান্ড স্যার ও জেলা মৎস্য কর্মকর্তা স্যার সহ আমরা একটি বড়ধরনের অভিযানের চিন্তা করতেছি। তিনি বলেন, আমরা গত কয়েকদিন আগে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মাইকিং করে জাটকা বিক্রি করার সময় ৩জনকে মাছসহ আটক করেছি। তাদের মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ম্যাজিস্ট্রেট স্যার সাজাও দিয়েছেন। আমরা আশা করি চরভৈরবী থেকেও আমরা বিপুল পরিমান মাছসহ তাদের আটক করতে পারবো। সেই লক্ষেই আমরা পরিকল্পনা করছি।
নীলকমল নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ , মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, চরভৈরবী মাছ ঘাটে সকাল বেলা জাটকা ইলিশ মাছ বিক্রি হয় বিষয়টি ইউএনও স্যারকে বলেছি। তিনি বলেছেন  দুই একদিনের মধ্যে একটি অভিযান দিবেন। আসলে মৎস্য অফিসার, ম্যাজিস্ট্রেট না থাকলে উপরে অভিযান দিতে পারি না। এছাড়া আমাদের ফোর্সরা কুমিল্লায় ট্রেনিংএ আছেন। আমরা চেষ্টা করি নদীতে অভিযান পরিচালনা করে জাটকা মাছগুলো রক্ষা করতে।
উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটির সভাপতি, উপজেলা নির্বাহি অফিসার পুর্বিতা চাকমা বলেন, আমি বিষয়টি জেনেছি, খুবদ্রুতই অভিযান পরিচালনা করবো। ইতিমধ্যে এসিল্যান্ডকে বলে দিয়েছি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন