প্রকাশের সময়: সোমবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৪ । ৬:৩৪ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে গুণী শিক্ষক আবুল কালামের কর্মক্ষেত্রের প্রস্থান

মোঃ মাসুদ রানা
শাহরাস্তিতে একজন গুণী মেধাবী শিক্ষক মো: আবুল কালামের কর্মক্ষেত্র হতে অবসরে গেলেন।
সরকারি নিয়ম নীতি মেনে তিনি ঐতিহ্যবাহী সূচিপাড়া ডিগ্রী কলেজের উপাধ্যক্ষ পদে শিক্ষকতা শেষে এক বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের ইতি টানেন।
গত বৃহস্পতিবার তিনি শিক্ষকতা জীবনে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে শেষ পাঠদানের ক্লাসটুকু সম্পন্ন করেন।
ওই সময় শিক্ষক শিক্ষার্থীদের কাঁদিয়ে নিজেও অঝোরে কেঁদেছেন।
তৎকালীন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন এলামনি রসায়ন বিভাগের অনার্স মাস্টার্স করা একজন চৌকস মেধাবী টগবগে তারল্যদীপ্ত যুবক ডাকাতিয়ার দক্ষিন পাড়ের শাহরাস্তির অজপাড়াগায়ে তৎকালীন সুচিপাড়া কলেজের টিন সেড,বাঁশের বেড়াবেষ্টিত কলেজে নাম মাত্র বেতনে অধ্যাপনা শুরু করেন।এটি আজ উপজেলার সেরা কলেজ গুলোর মধ্যে অন্যতম। এ উন্নতির শিখরে আহরণের যত প্রক্রিয়া অনুষ্ঠিত হয়, সবকিছুর সঙ্গেই সম্পৃক্ততা ছিল এই শিক্ষক আবুল কালামের।
তিনি যেমনি ছিলেন পরিশ্রমী, তেমনি মেধাবী, দক্ষ  সর্বজন শ্রদ্বেয়, সুভক্তা, সেরা সংগঠক। এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে গিয়ে তিনি সমগ্র উপজেলায় একজন অভিভাবক, জনপ্রিয় ও স্বনামধন্য বহুমাত্রিক প্রতিভাবান  শিক্ষক হিসেবে সমাদৃত হন।
কে এই আবুল কালাম? যার কর্মকাল শেষে তিনি গণমাধ্যমের শিরোনাম হলেন?
সংশ্লিষ্ট সূত্রজানায়, বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী এ বিনয়ী, সজ্জন, সদাহাস্যোজ্বল এই শিক্ষাবিদ কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলার পৌরশহরের কাদরা গ্রামের ব্রিটিশ আমলের এমএলএ হাকিম মৌলভী বাড়ীতে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
তিনি লাকসাম সরকারি স্কুল, লাকসাম নবাব ফয়জুন্নেসা সরকারি কলেজ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী। সাংবাদিকতায় ও সুনামের সাথে পদচারণা করেন। শাহরাস্তি প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি,  দৈনিক চাঁদপুর কন্ঠ, দৈনিক প্রথম আলো, বর্তমানে যায়যায়দিনের শাহরাস্তি উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবেও কাজ করেন।
তিনি রোটারিয়ান, শ্রেষ্ঠ রোভার স্কাউটস, রেড ক্রিসেন্টে ব্যক্তিত্ব হিসাবে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে পুরস্কৃত হন। শাহরাস্তি উপজেলার শ্রেষ্ঠ কলেজ শিক্ষক হিসেবে পুরস্কৃত হন। শিক্ষকদের দাবীদাওয়া আদায়ের প্রথম সারির একজন যোদ্ধা আবুল কালাম শাহরাস্তি উপজেলা কলেজ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও চাঁদপুর জেলা কলেজ শিক্ষক সমিতির সহ সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
তাঁর সহধর্মিণী মনোয়ারা খানম সূচীপাড়া ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক। বড় ছেলে ডাঃ মুনতাসীর কালাম নাবিল ও পুত্রবধু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, ছোটছেলে মোবাশ্বের কালাম নাহিন বর্তমানে হামদার্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক।
যে জন্য তিনি শিক্ষার্থী অভিভাবক সমাজের বিভিন্ন স্তরের পেশার মানুষের প্রিয় শিক্ষক হয়ে ওঠেন
শেষ কর্ম দিবসে ক্লাশ নিচ্ছেন আবুল কালাম
যার অন্যতম কারণ ছিল হতদরিদ্র  শিক্ষার্থীদের বিনেপয়সায় পাঠদান, বই কিনে দেওয়া, আর্থিক সহযোগিতা করা সহ বিয়ে-শাদী পর্যন্ত তিনি অবদান রাখতেন।
এছাড়া তিনি একজন সফল সাংবাদিক নেতা ও গণমাধ্যম কর্মী ছিলেন। বিগত দিনগুলোতে তিনি শাহরাস্তির প্রতিটি গ্রামগঞ্জে ছুটে গিয়েছেন মানুষের দুঃখ কষ্টের সংবাদ পরিবেশন করতে।
এমন কোন সংবাদ নেই যেটি তিনি বাংলাদেশের প্রথম সারির জাতীয় দৈনিক প্রথম আলো, যায়যায়দিন,  স্থানীয় দৈনিক চাঁদপুর কন্ঠে  উঠাননি। তিনি ভালবাসতেন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের, শাহরাস্তির আপামর জনসাধারণকে, তিনি ভালবাসতেন শাহরাস্তির গণমাধ্যম কর্মীদেরকে।
পরিশেষে লাল সালাম, আপনার মত বিনম্র ভদ্র নম্র একজন আবুল কালামের জন্ম বাংলার মাটিতে ঘরে ঘরে হোক। তাহলে ভাগ্যবান হবে এ জাতি। ভালো থাকবেন, একজন আবুল কালাম। আপনার জন্য আগামী দিনগুলো আরো সুন্দর ও সুখীময় হোক জীবন ।
পরিশেষে ক্ষমা ও মার্জনা চেয়ে চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করে, শাহরাস্তি বাসীকে আপনি যতটুকু দিয়েছেন ।  আমরা আপনাকে নানা সমীকরণের জটিলতায় ততটা মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছি।
কিন্তু ভালোবাসা দিতে একটু ভুল করিনি। যার প্রমাণ, আপনার কর্মজীবনের প্রস্থানের সংবাদ টুকু সোশ্যাল মিডিয়ায় ফুটে উঠতেই। বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ অকুণ্ঠ ভালোবাসা জানিয়ে লেখা মালা ছড়িয়েছে।
ধন্যবাদ আবুল কালাম স্যার ভালো থাকবেন।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন