প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ । ১:৪১ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

পুলিশি হয়রানিতে ঘরছাড়া শাহরাস্তির কয়েক গ্রামের যুবকরা

প্রিয় চাঁদপুর ডেস্ক

পুলিশ আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন চাঁদপুরের হোসেনপুরবাসী। ডাকাতির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকার নির্দোষ যুবকদের গ্রেফতার করায় এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। তারা অবিলম্বে, পুলিশের এই হয়রানি বন্ধের পাশাপাশি অভিযুক্ত ওসিকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।

ফয়সাল হোসেন সজিব। সদ্য অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এলাকায় এসেছিলেন। এক ডাকাতির ঘটনায় এই যুবককে পুলিশের তথাকথিত মামলায় অভিযুক্ত হয়ে এখন থানাহাজতে দিন কাটাতে হচ্ছে।

ফয়সালের মা রশিদা বেগম বলেন, পরিবারের উপার্জনক্ষম বড় ছেলে ফয়সাল। হঠাৎ করেই তাকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে। সে নাকি ডাকাতি করেছে। নির্দোষ ছেলের মুক্তির পাশাপাশি অভিযুক্ত পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

ফয়সালের স্ত্রী জানান, গভীর রাতে দরজা ভেঙে পুলিশ ঘরে ঢোকে। আমার স্বামীকে জোরজবরদস্তি করে নির্যাতন করে। আমার স্বামীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা মামলা নেই। তারপরও কেন পুলিশ তাকে জেলহাজতে পাঠিয়েছে। তাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ আমাকে ও আমার সন্তানকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। এতে করে আমার ছেলের বাম হাত ভেঙে যায়।

ফয়সালের বাবা আনোয়ার হোসেন বলেন, আমার ছেলেকে নেওয়ার পর দুইদিন থানায় আটকে রাখে। আমাদের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা চেয়েছে, দিতে পারিনি বলে ছেলের নামে ডাকাতির মামলা দিয়েছে।

শুধু ফয়সাল হোসেন সজিবের পরিবার নয়, পুরো হোসেনপুরবাসী পুলিশি এই হয়রানির প্রতিবাদে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এলাকার তরুণ সমাজ, ব্যবসায়ীসহ নানান পেশার মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন।

অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নির্দোষ যুবকদের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার হোসেনপুর বাজারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন এলাকাবাসী। দীর্ঘদিন ধরেই তারা পুলিশের হয়রানির শিকার। মামলায় নাম বা অভিযোগ না থাকা সত্ত্বেও নানা হুমকি-ধামকি দিয়ে মোটা অংকের টাকা দাবি করে পুলিশ। তা না হলে এলাকাবাসীকে হয়রানির শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ স্থানীয় যুবকদের।

স্থানীয় যুবক হানিফ আহমেদ বলেন, আমরা যারা স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী কিংবা বিভিন্ন কাজে জড়িত, তারা এখনো পুলিশের হয়রানির কারণে ঘরছাড়া। হঠাৎ করেই রাতে পুলিশ এসে ঘর থেকে তুলে নিয়ে যায়। যারা টাকা দেয়, তাদেরকে ছেড়ে দেয়।

পুলিশি হয়র্নীর বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

জেলা কারাগার থেকে সদ্য মুক্তি পাওয়া যুবক স্বপন বলেন, আমাকে বিনা কারণে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। পরে চুরি-ডাকাতির মামলা দিয়ে জেলে পাঠায়। দীর্ঘদিন জেল খেটে মুক্তি পেয়েছি। বিনা কারণে জেলে যেতে হয়েছে। আমরা সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

এদিকে যেই ডাকাতির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসী পুলিশি হয়রানির শিকার, সেই মামলার বাদী সীমা রানী বলছেন, তিনি থানায় কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেননি।

অন্যদিকে শাহরাস্তি পৌর সভার ঠাকুরবাজার এলাকায় দোকানে চুরির ঘটনায়িএক কাউন্সিলর সহ তিন যুবকের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হয়রানী করছে পুলিশ। বর্তমানে ওই যুবকরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে।

ওই যুবকরা জানায়, সাম্প্রতীককালে বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ী, অসামাজিক কার্যকলাপে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার কারণে তাদের উপর ক্ষুব্ধ ওসি।

এ বিষয়ে শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলমগীর হোসেন জানান, ডাকাতির মামলা আছে বলেই ফয়সালকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এজন্য তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। তবে নির্দিষ্ট কোন মামলা কিংবা অভিযোগ রয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে তার সঠিক কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

ঠাকুর বাজারের চুরির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে ফোন কেটে দেন।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন