কচুয়া উপজেলার সর্বত্র রাসেল ভাইপার নিয়ে আতংক বিরাজ করেছে।
রবিবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুড়ে দেখা গেছে কচুয়ার কোথায়ও রাসেল ভাইপারের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইজবুকে উপজেলার রহিমানগর সাতাবাড়িয়া এলাকায় রাসেল ভাইপারের সন্ধান পাওয়া গেছে বলে কচুয়া বার্তা বাজার, Soykot hossen, Md mahedi hassan meraz,David rana, মফিজুল ইসলাম বাবুল সহ বিভিন্ন আইডি থেকে পোস্ট করা হয় সাতবাড়িয়া রাসেল ভাইপারের সন্ধান পাওয়া গেছে।
সরজমিনে ঘটনাস্থলে গেলে এলাকাবাসী যে সাপটিকে রাসেল ভাইপার হিসেবে চিহ্নিত করেছে, সত্যিকার অর্থে ওই সাপটি দুধরাজ সাপ। নেটিজেনরা মনে করছেন, ভুয়া আইডির মাধ্যমে রাসেল ভাইপারের আতংক বিরাজ করার জন্য একটি চক্র উঠে পড়ে লেগেছে।
কচুয়ায় কোথায়ও রাসেল ভাইপারের দেখা না মিললেও ছোট বড় সকলের মাঝে রাসেল ভাইপারের আতংক বিরাজ করছে।
শ্রীরামপুর গ্রামের সুমাইয়া আক্তার নামের এক স্কুল ছাত্রী জানান, মামা জমিতে মাঠে কাজ করছে, বাড়ি থেকে পানি নিয়ে যাচ্ছি কিন্তু মনের ভিতর ভয় কাজ করছে রাসেল ভাইপার সাপের আতংক। তারপরেও সাহস করে মামার জন্য জমিতে পানি নিয়ে গেছি।
এভাবে সুমাইয়ার মতো বিভিন্ন স্কুল পড়ুয়া ছাত্রছাত্রী সহ কৃষক, শ্রমিক পেশার মানুষরা এই রাসেল ভাইপারের আতংকের মধ্যে দিয়ে দিন পার করছে।
কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডাঃ সোহেল রানা জানান, রাসেল ভাইপার সবচেয়ে বিষাক্ত সাপ। এই সাপ দংশন করলে বিষক্রিয়ায় রক্ত জমাট বন্ধ হয়ে যায়। ফলে অত্যাধিক রক্তক্ষরণে অনেক দীর্ঘ যন্ত্রণায় মৃত্যু হয়। সাপ সাধারনত ডিম পাড়ে এবং ডিম ফুটে বাচ্চা হয়। তবে রাসেল ভাইপার সাপ ডিম পাড়ার পরিবর্তে সরাসরি বাচ্চা দেয়। এরা বছরে যেকোন সময় প্রজনন করে। একটি স্ত্রী সাপ গর্ভধারন শেষে ২০ থেকে ৪০টি বাচ্চা দেয়। তবে কোন কোন সাপ ৮০ টি বাচ্চার দেওয়ার রেকর্ড আছে।
তিনি আরো জানান, রাসেল ভাইপার সাপ থেকে আতংকিত না হয়ে আমাদের সকলকে সচেতন থাকতে হবে।
এখন পর্যন্ত কচুয়ায় সাপে কাটার কোন রোগী হাসপাতালে আসেনি।

ইসমাইল হোসেন বিপ্লব, কচুয়া