প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ২৮ জুন, ২০২৪ । ১১:০২ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে জনপ্রিয় ও গুণী শিক্ষক দম্পতির অবসর জনিত বিদায় সংবর্ধনা

মোঃ মাসুদ রানা

শাহরাস্তিতে এক জনপ্রিয় গুণী শিক্ষক দম্পতির অবসর জনিত বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া  হয়েছে।

বৃহস্পতিবার উপজেলার সূচীপাড়া ডিগ্রি কলেজে ও শিক্ষার্থীদের আয়োজনে রসায়ন বিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো.আবুল কালাম ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মনোয়ারা খানমকে এ বিদায় সংবর্ধনা দেয়া হয়। ওইদিন দুপুরে কলেজ মিলনায়তনে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ মো.মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে ও শিক্ষার্থী উসায়মা ইসলাম চারু এবং পূজা রাণী ঘোষের যৌথ সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন, শিক্ষার্থীদের পক্ষে ইসরাত জাহান নিশি, জাহিদ হাসান সবুজ, মেহেরাজ হোসেন, আর রাফি ও মো. মহিবুল্লাহ পাটোয়ারী, শিক্ষকদের পক্ষে সহকারী অধ্যাপক নূরুল হক, মো.শাহজামাল, মো.মোয়াজ্জেম হোসেন, কৃষ্ণ চন্দ্র দাস,  ওয়ালিউর রহমান মোল্লা, প্রভাষক ওমর ফারুক ও প্রদর্শক মো.আশিকুর রহমান।

অনুষ্ঠানে উপস্হিত ছিলেন কলেজের শিক্ষক, কর্মচারী ও বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীবৃন্দ।

উল্লেখ্য,  সহকারী অধ্যাপক মো.আবুল কালাম ও সহকারী অধ্যাপক মনোয়ারা খানম ১৯৯২ সালের ২০ জুলাই সূচীপাড়া ডিগ্রি কলেজে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করে পরবর্তীতে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে প্রায় ৩২ বছর শিক্ষাকতা করে এ বছর যথাক্রমে ২০ ও ৩১ জানুয়ারি অবসরে যান।দাম্পত্য ও কর্মময়  জীবনে তারা সফল স্বামী-স্ত্রী জুটি। একজন অন্যজনের ছিলেন রথের সারথি। স্ত্রী  মনোয়ারা খানম মাদারীপুর জেলার কালকিনি পৌরসভার দক্ষিণ ঠেঙ্গামারা গ্রামের মৃত ফৈজুদ্দিন বেপারীর কনিষ্ঠ কন্যা।

ওনার বড় বোন চাঁদপুর জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী। ছোট ভাই সেনা কর্মকর্তা কর্নেল এমারাত হোসেন, অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ ইন্সপেক্টর মাহাবুবুর রহমান, ব্র্যাক ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসার আজাদ মাহমুদ, সুপ্রিম কোর্টের এডভোকেট ফরসাল আহমেদ রিয়াদ।

তিনি পড়াশুনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে ১৯৮৬ সালে ইসলামের ইতিহাস বিভাগ হতে অনার্স ও ১৯৮৭ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।তারপর কর্মময় জীবনে সূচীপাড়া ডিগ্রী কলেজ  প্রভাষক হিসেবে যোগদান করে ওই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসাবে পদোন্নতি নিয়ে কর্মময় জীবন শেষ করেন। তাদের ২-পুত্র সন্তান রয়েছে। একজন ডা.মো.মোনতাসির কালাম নাবিল লাকসাম জেনারেল হাসপাতালে ডাক্তার হিসেবে ও অন্যজন মো.মোবাশ্বির কালাম নাহিন হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয়ে হিউম্যান রিসোর্স বিভাগের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত।

কে এ শিক্ষক আবুল কালাম। এত শিক্ষকের ভিড়ে তিনি কেন এত জনপ্রিয়।শিক্ষক শিক্ষার্থী,স্থানীয়বাসিন্দা,এলাকাবাসী, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, গণমাধ্যম কর্মী,বিশিষ্টজন সূত্রে জানা যায়,  তিনি যেমনি ছিলেন মেধাবী, গুণি,নম্র ভদ্র,সৎ ও সত্যবাদী  ,ধার্মিক  তেমনি ছিলেন জনপ্রিয়।ওই শিক্ষক আবুল কালামের জনপ্রিয়তার  উচ্চ শিখরে আহরণের মূল মন্ত্র ছিল শিক্ষার্থীদের মেধার ঝুলি থেকে সব উজাড়  করে পাঠদান ও হৃদয় উজাড় করে ভালোবাসতেন তাদের।

সরকারি নিয়ম নীতি মেনে তিনি ঐতিহ্যবাহী সূচিপাড়া ডিগ্রী কলেজের উপাধ্যক্ষ পদে শিক্ষকতা শেষে এক বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের ইতি টানেন। শিক্ষকতা জীবনে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে শেষ পাঠদানের ক্লাসটুকু সম্পন্ন করেন যেদিন সেদিন সবাইকে কাঁদিয়ে নিজেও অঝোরে  কেঁদেছিলেন । কর্মজীবনের প্রথম দিকে তৎকালীন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন এলামনাই রসায়ন বিভাগের অনার্স মাস্টার্স করা একজন চৌকস মেধাবী টগবগে তারল্যদীপ্ত যুবক ডাকাতিয়ার দক্ষিন পাড়ের শাহরাস্তির অজপাড়াগায়ে তৎকালীন সুচিপাড়া কলেজের টিন সেড,বাঁশের বেড়াবেষ্টিত কলেজে নাম মাত্র বেতনে চাকরি (শিক্ষকতা)  শুরু করেন।এটি আজ উপজেলার সেরা কলেজ গুলোর মধ্যে অন্যতম। এ উন্নতির শিখরে আহরণের যত প্রক্রিয়া অনুষ্ঠিত হয়,সবকিছুর সঙ্গেই সম্পৃক্ততা  ছিল এই শিক্ষক আবুল কালামের।

তিনি যেমনি ছিলেন পরিশ্রমী, তেমনি মেধাবী,  দক্ষ  সর্বজন শ্রদ্বেয়, সুভক্তা, সেরা সংগঠক। এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে গিয়ে তিনি সমগ্র উপজেলায় একজন অভিভাবক,  জনপ্রিয় ও স্বনামধন্য  বহুমাত্রিক প্রতিভাবান  শিক্ষক হিসেবে  সমাদৃত হন।  বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী এ বিনয়ী, সজ্জন, সদাহাস্যোজ্বল এই শিক্ষাবিদ কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলার  পৌরশহরের কাদরা গ্রামের ব্রিটিশ আমলের এমএলএ হাকিম মৌলভী বাড়ীতে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের  জন্মগ্রহণ করেন।  তিনি লাকসাম সরকারি স্কুল, লাকসাম নবাব ফয়জুন্নেসা সরকারি কলেজ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী। সাংবাদিকতায় ও সুনামের সাথে পদচারণা করেন।

সাংবাদিক মো: আবুল কালামের মূল্যায়ন করতে গিয়ে শাহরাস্তি প্রেসক্লারে সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো: মাসুদ রানা বলেন, তিনি শাহরাস্তি প্রেসক্লাবের সাবেক  সভাপতি,  দৈনিক চাঁদপুর কন্ঠ, দৈনিক প্রথম আলো, বর্তমানে যায়যায়দিনের শাহরাস্তি উপজেলা  প্রতিনিধি হিসেবেও কাজ করেন। তিনি  রোটারিয়ান,  শ্রেষ্ঠ রোভার স্কাউটস,রেড ক্রিসেন্টে ব্যক্তিত্ব  হিসাবে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে পুরস্কৃত হন।

শাহরাস্তি উপজেলার শ্রেষ্ঠ কলেজ শিক্ষক হিসেবে  পুরস্কৃত হন। শিক্ষকদের দাবীদাওয়া আদায়ের প্রথম সারির একজন যোদ্ধা আবুল কালাম শাহরাস্তি উপজেলা কলেজ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও চাঁদপুর জেলা কলেজ শিক্ষক সমিতির সহ সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। যে জন্য তিনি শিক্ষার্থী অভিভাবক সমাজের বিভিন্ন স্তরের শ্রেণী  পেশার মানুষের প্রিয় শিক্ষক হয়ে ওঠেন। যার অন্যতম কারণ ছিল হতদরিদ্র  শিক্ষার্থীদের বিনেপয়সায় পাঠদান, বই কিনে দেওয়া, আর্থিক সহযোগিতা করা সহ বিয়ে-শাদীতে পর্যন্ত তিনি অবদান রাখতেন।

এছাড়া তিনি একজন সফল সাংবাদিক নেতা ও গণমাধ্যম কর্মী ছিলেন। বিগত দিনগুলোতে তিনি শাহরাস্তির  প্রতিটি গ্রামগঞ্জে ছুটে গিয়েছেন মানুষের দুঃখ কষ্টের সংবাদ পরিবেশন করতে।এমন কোন সংবাদ নেই যেটি তিনি বাংলাদেশের প্রথম সারির জাতীয় দৈনিক প্রথম আলো, যায়যায়দিন, স্থানীয় দৈনিক চাঁদপুর কন্ঠে  উঠাননি। তিনি ভালবাসতেন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের, শাহরাস্তির আপামর জনসাধারণকে, তিনি ভালবাসতেন শাহরাস্তির গণমাধ্যম কর্মীদেরকে।

পরিশেষে লাল সালাম, আপনার মত বিনম্র ভদ্র নম্র  একজন আবুল কালামের জন্ম বাংলার মাটিতে ঘরে ঘরে হোক। তাহলে ভাগ্যবান হবে এ জাতি। ভালো থাকবেন, একজন আবুল কালাম। আপনার জন্য আগামী দিনগুলো আরো সুন্দর ও সুখীময় হোক জীবন। পরিশেষে ক্ষমা ও মার্জনা চেয়ে না বললে নয় শাহরাস্তি বাসীকে আপনি যতটুকু দিয়েছেন,আমরা আপনাকে নানা সমীকরণের জটিলতায় ততটা মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছি।

কিন্তু ভালোবাসা দিতে একটু ভুল করিনি। যার প্রমাণ, আপনার কর্মজীবনের প্রস্থানের সংবাদ টুকু সোশ্যাল মিডিয়ায়  বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ অকুণ্ঠ ভালোবাসা জানিয়ে লেখা মালা ছড়িয়েছে। যার প্রমাণ শাহরাস্তির রাস্তায় আপনি হাঁটলে মানুষের সম্মান ও ভালোবাসা আপনাকে মুগ্ধ করে। ধন্যবাদ প্রিয় স্যার,বিজ্ঞ সাংবাদিক নেতা   আবুল কালাম   ভালো থাকবেন।

এছাড়া শাহরাস্তি প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া ও সাধারণ সম্পাদক নোমান হোসেন আখন্দ এ জনপ্রিয় শিক্ষক ও গুণী সাংবাদিক সম্পর্কে বলেন, তিনি জন্মসূত্রে বৃহত্তর কুমিল্লার অধিবাসী হলেও, তার শিক্ষকতা শৈলী সাংবাদিকতার রণকৌশল সর্বোপরি শাহরাস্তি বাসীর জন্য  অবদানএ জনপদে বহুদিন চিরস্মরণীয় হয়ে  থাকবে। যে নামটি আগামী প্রজন্মের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা  উদাহরণে আপনাকে স্মরণ রাখবে।নতুন প্রজন্মের মুখে মুখে এ আবুল কালাম দম্পতি থাকবে আজীবন।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন