গেল বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার রাতে হাজীগঞ্জে দুই গ্রামের সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাইমন (১৬) নামে এক কিশোর মৃত্যুবরন করেন।
শনিবার রাত ৮ ঘটিকার সময় রাজধানীর ধানমন্ডি সুপারম্যাক্স হেলথ কেয়ার লিঃ-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেন কিশোরের পালক বাবা মো: ইউনুস।
কিশোর সাইমন হাজীগঞ্জ পশ্চিম বাজার একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের ছাত্র। তার পালক বাবার বাড়ি চাঁদপুর সদর উপজেলার মহামায়ার চর-বাকিলা এবং দাদার বাড়ি ফরিদগঞ্জের দিকধাইর গ্রামে। তার পালক বাবা পেশায় একজন রাজ মিস্ত্রি। সে হাজীগঞ্জ বিলওয়াই কোকাকোলা ঘাট এলাকায় মা ও পালক বাবার সাথে ভাড়া বাসায় থাকে।
সাইমনের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে রোববার বাদ আসর দাদার বাড়ি ফরিদগঞ্জের দিগধাইর সর্দার বাড়িতে জানাজার নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়।
জানাজার নামাজে ইমামতি করেন, মাওলানা আবু সাইদ মোঃ শরফুদ্দিন।
জানাজার নামাজে উপস্থিত ছিলেন ফরিদগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ, হাজীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম পাটোয়ারি, উপজেলা বিএনপির সাবেক ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক মো. মোস্তফা কামাল সুমন, উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব কাজী জসিম, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক বিল্লাল হোসেন, উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি নজরুল ইসলাম, ফরিদগঞ্জ উপজেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাসেল সর্দার, ফরিদগঞ্জ ৩নং সুবিদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি ইয়াছিন মিয়াজি, সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন, ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ইমরান হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মোশারফ হোসেন, ইউনিয়ন ছাত্রদলের আহবায়ক মনির হোসেন সহ বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা।
দু’গ্রামের সংঘর্ষে গুরুত্বর আহত সাইমনকে প্রথম হাজীগঞ্জ মুন হসপিটালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয় কুমিল্লায়। অবস্থা অবনতি হলে শনিবার দুপুরে নিয়ে যাওয়া হয় ধানমন্ডির সুপারম্যাক্স হেলথ কেয়ারে। সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার রাতে স্থানীয় দুই গ্রাম মকিমাবাদ-টোরাগড়ের কিশোরদের মধ্যে সংঘর্ষে হাজীগঞ্জ বাজার রণক্ষেত্রে পরিণত হয়ে প্রায় অর্ধশত আহত হন।
সংঘর্ষের জেরে বাজারে যান চলাচল ও দোকান-পাট বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে আসলে মধ্যরাতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপির হাইকমান্ড শুক্রবার রাতে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে হাজীগঞ্জ উপজেলা ও পৌর বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের সকল কমিটি তাৎক্ষণিক বিলুপ্ত ঘোষনা করেন।
এঘটনায় অজ্ঞাত তিনশ থেকে ৪০০ জনকে আসামী করে টোরাগড় গ্রামের পারভেজের স্ত্রী তুহিন বেগম হাজীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর ১৩, তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৪।
মামলার পর পরই পশ্চিম গন্ধব্যপুর জমাদার বাড়ির মীর হোসেনের ছের মোহাম্মদ রিফাত (১৯) ও সেন্দ্রা গাজী বাড়ির শুকর আলীর ছেলে মোহাম্মদ ইমরান হোসেন (২৩) আটক করে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ।
ঘটনার সাথে জড়িত বাকী সন্দেহভাজনদের ধরতে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযান চলমান রয়েছে বলে হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহিউদ্দিন ফারুক নিশ্চিত করেন।

মেহেদি হাসান রিমেল