চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম ঢালীকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। হত্যার পর নজরুল ইসলাম ঢালীর লাশ একটি নির্মাণাধীন ভবনের সিঁড়ির রডের সাথে ঝুলিয়ে রাখা হয়।
মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) সকালে নিহত নজরুল ইসলাম ঢালীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে মতলব দক্ষিণ থানা পুলিশ।
নিহত নজরুল ইসলাম ঢালীর বাড়ি উপজেলার ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়নের বেলুতী গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মৃত রুস্তুম আলী ঢালীর ছেলে। নজরুল ইসলাম ঢালী দীর্ঘদিন যাবত খাদেরগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি এলাকায় ঠিকাদারি ব্যবসা করতেন।
পরিবার, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানা যায়, সোমবার বিকাল ৪টায় প্রতিদিনের ন্যায় বাড়ির কাছে দোকানে যাবে বলে বাড়ি থেকে বের হন নজরুল ইসলাম ঢালী। রাত ১০টার সময় স্ত্রী জেসমিন আক্তারের সাথে ফোনে যোগাযোগ হয় নজরুল ইসলাম ঢালীর। এর পর রাত ১২টার দিকে বাড়িতে না যাওয়ায় স্ত্রী জেসমিন আক্তার ও ছেলে জামিউল ইসলাম নাফিজ তার মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার ফোন দিলেও ফোন ধরেননি তিনি। খোঁজাখুঁজি করেও কোথাও তার সন্ধান পাননি স্বজনেরা। পরে মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় লোকজন বাড়ির পাশে স্থানীয় মফিজুল ইসলামের একটি নির্মাণাধীন ভবনের ২য় তলার সিঁড়ির রডের সঙ্গে গলায় রশি পেঁচানো অবস্থায় তার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থলে গিয়ে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশের পাশে নজরুল ইসলাম ঢালীর ব্যবহৃত একটি স্মার্ট ফোন, একটি বাটন মোবাইল ফোন, চশমা, জুতা এবং গ্যাস লাইট পাওয়া যায়।

নিহত নজরুল ইসলাম ঢালীর স্ত্রী জেসমিন আক্তার ও ছেলে জামিউল ইসলাম নাফিজ অভিযোগ করে বলেন, পূর্ব শত্রুতার জেরে ধরে নজরুল ইসলাম ঢালীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। পরে লাশ ঝুলিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়। যে চিকন রশি দিয়ে লাশটির গলা ঝুলানো, তা দিয়ে আত্মহত্যা সম্ভব নয় বলে জানান তারা। এছাড়াও লাশের পা মাটিতে লাগানো ছিল।
ঘটনাটি তদন্তে চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ বিভাগ) রাশেদুল হক চৌধুরীসহ চাঁদপুর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
মতলব দক্ষিণ থানার ওসি সালেহ আহম্মেদ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ চাঁদপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। তিনি আরও বলেন, এটি একটি রহস্যজনক মৃত্যু। এটি আত্মহত্যা না হত্যাকান্ড তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। পিবিআইসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি তদন্ত করছেন।

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব