কেন্দ্রীয় সমিতি ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী শাহরাস্তিতে ইট প্রস্তুতকারী মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ প্রধান উপদেষ্টা ও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছেন।
বুধবার সকালে প্রতিবাদকারি ওই সংগঠনের শাহরাস্তি উপজেলা সভাপতি বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, সমাজসেবক মো: ফারুক হোসেন মিয়াজির নেতৃত্বে এক বিক্ষোভ ও মানববন্ধন শেষে শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিগার সুলতানা বরাবর এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। ৎ
ওই সময় ইট প্রস্তুতকারী মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ বলেন, ইট ভাটায় মোবাইল কোট, জরিমানা, ভাংচুর বন্ধের প্রতিবাদে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা এবং মাননীয় উপদেষ্টা, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় বরাবর একটি স্মারকলিপি দিয়েছি। আমরা বাংলাদেশের ইটভাটা মালিকগন বিগত প্রায় ৩৫/৪০ বছর যাবৎ অনেক প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে ইটভাটার ব্যবসা পরিচালনা করে আসিতেছি। দেশের সকল উন্নয়ন কর্মকান্ড, রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ী সহ সকল অবকাঠামো নির্মানে বাবহৃত ইট সরবরাহ করে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখেছি। দেশের উন্নয়নের সঙ্গে সমতা রেখে আমরা ইটভাটার মালিকগন বায়ুদূষণ রোধে সরকার নির্দেশিত আধুনিক প্রযুক্তির জিগজ্যাগ ভাটা স্থাপন করি যাহা জ্বালানী সাশ্রয়ী, পরিবেশ বান্ধব প্রযুক্তি, ও উপমহাদেশে টেকসই এবং সাশ্রয়ী প্রযুক্তি হিসেবে বিবেচিত।
বর্তমানে ওই প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ফলে এখন দেশের ইটভাটা সমূহ মাত্র ৫-১০% বায়ু দূষণ করছে। জৈব বস্তু পোড়ানোতে ৪০% এবং যানবাহনের কালো ধোয়া ৫০% (দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকা ০৬-০৩-২০২১ ইং তারিখে প্রকাশিত রিপোর্টে- ঢাকা বিশ্ববিদালয়ের রসায়ন বিভাগের জরিপ। পূর্বে ইটভাটার দূষনমাত্রা ছিল ৫৮%। বিদ্যমান জিগজ্যাগ ভাটায় আরও অধিকতর উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করনে পরিবেশ দূষণ কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। এই শিল্পে প্রায় ৫০ লক্ষ শ্রমিক কর্মরত আছে এবং ৫০ লক্ষ পরিবার তথা ২ কোটি মানুষের রুটি রোজগারের ব্যবস্থা আমরা করেছি। ইটভাটা বন্ধ হয়ে গেলে এই লোকগুলো বেকার হয়ে পড়বে।
এছাড়াও প্রায় প্রতিটি ইটভাটার বিপরীতে ১ কোটি টাকার উপরে ব্যাংক লোন যা প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা এই ভাটা সমূহ বন্ধ হয়ে গেলে সমূদয় ব্যাক লোন অনাদায়ী থেকে যাবে। ইটভাটার মালিকগণ বছরে ১ হাজার কোটি টাকার অধিক রাজস্ব দিয়ে থাকেন।
এ বিষয়ে মাননীয় উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান অত্যান্ত আন্তরিক হলেও বর্তমান আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় কারনে জিগজ্যাগ ইটভাটার এ সমস্যা সমাধান হচ্ছে না।
আমরা আশা করছি মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা এবং মাননীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার মাধ্যমেই ইটভাটা পরিচালনার একটি যুক্তিক সমাধান হবে। সবার আগে ড্রাম চিমনী, ফিক্সড চিমনী ও লাকড়ী দিয়ে পোড়ানো ইটভাটা সম্পূর্ণ বন্ধ করা সিদ্ধান্তে মাননীয় উপদেষ্টার সাথে আমরা একমত পোষন করেছি।
কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা না করে তার বিপরীতমুখী অবস্থান নিয়ে বৈধ পদ্ধতির জিগজ্যাগ ইটভাটায় জরিমানা করছেন। আমরা কোন অবস্থাতেই এই সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ঠেলে দিতে চাইনা।কিন্তু বিগত ফ্যাসিষ্ট সরকারের মদদপুষ্টু বসুন্ধরা, কনকর্ড সহ আধিপত্যবাদী প্রতিষ্ঠান সমূহ ইট শিল্পকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে এবং বর্তমান সরকারের সঙ্গে আমাদেরকে দাড় করানোর চেষ্টা করছে।
জিগজ্যাগ ইট ভাটা বন্ধের প্রতিবাদ এবং ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রন) আইন ২০১৩ ইট ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রন (সংশোধন) আইন ২০১৯ এ বর্ণিত জিগজ্যাগ ইটভাটার ছাড়পত্র ও লাইসেন্স প্রাপ্তির জটিলতা নিরসনের জন্য বাংলাদেশ ইট প্রস্তুতকারক মালিক সমিতির বক্তব্য ও প্রস্তাব নিম্নে উল্লেখ করছি।
১। ২০১৩ সনের ইটভাটা নিয়ন্ত্রন আইনের জিগজাগ ভাটা বৈধ পদ্ধতির উল্লেখ থাকলেও উক্ত আইনের ৮(৩) (ঙ) এবং ৮ (৩) (খ) উপ-ধারার “দূরত্ব নির্দিষ্ট” করনের কারনে দেশের কিছু জিগজ্যাগ ইটভাটার মালিকগণ ছাড়পত্র ও লাইসেন্স পাচ্ছেন না। ইতোমধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তর হাইব্রিট কিলন এবং ট্যানেল কিলন এর ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ এলাকার দুরত্ব ১০০০ মিটারের পরিবর্তে ৪০০ মিটার নির্ধারন করেছে সুতরাং আমাদের জিগজ্যাগ ভাটার জন্য উক্ত আইনের ৮ (৩) (৪) ধারায় নিষিদ্ধ এলাকার দূরত্ব ৪০০ মিটার এবং আইনের ৮ (৩) (খ) এ আইনে এ দূরত্ব ৭০০ মিটার করে লাইসেন্স ও ছাড়পত্র পাওয়ার জন্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক পরিপত্র জারীর মাধ্যমে পরিচালনা করার সুযোগ প্রদানের আবেদন জানাচ্ছি।
২। জিগজ্যাগ ইটভাটায় কোন প্রকার হয়রানী যা মোবাইল কোর্ট করা যাবে না, তাহা না হলে আমরা ভ্যাট -ট্যাক্স দেয়া বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবো।
৩। কোন ইটভাটা বন্ধ করতে হলে সরকারী ভাবে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিয়ে বন্ধ করতে হবে।
৪। মাটি কাটার জন্য ডিসির প্রত্যয়নপত্র নেয়ার বিধান বাতিল করতে হবে।
৬। পরিবেশগত ছাড়পত্র, ডি.সি লাইসেন্স, ফায়ার সার্ভিস লাইসেন্স, ট্রেড লাইসেন্স সহ অন্যান কাগজপত্রাদি ইস্যু নবায়নের সময় কেন্দ্রীয় প্রস্তুতকারক মালিক সমিতির প্রত্যয়ন পত্র বাধ্যতামূলক ভাবে জমা দেয়ার বিধান করার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার অনুরোধ করছি।
৬। ইটভাটাকে শিল্প হিসাবে ঘোষনা দেয়ার দাবী করছি।
৭। ইটভাটা পরিচালনায় দীর্ঘ মেয়াদী পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।
ওই সময় ইটভাটা প্রস্তুতকারক সমিতির শাহরাস্তি উপজেলা সভাপতি মোঃ ফারুক হোসেন মিয়াজী বলেন, আমরা শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে উপরিউক্ত বিষয়ের আলোকে একখানা স্মারক লিপি প্রদান করেছি।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন,বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ফয়সাল এন্টারপ্রাইজের মালিক হাজী মহিন উদ্দিন, এডভোকেট কামাল হোসেন, মোস্তফা কামাল, গোলাম মোস্তফা, ইয়াসিন, হারুনুর রশিদ, শামসুল আলম, আক্তার হোসেন, আলহাজ্ব হুমায়ুন কবির প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মোঃ মাসুদ রানা