প্রকাশের সময়: শনিবার, ৮ মার্চ, ২০২৫ । ৮:৪৩ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

আশিকাটিতে জায়গা জমিকে কেন্দ্র করে প্রবাসীকে পিটিয়ে জখম, ঢাকায় প্রেরণ

নিজস্ব প্রতিনিধি
চাঁদপুর সদর উপজেলার ২নং আশিকাট ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলাম প্রধানীয়া গং ও নূরুল ইসলাম গাজীদের মধ্যে জায়গা জমির বিষয়কে কেন্দ্র করে ইরাক প্রবাসী জহির প্রধানিয়াকে পিটিয়ে গুরুতর জঘম করেন নুরুল ইসলাম গাজী তার ছেলে কাউসার গাজী সহ ১৫/১৬ জন ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীরা। গুরুত্ব অবস্থায় ইরাক প্রবাসী জহির প্রধানীকে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে  চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করেন।
বর্তমানে জহির প্রধানীয়া ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। এই ঘটনায় প্রবাসী জহিরের স্ত্রী মিতু আক্তার ৫ মার্চ বুধবার রাতে কাউসার গাজী (২৮), তার পিতা- নূরুল ইসলাম গাজী (৫৫) সহ  অজ্ঞাতনামা আরো ১৫/১৬ জন কে বিবাদী করে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় একখানা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায় নূরুল ইসলাম গাজী জাল-জালিয়াতি করে দলিল সৃজন করে সম্পত্তি নামজারী করিয়া নেয়।বজলুর রহমান প্রধানীয়া, সিরাজুল ইসলাম প্রধানীয়া, আলফাজ উদ্দিন প্রধানীয়া তারা বিষয়টি যখন জানতে পারে তখন তারা নামজারীর বিরুদ্ধে সহকারী কমিশনার (ভূমি), চাঁদপুর সদর বরাবর আপত্তি দেন। আপত্তির ভিত্তিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি), চাঁদপুর সদর ৫ মার্চ বুধবার  উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে শুনানির দিন ধার্য্য করেন। ধার্য্য তারিখে শুনানিতে অংশ গ্রহন করার জন্য বজলুর রহমান প্রধানীয়া, সিরাজুল ইসলাম প্রধানীয়া, আলফাজ উদ্দিন প্রধানীয়া, বজলুর রহমান প্রধানীয়া সহ ইরাক প্রবাসী জহির প্রধানীয়াও সহকারী কমিশনার ভুমি চাঁদপুর সদর কার্যালয়ে উপস্থিত হন। আর পূর্ব থেকেই নুরুল ইসলাম গাজী ও তার ছেলে কাউসার গাজী তাদের ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী সহ সে খানে উপস্থিত থাকেন।
জহির প্রধানীয়া ও তার বাপ চাচারা যাতে শুনানিতে অংশগ্রহণ করতে না পারে, সেজন্য নূরুল ইসলাম গাজী, তার ছেলে কাউসার গাজী এবং তাদের ভাড়া করা অজ্ঞাতনামা ১৫/১৬ জন সন্ত্রাসীরা ঠিক দুপুর ১২ ঘটিকায় জহির প্রধানীয়া ও তার বাবা চাচাদের অফিস থেকে টেনে হিঁচড়ে বাহির করে সবাইকে এলোপাতাড়ী কিল, ঘুষি ও লাথি মারতে শুরু করে। ইরাক প্রবাসী জহির প্রধানীয়া আইনগত ভাবে লড়াই করার কারনে তার প্রতি বেশি ক্ষোপের সৃষ্টি হয়। তাকে  হত্যা করার উদ্দেশ্যে মধ্যযুগীয় কায়দায় দফায় দফায় বুকে-পিঠে, তলপেটে এবং চোখে-মুখে, মাথায়  ইচ্ছামত লাথি, ঘুষি ও লাঠিসোঠা নিয়ে বেদম মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নিলা-ফুলা জখম করে।
নুরুল ইসলাম গাজী ও তার ছেলে কাউসার তাদের ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী দিয়ে প্রবাসী জহিরকে জানে মেরে ফেলার জন্য জোরপূর্বক গলায় চেপে ধরে শ্বাসরূদ্ধ করে রাস্তর উপরে ফেলে দেয়। প্রবাসী জহিরের গলায় থাকা ১ ভরি ওজনের একটি স্বর্নের চেইন, পকেটে থাকা ১টি কালো রংয়ের স্মার্ট ফোন SAMSUNG $20 ultra এবং কালো রংয়ের মানিব্যাগে থাকা ইউএস ১০০ ডলারের ৬টি নোট সহ পকেটে থাকা বংলাদেশী নগদ ১৪,২২৭/- (চৌদ্দ হাজার দুইশত সাতাশ) টাকা জোরপূর্বক ছিনিয়া নেন। প্রবাসী জহিরকে বাঁচাতে তার বাবা চাচারা  এগিয়ে আসিলে বিবাদীগণরা তাদেরকে হত্যা, গুম সহ বিভিন্ন ভয়ভীতির হুমকি ধমকি দিয়ে  দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
এই ঘটনার প্রত্যক্ষ স্বাক্ষী বজলুর রহমান প্রধানীয়া, সিরাজুল ইসলাম প্রধানীয়া, আলফাজ উদ্দিন প্রধানীয়া বলেন নূরল ইসলাম গাজীর সঙ্গে আমাদের জায়গা জমি নিয়ে জামেলা চলতেছে। সে জাল জালিয়াতি করে আশিকাটি মৌজায় দলিল করে, কিন্ত নামজারি করে হোসেনপুর মৌজার আমাদের সম্পত্তিতে। আমরা বিষয়টি জানতে পেরে সহকারী কমিশনার ভুমি চাঁদপুর সদর বরাবর এই নামজারীর বিরুদ্ধে আপত্তি দেই। আপত্তির ভিত্তিতে  ৫ মার্চ শুনানি দিন ধার্য্য করেন। ধার্য্য তারিখে আমরা আমাদের প্রমানাদি নিয়ে সহকারী কমিশনার ভুমি চাঁদপুর সদর কার্যালয়ে আসি। নুরুল ইসলাম গাজী ও তার ছেলে কাউসার দলবল নিয়ে আগে থেকেই সে খানে অবস্থান করে। আমাদের দেখে তারা আক্রমন করে উস্কানীমূলক কথা বলতে থাকে। সহকারী কমিশনার ভুমি চাঁদপুর সদর জেলা প্রশাসকের নির্দেশে গুরুত্বপূর্ণ কাজে অন্যত্র ছিল।
তাদের নামজারির বিরুদ্ধে আপত্তি দেওয়ার কারনে তারা আমাদেরকে অফিস থেকে টেনে হিঁচড়ে বাহির করিয়া আমাদের সবাইকে এলোপাতাড়ী কিল, ঘুষি ও লাথি মারতে শুরু করে। নুরুল ইসলাম ও তার  ছেলে কাউসার মোবাইল করে আরো সন্ত্রাসী এনে ভূমি অফিসের সামনেই প্রবাসী জহিরকে  হত্যা করার উদ্দেশ্যে মধ্যযুগীয় কায়দায় দফায় দফায় বুকে-পিঠে, তলপেটে, মাথায় এবং চোখে-মুখে ইচ্ছামত লাথি, ঘুষি ও লাঠিসোঠা নিয়ে বেদম মারধর করে তাকে রাস্তায় ফেলে রাখে। এই সময় জহিরের গলার চেইন, বিদেশি ৬০০ ডলার, বাংলা টাকা, স্যামসাং একটি মোবাইল ছিনিয়ে নেন। জহির কে চিকিৎসার জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার তার গুরুতর অবস্থা দেখে ঢাকা  রেফার করেন। বর্তমানে সে ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। আমরা এই ভূমি দুস্য সন্ত্রাসী নরুল ইসলাম গাজী তার ছেলে সন্ত্রাসী কাউসার গাজী সহ তাদের ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের বিচারের দাবি করছি।
চাঁদপুর সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ বাহার মিয়া বলেন ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসীর স্ত্রী একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। আমি উপ পরিদর্শক মোঃ একরামুলকে দায়িত্ব দিয়েছি। তদন্ত পূর্বক পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নুরুল ইসলাম গাজী ও তার ছেলে কাউসার গাজী কে না পাওয়াতে তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন