হাইমচরে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ২৫ ব্যবসায়ীকে ইসলামী আন্দোলনের কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মুহাম্মাদ জয়নাল আবেদীন নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করেন।
গত রোববার বিকেলে হাইমচর উপজেলার ২নং উত্তর আলগী দুর্গাপুর ইউনিয়নের কেবিএন উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন মার্কেটে উপজেলা ইসলামী আন্দোলনের তত্ত্বাবধানে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের হাতে নগদ তুলে দেন তিনি।
এর গত ৩মার্চ রাতে উত্তর আলগী কেবিএন উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন মার্কেটে অগ্নিকান্ডে প্রায় ২৫ টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুরে ছাই হয়ে যায়।
এতে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয় মার্কেটের ভিন্ন ব্যবসায়ীরা।
খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ছুটে যান ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন।
তিনি ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ীদের কে সান্তনা দিয়ে সাধ্যানুযায়ী সহায়তার আশ্বাস দেন।
এরপর ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ হাইমচর উপজেলা ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের তালিকা করেন। পরবর্তীতে সেই তালিকা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের হাতে উপহার হিসেবে নগদ অর্থ তুলে দেন। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে অধিকাংশই হিন্দু পরিবারের হওয়ায় এ ধরনের সহায়তা পেয়ে তারা অত্যন্ত খুশি হন।
অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের অর্থ সহায়তা বিতরণ কালে উপস্থিত ছিলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ হাইমচর উপজেলার সভাপতি ডাক্তার মোহাম্মদ শফিউল্লাহ, সেক্রেটারি মোহাম্মদ ফখরুল আলম শিমুল, উপজেলা কমিটির নির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ রুহুল আমিন, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি আলগী বাজার দাখিল মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক কাজী নজরুল ইসলাম রুবেল সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
ইসলামী আন্দোলনের কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মুহাম্মাদ জয়নাল আবেদীন অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের হাতে নগদ অর্থ সহায়তা তুলে দিয়ে বলেন, রোজার মধ্যে রাতে হঠাৎ করে এমন একটি অগ্নিকাণ্ডের খবর আমরা পেয়ে খুবই ব্যথিত হই। পরের দিন সকালবেলা আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি এক করুন দৃশ্য।
আগুনে পুড়ে ব্যবসায়ীদের দোকানগুলো একেবারে ছাই হয়ে গিয়েছে। ব্যবসায়ীরা সব কিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেল। এমন পরিস্থিতি দেখে তাদেরকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষাটুকুও খুঁজে পাচ্ছিলাম না। তারপর এক এক করে প্রায় সব ব্যবসায়ীদের খবর নেই। কিভাবে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত সেটিও জানার চেষ্টা করি। এরপর আমি সাথে সাথে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করে তাদেরকে সর্বোচ্চ সহায়তার কথা বলি। এছাড়াও নিজের সাধ্যানুযায়ী সহায়তার আশ্বাস দেই।
পরবর্তীতে আমাদের স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের তালিকা করে সাধ্য অনুযায়ী উপহার হিসেবে সামান্য কিছু নগদ অর্থ সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি।
আল্লাহ যেন ক্ষতিগ্রস্ত এই ব্যবসায়ীদেরকে ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে ওঠার তৌফিক দান করেন।

নিজস্ব প্রতিনিধি