প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৫ । ৭:৪৮ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলব দক্ষিণে নকলের মহোৎসব, “দুই শিক্ষককে অব্যাহতি, একজনের কারাদন্ড”

মেহেদি হাসান রিমেল

হটাৎ ছোটাছুটি, দৌড়ে পালাচ্ছেন শিক্ষক-অভিভাবক। তালা লাগিয়ে পালাচ্ছেন দোকানি। এমন দৃশ্য দেখে অনেকেই বলাবলি করছেন মোবাইল চোর পালাচ্ছেন? প্রিয় দর্শক তাহলে দেখতে থাকুন সেই গল্পের রহস্য…।

প্রিয় চাঁদপুর টিমের কাছে অভিযোগ আসে, চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার একটি পরীক্ষা কেন্দ্রে চলছে নকলের উৎসব। ভালো ফলাফলের লোভে নকল সরবরাহ করে ছাত্র ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করছে বেশ কিছু অভিভাবকও। অভিযোগ, কুরআন হাদিসসহ প্রায় সব বিষয়ে নকল করে পরিক্ষা দেয় ওই কেন্দ্রের বেশ কিছু মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা। সত্যতা যাচাই করতে, গনিত পরিক্ষার দিন গিলাতলি ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে নজর রাখে টিম প্রিয় চাঁদপুর।

তথ্যের অনুসন্ধান করতে পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে ফটোকপির দোকানে প্রশ্ন এবং উত্তরসহ পাওয়া যায় কয়েকজন শিক্ষক ও অভিভাবকদের। আমাদের উপস্থিত টের পেয়ে ভোঁ দৌড় তাঁদের, যেন বার্ষিক দৌড় প্রতিযোগীতা চলছে। কে কার আগে দৌড়ে ফাস্ট হবে চলছে সেরকমই কিছু। এদিকে তালা লাগিয়ে সটকে পড়েন চালাক দোকানিও।

এদিকে আরেকটি সুত্র জানায়, পরিক্ষা শুরুর ১০ মিনিট পর কেন্দ্র থেকে মোটর সাইকেল নিয়ে বের হন মাদ্রাসার অফিস সহকারি গিয়াস উদ্দিন। ফিরে আসেন পলিথিনে মোড়ানো কিছু কাগজ নিয়ে। সেই কাগজ আসলে কি ছিলো? প্রথমে অস্বীকার করলেও প্রমান দেখানোর পর বদলে যায় কথার ধরন।

অফিস সহকারী বেআইনি ভাবে কেন্দ্র থেকে বের হওয়া এবং নকল সরবরাহের প্রমান দেখানোর পরেও মাদ্রাসা অধ্যক্ষের দাবি পরিক্ষা সুষ্ঠু হচ্ছে।

অনিয়মের তথ্য পেয়ে কেন্দ্র পরিদর্শনে এসে মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আমজাদ হোসেন জানান, কেন্দ্রে নকল সরবরাহ করার অভিযোগে ভ্রাম্যমান আদালতে অফিস সহায়ক গিয়াস উদ্দিন বকাউল কে দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে কেন্দ্র সচিব অধ্যক্ষ আবুল বাশার প্রধানীয়া ও হল সুপার কাচিয়ারা জামালিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এ, কে, এম ওয়ালিউল্যাহকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি, তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করার পাশাপাশি আবু সাঈদের ফটোকপির দোকানটিও সিলগালা করে বন্ধ করে দেন। সেসাথে আরো কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাসও দেন তিনি।

সচেতন অভিভাবকরা জানান, শুধু অফিস সহকারীকে গ্রেপ্তার করে বছরের পর বছর চলতে থাকা এই অনিয়ম বন্ধ করা সম্ভব নয়। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে নকল সরবরাহে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনার দাবি তাদের।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন