প্রকাশের সময়: সোমবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৫ । ১:৪৬ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

নতুন প্রজন্মের কাছে অ-পরিচিত ফসল ‘কাউন’

নিজস্ব প্রতিনিধি

সুস্বাদু একটি ফসলের নাম কাউন। এক সময় মানুষজন কাউন চাল রান্না করে বিভিন্ন রকমের পিঠা ,খীর, পায়েস , খিচুরী , মলাসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী তৈরি করতো। কিন্তু বর্তমান প্রজন্মের কাছে এ নামটি যেনো ইতিহাসের কোনো এক ফসলের নাম । বিজ্ঞানভিত্তিক কৃষি চাষ ও কৃষিতে অধিক ফলন কাউন চাষের প্রয়োজনীয়তা কৃষকদের নিরুৎসাহিত করেছে। সময়ের ক্রমাগত পরিবর্তন ও প্রযুক্তির উৎকর্ষে কাউনের চাষকে পেছনে ফেলে নিয়ে এসেছে বছরে তিন-চার ফসলি উৎপাদন। নতুন প্রজন্মের কাছে এর পরিচিতি ধরে রাখতে কাউন চাষের প্রতি মনোযোগ বাড়ানো দরকার বলে অনেক কৃষক মনে করছেন। স্বল্প খরচ, সহজ চাষ পদ্ধতি ও পানি সাশ্রয়ী হওয়ার সত্যেও গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা কাউন ফসলটি আজ চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে বিলুপ্তির পথে।

হাজীগঞ্জের রাজারগাঁও এলাকার কৃষক গণমাধ্যম কর্মী কৃষক আলমগীর কবির বলেন -এবার ২ শতক জমিতে কাউন চাষ করছি। এটি একটি পুরানো চাষ, চাষ করতে পানি ও সার কম লাগে। মানুষজন কাউনের ভাত,পায়েস ও মুড়ি খায়। কিন্তু এখন দিন দিন কাউন হারিয়ে যাচ্ছে। এখন খাওয়ার জন্য বাজারে কাউন খুঁজলেও পাওয়া যাচ্ছে না। একসময় সময় কাউন অনেক বেশি চাষ করা হলেও সময়ের সাথে কাউন চাষ হারিয়ে যাচ্ছে। কাউন চাষ যেমন লাভজনক,তেমনি কাউন পুষ্টি গুণে ভরপুর। এবার আমাদের প্রয়োজনীয় চাহিদা মিটানোর জন্য কাউন চাষ করছি। এবার পরীক্ষামূলক চাষ করছি।

এখনাকার বাচ্চারা কাউন কেমন তা চোখে দেখেই নাই। রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় বাচ্চারা তাকিয়ে থাকে, তারা জানেনা এটা কি ফসল। এলাকায় এবার চাষ করার ফলে নতুন প্রজন্ম জানতে পারে, এটা কাউন। এলাকা থেকে কাউনের চাষ প্রায় উঠেই যাচ্ছে বলে তিনি জানান। কৃষকরা জানান, দেশী জাতের এ ফসলটিকে আমাদের স্বার্থেই সংরক্ষণ করা উচিত। তা না হলে পরবর্তী প্রজন্ম জানতেই পারবে না কাউন নামটি। কাউন নামের এ ফসলটি যাতে বিলুপ্ত হয়ে না যায় এ জন্য সবার এগিয়ে আসা উচিত বলে এলাকাবাসী মনে করছেন। তিনি কাউনের সাথে সাথি ফসল হিসেবে একউ বাদাম চাষ করছেন।

আলমগীর কবির পেশায় একজন গণমাধ্যমকর্মী হলেও পাশাপাশি তিনি একজন সফল কৃষকও। প্রতি বছর তিনি কুমড়া, লাউ,বরবটি, টমেটো,সিম, ডাল, মিষ্টি আলু, গোল আলু, ভুট্টা, ধুন্দল, সসিন্দা চাষ করেছেন। আগামীতে তিনি তিল, তিসি, মুগডাল, গম ও সরিষা করার কথা ভাবছেন বলে জানান।

এবিষয়ে হাজীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দিলরুবা খানম বলেন, কাউন এখন অভিজাত ফসল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তাছাড়া ফলন কম হওয়ায় কৃষকরা কাউন চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলায় কৃষি অফিসে এ বিষয়ে তথ্য নেই বলেও জানান তিনি। দেশে এখন দানার শস্য বোরো ধান, ভুট্টা,গম সহ বিভিন্ন ফসস লাভজনক ভাবে চাষ হ‌ওয়ায়, কৃষকেরা অধিক লাভের আশায় কাউন এর পরিবর্তনে এসব ফসল চাষ করছে।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন