চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে মাদক সেবনে বাঁধা দেওয়ায় অর্তকিত হামলা চালিয়ে এক ব্যবসায়ীকে আহত করেছে কিশোর গ্যাং সদস্যরা। গত সোমবার (১৯ মে-২০২৫) রাতে উপজেলার নারায়ণপুর পশ্চিম বাজারে কালিবাড়ির রাস্তায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলার শিকার ব্যবসায়ীর নাম আব্দুল্লাহিল কাফি (৫০)। সে নারায়ণপুর বাজারে আল আরাফা ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট শাখার স্বত্ত্বাধিকারি। এ ঘটনায় আহত ব্যবসায়ী বাদী হয়ে মতলব দক্ষিণ থানায় একটি এজহার করেছেন। এজহারের পর অভিযান চালিয়ে হামলার সাথে জড়িত দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মতলব দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সালেহ্ আহাম্মদ।
প্রত্যক্ষদর্শী ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নারায়ণপুর বাজারের “আল আরাফা ইসলামী ব্যাংক” এর এজেন্ট শাখার স্বত্ত্বাধিকারি আব্দুল্লাহিল কাফি সোমবার রাত ১০টার দিকে এজেন্ট ব্যাংক থেকে বাসায় যাওয়ার পথে নারায়ণপুর কালিবাড়ির রাস্তায় পৌঁছালে অজ্ঞাতনামা কয়েকজন কিশোর গ্যাং সদস্যদের নিয়ে উপজেলার ঘিলাতলী এলাকার মাঈনউদ্দিনের ছেলে শাকিল, একই এলাকার রাকিব ও মাছুয়াখাল এলাকার মজিবুর রহমানের ছেলে নাহিদ মাদক সেবন করছিল।
এ সময় আব্দুল্লাহিল কাফি তাদেরকে মাদক সেবন করতে বাঁধা দেয়। মাদক সেবনে বাঁধা দেওয়ায় মজিবুর রহমান, মাঈন উদ্দিন, শাকিল, রাকিব ও নাহিদসহ অজ্ঞাত কিশোর গ্যাং সদস্যরা ক্ষিপ্ত হয়ে কাফির উপর অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলা চালায়। এসময় আব্দুল্লাহিল কাফিকে লোহার রড দিয়ে এলোপাথারি পিঠিয়ে ও ধারালো ছুড়ি দিয়ে আঘাত করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক রক্তাত্ত জখম করে হামলাকারিরা।
এ সময় আব্দুল্লাহিল কাফির ডাক-চিৎকারে তার স্ত্রী রাবেয়া আক্তারসহ আশপাশের দোকানদাররা এগিয়ে আসলে হামলাকারিরা দৌড়ে পালিয়ে যায়। হামলার সময় কাফির ব্যাগে থাকা এজেন্ট ব্যাংকের মূল্যবান কাগজপত্র ও নগদ ২ লক্ষ ৮০ আশি হাজার টাকা ছিনিয়া নিয়ে যায় হামলাকারীরা। পরে আব্দুল্লাহিল কাফিকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তার অবস্থা বেগতিক দেখে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি চাঁদপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
হামলার শিকার আব্দুল্লাহিল কাফি বলেন, কিশোর গ্যাং সদস্যদের মাদক সেবনে বাঁধা দেওয়ায় তারা আমার উপর অতর্কিত হামলা হামলা করেছে। তারা প্রতিদিন কালিবাড়ির রাস্তায় আড্ডা দেয়। এসময় তারা মেয়েদের ইভটিজিং করে এবং রাত হলে মাদক সেবন করে। এই মাদক সেবনে বাঁধা দেওয়ায় আমার উপর সন্ত্রাসী হামলা করে তারা।
অভিযুক্ত মাঈন উদ্দিন জানান, কাফি প্রথমে ঘটনাস্থলে কয়েকজনকে গালাগালি করে। পরে তাদের সাথে মারামারির ঘটনা ঘটে। আমি মারামারি থামানোর চেষ্টা করেছি। অপর অভিযুক্ত নাহিদ বলেন, আমি খাওয়ার পানি আনতে গিয়েছিলাম। কিন্তু কাফি কাকা আমাকেও মারধর করে।
স্থানীয় এলাকাবাসি জানান, নারায়ণপুর কালিবাড়ির এই রাস্তাটিতে প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর পযর্ন্ত কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের আড্ডা চলে। এসময় তারা স্কুল-কলেজগামী ছাত্রীদের বিভিন্নভাবে ইভটিজিংসহ মাদক সেবন করে। তাদের ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করে না। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন যেন কিশোর গ্যাংদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
মতলব দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ সালেহ্ আহাম্মদ বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। দুইজনকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিনিধি