প্রকাশের সময়: সোমবার, ২৬ মে, ২০২৫ । ১১:৩৬ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

এক হাতে ভর করে সংসার চলে আজগরের

মো. রাছেল, নিজস্ব প্রতিনিধি

জীবনযুদ্ধে হার না মানা এক যোদ্ধা মোঃ আজগর (২৮)। ২০ বছর আগে ইটভাটায় এক দুর্ঘটনায় আজগর হারিয়ে ফেলেন তার ডান হাতটি। পুরো পরিবার এখন নির্ভরশীল তার এক হাতের ওপর।

২ মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে আজগরের সংসার। তার আয়ে কোনোরকম চলছে পরিবারটি। এলাকায় কাজ না থাকলেও বর্তমানে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার বাঁচাইয়া মেসার্স এসএবি বিকস ফিল্ডে শ্রমিকের কাজ করের তিনি। ওই ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করে যে টাকা উপার্জন করেন, তা দিয়ে চলে পরিবারটি।

জানা যায়, এক হাত না থাকলেও জীবন সংগ্রামে ঠিকে থাকার প্রত্যয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। কোনো ভিক্ষাবৃত্তি না করে আত্মনির্ভরশীল হতে কাজ করছেন সে। তবে এমন বাস্তবতায় তিনি থেমে থাকেননি। এক হাত নিয়েই ধরেন সংসারের হাল। যদিও আগের চেয়ে তার উপার্জন কমেছে, তবুও পরিবারকে বাঁচাতে দিন রাত পরিশ্রম করে চলছেন আজগর। আজগর নোয়াখালী জেলার সুবর্নচর উপজেলার চররশিদ গ্রামের অধিবাসী আব্দুল মালেকের ছেলে। বর্তমানে সে কচুয়ার বাচাঁইয়া ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করছেন।

শ্রমিক মো. আজগর বলেন, আমার জায়গা জমি বলতে ভিটেমাটি ছাড়া কিছুই নেই। ২০০৫ সালে ইটভাটায় কাজ করতে গিয়ে দূর্ঘটনায় আমার ডান হাতটি নষ্ট হয়ে কাটা পড়ে। আমি এই এক হাত দিয়ে ইটভাটায় মাটি কাটা, ইট সারিবদ্ধ সহ বিভিন্ন কাজ করে থাকি। তবে আমার এক হাত নেই বলে আগের মতো কেউ আর কাজে নিতে চায় না। শরীরে যতক্ষণ দম আছে এক হাতেই কাজ করে যাব, তবুও ভিক্ষার মতো নিচু কাজ করব না।

অন্য শ্রমিকরা বলেন, আজগর ও তার পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। এক হাতের ওপর চলছে পুরো সংসার। মেয়ে ও পরিবারের খরচ যোগান দিতে না পারায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।

এ বিষয়ে মের্সাস এসএবি বিকস্ এর পরিচালক মো. এমরান হোসেন জনি জানান, এ ইটভাটায় প্রায় শতাধিক শ্রমিক কাজ করে। কেউ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসেন। তারই মধ্যে আজগর তার এক হাত নেই, তবুও তিনি কাজ করে যাচ্ছেন।

তার মতো অন্যরা এভাবে কাজ করলেও হয়তো ভিক্ষাবৃত্তি রোধ করা যেত। আজগর অনেক মানুষের অনুপ্রেরনা।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন